মুসনাদে আহমদ- ইমাম আহমদ রহঃ (আল-ফাতহুর রব্বানী)

সর্বশ্রেষ্ঠ নবী ও সর্বশেষ রাসূল মুহাম্মদ ইব্‌ন আব্দুল্লাহ (ﷺ)-এর জীবনচরিত অধ্যায়

হাদীস নং: ২২১
সর্বশ্রেষ্ঠ নবী ও সর্বশেষ রাসূল মুহাম্মদ ইব্‌ন আব্দুল্লাহ (ﷺ)-এর জীবনচরিত অধ্যায়
পরিচ্ছেদ: যুদ্ধে উৎসাহ প্রদান ও তার প্রেক্ষাপট
২২১. হযরত আলী (রা) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন, আমরা যখন হিজরত করে মদীনায় আসি, তখন সেখানকার আবহাওয়া আমাদের প্রতিকূল পাই। আমরা জ্বরে আক্রান্ত হই। সে সময়ে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বদর প্রান্তরের পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করতেন। মুশরিকগণ এগিয়ে আসছে এসব জানার পর রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বদর প্রান্তরের দিকে যাত্রা করলেন। বদর হল একটি কূপের নাম। মুশরিকদের পূর্বে আমরা সেখানে পৌঁছে গেলাম। সেখানে আমরা দুজন লোকের সাক্ষাত পেলাম। একজন কুরায়শ বংশোদ্ভূত অন্যজন উকবা ইব্‌ন আবূ মুঈতের ক্রীতদাস। আমাদের দেখে কুরায়শী লোকটি চুপিসারে পালিয়ে যায়। উকবার দাসটিকে আমরা ধরে ফেলি। আমরা তার কাছে জানতে চাইলাম যে, মুশরিকদের দলে লোকসংখ্যা কত? সে বলল, আল্লাহর কসম তারা সংখ্যায় অধিক। তাদের শক্তি ও যুদ্ধপ্রস্তুতি রয়েছে পূর্ণমাত্রায়। সরাসরি উত্তর না পেয়ে মুসলমানগণ তাকে পিটিয়ে পিটিয়ে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর নিকট নিয়ে যায়। তিনি তাকে ওদের লোকসংখ্যা কত তা জিজ্ঞেস করলেন। সে বলল, তাদের সংখ্যা অনেক। তাদের শক্তি ও প্রস্তুতি জোরালো। স্পষ্টভাবে ওদের সংখ্যা জানার জন্যে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) যথাসাধ্য চেষ্টা করলেন। সে তা জানাতে অস্বীকার করে। এবার রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন যে, ওরা খাবারের জন্যে কতটি উট জবাই করে? সে বলল প্রতিদিন দশটি করে উট জবাই করে। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) হিসেব করে বললেন যে, তাহলে ওদের সংখ্যা এক হাজার। প্রতি শত মানুষের জন্যে একটি করে উট। সে রাতে আমাদের উপর হালকা বৃষ্টিপাত হল। আমরা বৃক্ষতলায় ও ঢালের নীচে আশ্রয় নিলাম। রাতভর রাসূলুল্লাহ (ﷺ) দু'আ মুনাজাতে লিপ্ত থাকলেন। তিনি বলছিলেন হে আল্লাহ্! মুসলমানদের এই সেনাদল যদি ধ্বংস হয় তাহলে এই ধরাতে আপনার আর ইবাদত বন্দেগী হবে না। ফজরের নামাযের সময় হবার পর তিনি ডেকে বললেন ওহে আল্লাহর বান্দাগণ, নামাযের জন্য আস। মুসলমানগণ বৃক্ষতলা এবং ঢালের নীচ থেকে বেরিয়ে এল। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আমদেরকে নিয়ে সালাত আদায় করলেন এবং যুদ্ধের প্রতি উৎসাহিত করলেন। তিনি বললেন মুশরিক কুরায়শ সৈন্যগণ এই লাল পাহাড়ের নীচে আছে। একপর্যায়ে ওরা এগিয়ে এল। আমরা সারিবদ্ধ হলাম। একজন লোক বা লাল উটে চড়ে লোকজনের মাঝে চক্কর দিচ্ছিল। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, ওহে আলী! হামযাকে আমার নিকট ডেকে নিয়ে আস। হযরত হামযা মুশরিকদের অধিকতর নিকটাত্মীয় ছিলেন। তাঁকে ডেকে পাঠালেন এটা জানার জন্য যে, উষ্ট্রারোহী লোকটি কে এবং সে কি বলছে? রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, শত্রুপক্ষের মধ্যে যদি কোন কল্যাণকামী লোক থাকে তাহলে ওই লাল উষ্ট্রারোহীই হবে। হযরত হামযা (রা) এলেন এবং বললেন ওই লোক হল উতবাহ ইব্‌ন্ন রাবীআহ, সে ওদেরকে যুদ্ধে বারণ করছে, নিবৃত্ত করছে। সে ওদেরকে বলছে, হে আমার সম্প্রদায়! আমি বিপরীত পথে নিরাপত্তা প্রাপ্ত লোকজন দেখছি, তোমরা ভালোয় ভালোয় ওদের কাছে পৌছতে পারবে না। হে আমার সম্প্রদায়, তোমাদের জন্যে উত্তম হল আমার পরামর্শে তোমরা পেছনে সরে যাও আর বলতে থাক যে, উতবাহ্ ইবন রাবীআহ কাপুরুষ হয়ে গিয়েছে। মূলতঃ তোমাদের জানা আছে যে, আমি তোমাদের মধ্যে কাপুরুষ নই। আবু জাহল তার বক্তব্য শুনল। সে বলল, আপনি এমন কথা বলে যাচ্ছেন? আপনি ছাড়া অন্য কেউ এমন কথা বললে আমি তাকে দাঁতে কামড়িয়ে শেষ করে দিতাম। আপনার অপ্রস্তুতি আপনার পেটে ভয় ঢুকিয়ে দিযেছে। উতবা বলল ওহে হলুদ নিতম্বের লোক। তুমি আমাকে তিরস্কার করছ? আজ বুঝতে পারবে আমাদের মধ্যে কোন ব্যক্তি দুর্বল ও কাপুরুষ। এরপর উতবাহ, তদীয় ভ্রাতা শায়বা এবং তদীয় পুত্র ওলীদ প্রচণ্ড ক্ষোভ নিয়ে ময়দানে বেরিয়ে এল এবং বলল, আমাদের বিরুদ্ধে কে লড়বে? মুসলমানদের পথে কয়েকজন তরুন আনসারী বেরিয়ে এল ওদের মুকাবিলা করার জন্যে। উতবাহ বলল আমরা তো এদেরকে চাই না আমরা চাচ্ছি আবদুল মুত্তালিব বংশের আমাদের চাচাত ভাইদেরকে। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, ওহে আলী, হামযা এবং উবায়দা ইবন হারিছ ইব্‌ন আবদুল মুত্তালিব তোমরা প্রস্তুত হও বেরিয়ে পড়। শেষ পর্যন্ত মহান আল্লাহ্ উতবাহ, শায়বা এবং রাবীআহকে হত্যা করলেন। মুসলমানদের পক্ষে উবায়দা (রা) আহত হলেন। আমরা সেদিন ওদের ৭০ জনকে হত্যা করেছি এবং ৭০ জনকে বন্দী করেছি। এরপর জনৈক বেঁটে আনসারী হযরত আব্বাস ইব্‌ন আবদুল মুত্তালিবকে বন্দী অবস্থায় রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর নিকট নিয়ে এল। হযরত আব্বাস (রা) বললেন ইয়া রাসূলুল্লাহ। এই ব্যক্তি আমাকে বন্দী করেনি। জনৈক লাল যুলফীধারী সুপুরুষ চিত্রাবর্ণের অশ্বে আরোহণ করে আমাকে বন্দী করেছে। আমি এখন তাকে দেখছি না। আনসারী বলল, ইয়া রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আমিই তাঁকে বন্দী করেছি। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, থাম-চুপ কর। সম্মানিত ফিরিশতা দিয়ে মহান আল্লাহ্ তোমাকে সাহায্য করেছেন। হযরত আলী (রা) বলেন, আমরা সেদিন আবদুল মুত্তালিব বংশের আব্বাস, আকীল এবং নাওফাল ইবন হারিছ সহ অন্যান্য গোত্রের লোকদেরকে বন্দী করি।
كتاب سيرة أول النبيين وخاتم المرسلين نبينا محمد بن عبد الله صلى الله عليه وسلم
باب ما جاء في سياق القصة والتحريض علي القتال
