মুসনাদে আহমদ- ইমাম আহমদ রহঃ (আল-ফাতহুর রব্বানী)

আল-কুরআন এর ফযীলত, তাফসীর ও শানে নুযূল অধ্যায়

হাদীস নং: ১৯৬
আল-কুরআন এর ফযীলত, তাফসীর ও শানে নুযূল অধ্যায়
পরিচ্ছেদ: আয়াতুল কুরসীর ফযীলত
১৯৬। আসমা বিন্‌ত ইয়াযীদ (রা) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) কে বলতে শুনেছি, "আল্লাহ, তিনি ব্যতীত কোন ইলাহ নাই। তিনি চিরঞ্জীব, সর্বসত্তার ধারক,(১) ও "আলিফ-লাম- মীম, আল্লাহ ব্যতীত অন্য কোন ইলাহ নাই, তিনি চিরঞ্জীব, সর্বসত্তার ধারক""(২) আয়াত দু'খানায় আল্লাহর শ্রেষ্ঠতম নাম রয়েছে।
টিকা:
১. আল-কুরআন, ২: ২৫৫।
২. আল-কুরআন, ৩: ১-২।
كتاب فضائل القرآن وتفسيره وأسباب نزوله
باب ما جاء في فضل آية الكرسي
عن أسماء بنت يزيد قال سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول في هاتين الآيتين (الله لا إله إلا هو الحي القيوم، والم الله لا إله إلا هو الحي القيوم) ان فيهما اسم الله الأعظم

হাদীসের ব্যাখ্যা:

বিভিন্ন হাদীস গভীর মনোনিবেশ সহকারে পাঠ করলে স্পষ্ট প্রতীয়মান হয় যে, আল্লাহ তা'আলার বিশেষ কোন নামকে ইসমে আ'যম বলা হয়নি; বরং এ কথাই অধিকতর যুক্তিসঙ্গত মনে হয় যে, আল্লাহর বিভিন্ন নাম যে বিশেষ ভঙ্গিতে উল্লেখ করা হয়েছে, তাতে তাঁর যে ব্যাপক মর্ম বুঝে আসে, তাকেই ইসমে আ'যম বলে অভিহিত করা হয়েছে।

হযরত শাহ ওয়ালীউল্লাহ্ মুহাদ্দিসে দেহলভী (রহ)-কে আল্লাহ তা'আলা এ জাতীয় ইলম ও মা'রিফত বিশেষ দান করেছেন। তিনি এসব হাদীস পাঠে এ সিদ্ধান্তেই উপনীত হয়েছেন।১ আল্লাহই সর্বজ্ঞ।

টিকা ১. শাহ সাহেব হুজ্জাতুল্লাহিল বালিগায় বলেনঃ (পৃ ৭৭, জিলদ ২)

اعلم أن الاسم الاعظم الذي اذا سئل به اعطى واذا دعي به أجاب هو الاسم الذي يدل على اجمع تدل من تدليات الحق والذى تداوله الملأ الأعلى اكثر تداول ونطقت به التراجمة في كل عصر وهذا معنى يصدق على انت اللّٰه لا اله الا انت الاحد الصمد الذي لم يلد ولم يولد ولم يكن له كفوا أحد وعلى لك الحمد لا اله الا انت الحنان المنان بديع السموات والارض يا ذا الجلال والإكرام يا حي يا قيوم ويصدق على اسماء تضاهي ذلك (حجة اللّٰه البالغة ص ٧٧ جلد (٦)

স্মরণ রাখতে হবে যে, ইসমে আ'যম এমন নাম, যে নামের সাহায্যে যাচ্ঞা করা হলে দেয়া হয়, দু'আ করা হলে তা কবুল হয়। তা এমন নাম যা আল্লাহ তা'আলার নৈকট্য লাভের সবচেয়ে ব্যাপক উপায় বুঝায় এবং ঊর্ধ্ব মন্ডলে এ নামকে সবচেয়ে বেশি স্মরণ করা হয় এবং সকল যুগে (অদৃশ্য লোকের) বার্তা বাহকরা তা উচ্চারণ করে এসেছে।
أنْتَ اللّٰهُ لَا إِلَهَ إِلَّا أَنْتَ الْأَحَدُ الصَّمَدُ الَّذِي لَمْ يَلِدْ وَلَمْ يُولَدْ وَلَمْ يَكُنْ لَهُ كُفُوًا أَحَدٌ
-তুমি আল্লাহ, তুমি ছাড়া কোন ইলাহ নেই, তুমি একক ও অমুখাপেক্ষী, যিনি কাউকে জন্ম দেননি এবং তাঁকেও কেউ জন্ম দেয়নি এবং কেউ তাঁর সমকক্ষও নেই-এ অর্থ ইসমে আযম সম্পর্কে প্রযোজ্য হয়।
لَكَ الْحَمْدُ لَا إِلَهَ إِلَّا أَنْتَ الْحَنَّانُ الْمَنَّانُ بَدِيعُ السَّمٰوٰتِ وَالْأَرْضِ يَا ذَا الْجَلالِ وَالْإِكْرَامِ يَا حَيُّ يَا قَيُّومُ.
সমস্ত প্রশংসা তোমারই প্রাপ্য, তুমি ছাড়া কোন ইলাহ নেই। তুমিই তো হান্নান, মান্নান, তুমিই দয়াময় ও অনুগ্রহশীল, আসমান-যমীনের সৃষ্টিকর্তা, হে জালাল ও ইকরামের অধিকারী, হে হাই ও কাইয়্যুম হে চিরঞ্জীব ও সবকিছুর রক্ষক। এ সব নামের সঙ্গে সামঞ্জস্যশীল অন্যান্য নামের ক্ষেত্রেও আসমাউল হুসনা প্রযোজ্য। -(হুজ্জাতুল্লাহ আল-বালিগাহ, দ্বিতীয় খন্ড, পৃষ্ঠা ৭৭)
ব্যাখ্যা সূত্রঃ_ মা'আরিফুল হাদীস (মাওলানা মনযূর নোমানী রহ.)
tahqiqতাহকীক:তাহকীক চলমান