মুসনাদে আহমদ- ইমাম আহমদ রহঃ (আল-ফাতহুর রব্বানী)
সর্বশ্রেষ্ঠ নবী ও সর্বশেষ রাসূল মুহাম্মদ ইব্ন আব্দুল্লাহ (ﷺ)-এর জীবনচরিত অধ্যায়
হাদীস নং: ২৯৬
সর্বশ্রেষ্ঠ নবী ও সর্বশেষ রাসূল মুহাম্মদ ইব্ন আব্দুল্লাহ (ﷺ)-এর জীবনচরিত অধ্যায়
পরিচ্ছেদ : যায়নাব বিন্তে জাহাশের সাথে রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর বিয়ে এবং পর্দার আয়াত নাযিল হওয়া
২৯৬. হিশাম, সুলায়মান ইবন মুগীরা ও ছাবিত হযরত আনাস ইবন মালিক (রা) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেছেন যে, যখন যায়নাব (রা) এর ইদ্দত পালন শেষ হল। তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) যায়দকে বললেন তুমি যয়নাবের নিকট যাও এবং তাকে আমার বিয়ের প্রস্তাব দাও। যায়দ সেখানে গেলেন। যায়নাব তখন আটার মণ্ড তৈরি করছিলেন। যায়দ বলেন তাকে দেখে আমার মনে ভয় সৃষ্টি হল আমি তার দিকে তাকাতে পারছিলাম না কারণ রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তাকে বিয়ের প্রস্তাব দিয়েছেন সে তাঁর স্ত্রী হবে। আমি তার উল্টো দিকে মুখ করে উল্টো হেঁটে তার দিকে যাচ্ছিলাম। আমি বললাম যায়নাব। তুমি সুসংবাদ গ্রহণ কর, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তোমাকে বিয়ের প্রস্তাব বার্তা দিয়ে পাঠিয়েছেন। সে বলল আমার প্রতিপালক আল্লাহ তা'আলার সাথে পরামর্শ না করে আমি কিছু বলব না। অতঃপর সে তার জায়নামাযে দাঁড়াল। ইত্যবসরে কুরআনের আয়াত নাযিল হল। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) সরাসরি এসে উপস্থিত হলেন এবং অনুমতি ছাড়াই যায়নাবের নিকট চলে গেলেন। হযরত আনাস (রা) বলেন আমি দেখেছি যে, এ উপলক্ষে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আমাদেরকে রুটি ও গোশত খাইয়েছেন। হাশিমের বর্ণনায় এ কথাটুকু আছে যে, যায়দ বলেছেন যখন আমি বুঝলাম যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তাকে প্রস্তাব দিয়েছেন। হাশিম তার বর্ণনায় এও উল্লেখ করেছেন যে, হযরত আনাস (রা) বলেছেন আমি দেখেছি যে, যায়নাব ও রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর বাসরের পর তিনি আমাদেরকে রুটি ও গোশত খাইয়েছেন। খাওয়া-দাওয়া শেষে লোকজন চলে গিয়েছিল। কিন্তু কয়েকজন তখনও রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর হুজরায় বসে গল্পগুজব করছিল। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) হুজরা থেকে বের হয়ে তাঁর অন্যান্য সহধর্মিনীদের কক্ষের দিকে গেলেন। আমি তাঁর পেছনে ছিলাম। তিনি সহধর্মিনীদেরকে সালাম দিচ্ছিলেন আর তাঁরা বলছিলেন ইয়া রাসূলাল্লাহ! আপনার নতুন স্ত্রীকে কেমন পেলেন? আনাস (রা) বলেন আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) কে জানালাম নাকি তিনি অন্যসূত্রে জানলেন যে, অবশিষ্ট লোকজন চলে গিয়েছে তা আমি এখন ঠিক বলতে পারছি না। যা হোক ওদের চলে যাবার বিষয়টি অবগত হবার পর তিনি তাঁর কক্ষের দিকে গেলেন এবং ভেতরে প্রবেশ করলেন। আমি তাঁর সাথে ভেতরে প্রবেশ করতে গেলাম কিন্তু তিনি আমার মাঝে ও তাঁর মাঝে পর্দা ঝুলিয়ে দিলেন এবং পর্দার আয়াত নাযিল হল এবং আয়াতের মাধ্যমে লোকজনকে যা নসীহত করার করা হল। হাশিম তাঁর বর্ণনায় আয়াতটি উল্লেখ করেছেন যে,