عن علي رضي الله عنه (1) قال لما قدمنا المدينة فاجتويناها (2) وأصابنا بها وعك (3) وكان النبي - صلى الله عليه وسلم - يتخبر (4) عن بدر فلما بلغنا أن المشركين قد أقبلوا سار الرسول - صلى الله عليه وسلم - إلي بدر: وبدر بئر فسبقنا المشركون اليها فوجدنا فيها رجلين منهم، رجلا من قريش، ومولي لعقبة ابن أبي معيط، فاما القرشي فانفلت، وأما مولي عقبة فأخذناه فجعلنا نقول له كم القوم؟ فيقول هم والله كثير عددهم، شديد بأسهم، فجعل المسلمون إذ قال ذلك ضربوه حتي أنتهوا به الي النبي - صلى الله عليه وسلم - فقال له كم القوم؟ فقال هم والله كثير عددهم، شديد بأسهم، فجهد النبي - صلى الله عليه وسلم - أن يخبره كم هم فأبي ثم ان النبي - صلى الله عليه وسلم - سأله كم ينحرون من الجزور؟ (5) فقال عشرا كل يوم، فقال رسول الله - صلى الله عليه وسلم - القوم الف كل جزور لمائة و * ثم انه أصابنا من الليل طش (6) من مطر فانطلقنا تحت الشجر والحجف (7) نستظل تحتها من المطر وبات رسول الله - صلى الله عليه وسلم - يدعو ربه عز وجل ويقول اللهم إن تهلك هذه الفئة لا تعبد، فلما أن طلع الفجر نادي الصلاة عباد الله، فجاء الناس من تحت الشجر والحجف فصلي بنا رسول الله - صلى الله عليه وسلم - وحرض علي القتال، ثم قال إن جمع قريش تحت هذا الضلع (8) الحمراء من الجبل، فلما دنا القوم منا وصاففناهم اذا رجل منهم علي جمل له أحمر يسير في القوم، فقال رسول الله - صلى الله عليه وسلم - يا علي ناد لي حمزة، وكان أقربهم من المشركين (9) من صاحب الجمل الأحمر؟ وماذا يقول لهم، ثم قال رسول الله - صلى الله عليه وسلم - إن يكن في القوم أحد يأمر بخير فعسي أن يكون صاحب الجمل الأحمر، فجاء حمزة فقال هو عتبة بن ربيعة وهو ينهي عن القتال ويقول لهم يا قوم اني أري قوما مستميتين لا تصلون اليهم وفيكم خير: يا قوم اعصبوها اليوم برأسي (10) وقولو جبن عتبة بن ربيعة وقد علمتم أني لست باجبنكم، فسمع بذلك أبو جهل فقال أنت تقول هذا والله لو غيرك يقول هذا لأعضضته (1) قد ملأت رئتك جوفك رعبا، فقال عتبة إياي تعير يا مصفر استه (2) ستعلم اليوم آيانا الجبان، قال فبرز عتبة وأخوه شيبة وابنه الوليد حمية فقال من يبارز؟ فخرج فتية من الأنصار ستة، فقال عتبة لا نريد هؤلاء ولكن يبارزنا من بني عمنا من بني عبد المطلب، فقال رسول الله - صلى الله عليه وسلم - قم يا علي وقم يا حمزة وقم يا عبيدة بن الحارث بن المطلب (3) فقتل الله تعالي عتبة وشيبة ابني ربيعة والوليد بن عتبة وجرح عبيدة فقتلنا منهم سبعين وأسرنا سبعين، فجاء رجل من الأنصار قصير بالعباس بن عبد المطلب أسيراً، فقال العباس يا رسول الله ان هذا والله ما أسرني، لقد أسرني رجل أجلح (4) من أحسن الناس وجها علي فرس أبلق (5) ما أراه في القوم، فقال الأنصاري أنا أسرته يا رسول الله: فقال اسكت فقد أيدك الله تعالي بملك كريم (6) فقال علي رضي الله عنه فأسرنا وأسرنا من بني عبد المطلب العباس وعقيلا ونوفل بن الحرث
tahqiqতাহকীক:তাহকীক চলমান
মুসনাদে আহমদ- ইমাম আহমদ রহঃ - হাদীস নং ২২১ | মুসলিম বাংলা