মুসনাদে আহমদ- ইমাম আহমদ রহঃ (আল-ফাতহুর রব্বানী)
পোশাক-পরিচ্ছেদ ও সাজ-সজ্জা
হাদীস নং: ১৯৫
পোশাক-পরিচ্ছেদ ও সাজ-সজ্জা
খ্যাতি অর্জনের উদ্দেশ্যে এবং টাখনুর নীচে ঝুলিয়ে পরা নিষিদ্ধ এবং এরূপ কাজের প্রতি কঠোরবাণী।
১৯৫। হুমায়দ ইবন হিলাল (র) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমাকে আবু কাতাদা (র) উবাদা কুরস অথবা কুরত (রা) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, সম্প্রতি তোমরা এমন কিছু কাজ করছ যা তোমাদের চোখে চুল অপেক্ষা অধিক সূক্ষ্ম। অথচ রাসূলুল্লাহ (ﷺ) -এর যুগে আমরা এগুলোকে ধ্বংসাত্মক মনে করতাম। (বর্ণনাকারী বলেন,) আমি আবু কাতাদা (র)-কে বললাম, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) যদি আমাদের যামানা পেতেন তবে কী অবস্থা হতো? তিনি বললেন, তা হলে তিনি এরচেয়ে আরো অধিক কঠোরবাণী উচ্চারণ করতেন।
দ্বিতীয় সূত্রে তার থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, উবাদা ইবন কুরত (রা) বলেছেন, সম্প্রতি তোমরা এমন কিছু কাজ করছ যা তোমাদের চোখে চুল অপেক্ষা অধিক সূক্ষ্ম। অথচ (ﷺ) রাসূলুল্লাহর (ﷺ) -এর যুগে আমরা এগুলোকে ধ্বংসাত্মক মনে করতাম। বর্ণনাকারী বলেন, লোকেরা এ কথাটিকে মুহাম্মাদ (ইবন সীরীন)-এর নিকট আলোচনা করলে তিনি বললেন, তিনি সত্য বলেছেন এবং আমি ইযার ঝুলিয়ে পরাকে এর অন্তর্ভুক্ত মনে করি।
(হাদীসটি অন্যত্র পাওয়া যায় নি। এর বর্ণনাকারীগণ নির্ভরযোগ্য।)
দ্বিতীয় সূত্রে তার থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, উবাদা ইবন কুরত (রা) বলেছেন, সম্প্রতি তোমরা এমন কিছু কাজ করছ যা তোমাদের চোখে চুল অপেক্ষা অধিক সূক্ষ্ম। অথচ (ﷺ) রাসূলুল্লাহর (ﷺ) -এর যুগে আমরা এগুলোকে ধ্বংসাত্মক মনে করতাম। বর্ণনাকারী বলেন, লোকেরা এ কথাটিকে মুহাম্মাদ (ইবন সীরীন)-এর নিকট আলোচনা করলে তিনি বললেন, তিনি সত্য বলেছেন এবং আমি ইযার ঝুলিয়ে পরাকে এর অন্তর্ভুক্ত মনে করি।
(হাদীসটি অন্যত্র পাওয়া যায় নি। এর বর্ণনাকারীগণ নির্ভরযোগ্য।)
كتاب اللباس والزنية
باب النهى عن الشهرة والإسبال ووعيد من فعل ذلك
195- عن حميد بن هلال ثنا أبو قتادة عن عبادة بن قرص أو قرط انكم لتعملون اليوم أعمالا هيلا أدق فى أعينكم من الشعر كنا نعدها على عهد رسول الله صلى الله عليه وسلم من الوبقات، فقلت لأبى قتادة لكيف لو أدرك زماننا هذا؟ فقال أبو قتادة لكان لذلك أقول (وعنه من طريق ثان) قال قال عبادة بن قرط انكم تأتون أشياء هى أدق فى أعينكم من الشعر كنا نعدها على عهد رسول الله صلى الله عليه وسلم الموبقات قال فذكر ولمحمد قال فقال صدق أرى جر الإزار منه
হাদীসের ব্যাখ্যা:
আল্লাহর অবাধ্যতার নাম হল অপরাধ। স্বেচ্ছায় ও সজ্ঞানে আল্লাহর হুকুমের সামান্যতম খেলাফ করাকে দূষণীয় মনে না করা খুব দূষণীয় কাজ। ছোট ছোট গুনাহ, যার প্রতি কোন গুরুত্ব আরোপ করা হয় না, তা একত্র করা হলে বড় গুনাহর মত হয়ে যেতে পারে। আল্লাহ রাব্বুল আলামীন ছোট-বড় সকল গুনাহ সম্পর্কে মানুষ ও জিন্নকে জিজ্ঞাসাবাদ করবেন। আল্লাহ তা'আলা দয়া পরবশ হয়ে সেগুলো মাফ না করে দিলে ছোট অপরাধের অপরাধীও শাস্তি থেকে রেহাই পাবে না। সাহাবায়ে কিরামের ঈমানী শক্তি খুব বেশি ছিল এবং সাচ্চা মু'মিন হিসেবে কখনো তাঁরা ছোট অপরাধকে নগণ্য মনে করতেন না। আল্লাহর হুকুমের সামান্যতম বিপরীত কাজ করাকে দুনিয়া ও আখিরাতের ধ্বংসকারী কাজ গণ্য করে তারা কাজ করার সময় বিচার-বিবেচনার আশ্রয় নিতেন এবং আল্লাহর অসন্তুষ্ট হওয়ার মত কাজ পরিত্যাগ করতে সচেষ্ট থাকতেন। বস্তুত পাপের প্রতি এ ধরনের মনোভাব তখনই জন্মাতে পারে যখন প্রকৃতপক্ষে আখিরাতে বিশ্বাসী হয় এবং তার দৃঢ় প্রত্যয় থাকে যে, মৃত্যুর পর আল্লাহর দরবারে তার দুনিয়ার জীবনের হিসাব দিতে হবে। হাদীসে বর্ণিত দুটি শব্দ 'মুবিকাত' (পাপ, অপরাধ, অবাধ্যতা) এবং 'মুহলিকাত' (ধ্বংসকারী) খুবই তাৎপর্যপূর্ণ। সাহাবায়ে কিরাম (রা) পাপকে ক্ষতিকারক ও ধ্বংসকারী মনে করতেন। তাই হাদীসে এই দুটো শব্দ ব্যবহার করা হয়েছে। এ থেকে পরিষ্কার বুঝা যায়, সাহাবায়ে কিরাম (রা) পাপ সম্পর্কে কিরূপ চিন্তা-ভাবনা করতেন। আল্লাহ আমাদের ছোট-বড় সকল গুনাহ থেকে বাঁচার তওফিক দিন।
ব্যাখ্যা সূত্রঃ_ মা'আরিফুল হাদীস (মাওলানা মনযূর নোমানী রহ.)