لَا تَدْخُلُوا بُيُوتَ النَّبِيِّ إِلَّا أَنْ ن يُؤْذَنَ لَكُمْ إِلَى طَعَامٍ غَيْرَ نَاظِرِينَ إِنَاهُ إِنَاهُ وَلَكِنْ إِذَا دُعِيْتُمْ فَادْخُلُوا فَإِذَا طَعِمْتُمْ فَانْتَشِرُوا وَلَا مُسْتَأْنِسِينَ لِحَدِيثٍ إِنَّ ذَلِكُمْ كَانَ يُؤْذِي لنَّبِيَّ فَيَسْتَحْيِي مِنْكُمْ وَاللَّهُ لَا يَسْتَحْيِي مِنَ الحق
অর্থাৎ, হে মুমিনগণ! তোমাদেরকে অনুমতি দেয়া না হলে তোমরা আহার্য প্রস্তুতির জন্যে অপেক্ষা না করে ভোজনের জন্যে নবী-গৃহে প্রবেশ করো না। তবে তোমাদেরকে আহ্বান করলে তোমরা প্রবেশ করবে এবং ভোজন শেষে চলে যাবে। তোমরা কথাবার্তায় মশগুল হয়ে পড়ো না, কারণ তোমাদের এই আচরণ নবীকে পীড়া দেয়, তিনি তোমাদেরকে উঠিয়ে দিতে সংকোচ বোধ করেন। কিন্তু আল্লাহ্ সত্য বলতে সংকোচ বোধ করেন না। (সূরা আহযাবঃ ৫৩)।
لَا تَدْخُلُوا بُيُوتَ النَّبِيِّ إِلَّا أَنْ ن يُؤْذَنَ لَكُمْ إِلَى طَعَامٍ غَيْرَ نَاظِرِينَ إِنَاهُ إِنَاهُ وَلَكِنْ إِذَا دُعِيْتُمْ فَادْخُلُوا فَإِذَا طَعِمْتُمْ فَانْتَشِرُوا وَلَا مُسْتَأْنِسِينَ لِحَدِيثٍ إِنَّ ذَلِكُمْ كَانَ يُؤْذِي لنَّبِيَّ فَيَسْتَحْيِي مِنْكُمْ وَاللَّهُ لَا يَسْتَحْيِي مِنَ الحق
অর্থাৎ, হে মুমিনগণ! তোমাদেরকে অনুমতি দেয়া না হলে তোমরা আহার্য প্রস্তুতির জন্যে অপেক্ষা না করে ভোজনের জন্যে নবী-গৃহে প্রবেশ করো না। তবে তোমাদেরকে আহ্বান করলে তোমরা প্রবেশ করবে এবং ভোজন শেষে চলে যাবে। তোমরা কথাবার্তায় মশগুল হয়ে পড়ো না, কারণ তোমাদের এই আচরণ নবীকে পীড়া দেয়, তিনি তোমাদেরকে উঠিয়ে দিতে সংকোচ বোধ করেন। কিন্তু আল্লাহ্ সত্য বলতে সংকোচ বোধ করেন না। (সূরা আহযাবঃ ৫৩)।
كتاب سيرة أول النبيين وخاتم المرسلين نبينا محمد بن عبد الله صلى الله عليه وسلم
باب ما جاء في زواجه - صلى الله عليه وسلم - بزينب بنت جحش رضي الله عنها ونزول آية الحجاب
حدثنا بهز (1) وحدثنا هاشم قال ثنا سليمان بن المغيرة عن ثابت عن أنس بن مالك رضي الله تبارك وتعالي عنه قال لما انقضت عدة زنيب رضي الله عنها قال رسول الله صلي الله عليه وسلم لزيد اذهب فاذكرها علي (2) قال فانطلق حتي أتاها قال وهي تخمر عجينها فلما رأيتها عظمت في صدري حتي ما أستطيع أن أنظر إليها (3) أن رسول الله - صلى الله عليه وسلم - ذكرها فوليتها ظهري ونكصت علي عقبي فقلت يا زينب أبشري أرسلني رسول الله - صلى الله عليه وسلم - يذكرك قالت ما أنا بصانعة شيئا حتي أؤامر ربي عز وجل، فقامت إلي مسجدها (4) ونزل يعني القرآن وجاء رسول الله - صلى الله عليه وسلم - فدخل عليها بغير إذن (5) قال ولقد رأيتنا أن رسول الله - صلى الله عليه وسلم - أطعمنا الخبز واللحم قال هاشم حين عرفت أن النبي - صلى الله عليه وسلم - خطبها (6) قال هاشم في حديثه لقد رأيتنا (7) حين ادخلت علي رسول الله - صلى الله عليه وسلم - اطعمنا الخبز واللحم، فخرج الناس وبقي رجال يتحدثون في البيت بعد الطعام، فخرج رسول الله - صلى الله عليه وسلم - واتبعته فجعل يتتبع حجر نسائه فجعل يسلم عليهن ويقلن يا رسول الله كيف وجدت أهلك (8) قال فما أدري أنا اخبرته أن القوم خرجوا أو أخبر قال فانطلق حتي دخل البيت فذهبت أدخل معه فالقي الستر بيني وبينه ونزل الحجاب (9) قال ووعظ القوم بما وعظوا به قال هاشم في حديثه (لا تدخلوا بيوت النبي إلا أن يؤذن لكم إلي طعام غير ناظرين إناه ولكن إذا دعيتم فادخلوا: فاذا طعمتم فانتشروا ولا مستأنسين لحديث: ان ذلكم كان يؤذي النبي فيستحي منكم والله لا يستحي من الحق)