মুসনাদে আহমদ- ইমাম আহমদ রহঃ (আল-ফাতহুর রব্বানী)

সর্বশ্রেষ্ঠ নবী ও সর্বশেষ রাসূল মুহাম্মদ ইব্‌ন আব্দুল্লাহ (ﷺ)-এর জীবনচরিত অধ্যায়

হাদীস নং: ১৩৮
সর্বশ্রেষ্ঠ নবী ও সর্বশেষ রাসূল মুহাম্মদ ইব্‌ন আব্দুল্লাহ (ﷺ)-এর জীবনচরিত অধ্যায়
পরিচ্ছেদ : প্রথম 'আকাবার বায়'আতের পর আনসারীগণের মধ্য থেকে সত্তরজন পুরুষ ও দুইজন মহিলার আগমন যা দ্বিতীয় আক্বাবার বায়'আত নামে পরিচিত
(১৩৮) কা'ব ইবন মালিক থেকে বর্ণিত, যিনি স্বয়ং আক্বাবায় উপস্থিত ছিলেন এবং রাসূলুল্লাহর (ﷺ) হাতে তথায় বাইয়াত গ্রহণ করেছিলেন। তিনি বলেন, আমরা আমাদের গোত্রের মুশরিক হাজীদের সাথে (মিলেমিশে হজ্জের উদ্দেশ্যে) রওয়ানা হলাম। আমরা ইতোমধ্যে সালাত আদায়ে অভ্যস্ত হয়েছি ও দীন সম্পর্কে (কিছুটা) জ্ঞান লাভ করেছি। আমাদের (এই কাফেলার) সাথে ছিলেন বারা ইবন মা'রূর, আমাদের প্রবীণ মুরুব্বী ও গোত্রপতি। আমরা সফরের উদ্দেশ্যে মদীনা থেকে বের হতেই বারা আমাদেরকে বললেন, হে লোকসকল শোন, আল্লাহর শপথ, আমি নিজে একটি সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে ফেলেছি। আল্লাহর শপথ, আমি জানি না তোমরা আমার এই সিদ্ধান্তের সাথে একমত হবে কি না। আমরা তাঁকে বললাম, সেটি কী? তিনি বললেন, আমি স্থির করেছি যে, আমি এই (পবিত্র) গৃহ কা'বাকে সালাতের সময় আমার পেছনে রাখবো না, (বরং) কা'বার দিকে ফিরেই সালাত আদায় করবো। আমরা তাকে বললাম, আমরা যতদূর জানতে পেরেছি, তাতে আমাদের নবী (ﷺ) সিরিয়ার দিকে (বাইতুল মাকদিস) মুখ করেই সালাত আদায় করেন। আমরা তাঁর বিরোধিতা করতে চাই না। তিনি বললেন, আমি কা'বার দিকেই সালাত আদায় করবো; আমরা বললাম, কিন্তু আমরা তা করতে পারবো না। সুতরাং সালাতের ওয়াক্ত হলে আমরা সিরিয়ার দিকে আর তিনি কাবা শরীফের দিকে মুখ করে সালাত করতে থাকলেন এবং এই অবস্থাতেই আমরা মক্কায় এসে পৌঁছলাম। রাবী বলেন (আমার ভাই বলেছেন) আমরা গোটা রাস্তায় এ বিষয়ে তাঁকে তিরস্কার করতে করতে এসেছি, কিন্তু তিনি তার জিদে অটল থেকেছেন এবং আমাদের অনুরোধ উপেক্ষা করেছেন। মক্কায় পৌঁছার পর তিনি আমাকে বললেন, ভাতিজা, আমাকে রাসূলুল্লাহর (ﷺ) কাছে নিয়ে চলো। আমি তাঁকে জিজ্ঞেস করবো, সারাপথে আমি যা করেছি (যেভাবে সালাত আদায় করেছি) তা ঠিক হলো কি না? এ বিষয়ে তোমাদেরকে যেভাবে আমার বিরুদ্ধে কাজ করতে দেখেছি, তাতে আমার মনে সন্দেহের উদ্রেক হয়েছে।

রাবী বলেন, অতঃপর আমরা রাসূলুল্লাহর (ﷺ) সন্ধানে বের হলাম। আমরা তাঁকে চিনতাম না এবং ইতিপূর্বে আমরা তাঁকে কখনও দেখিনি। (এমন সময়) জনৈক মক্কাবাসীর সাথে দেখা হলো; আমরা তাকে জিজ্ঞেস করলাম, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) কোথায় আছেন? লোকটি জিজ্ঞেস করলো, তোমরা কি তাঁকে চেন? আমরা বললাম, না। সে বললো, তাঁর চাচা আব্বাস ইব্‌ন আবদুল মুত্তালিবকে কি চেন? আমরা বললাম, হ্যাঁ।

রাবী বলেন, আমরা আব্বাসকে আগে থেকেই চিনতাম। (কারণ) তিনি আমাদের এলাকা দিয়ে ব্যবসার উপলক্ষে যাতায়াত করতেন। মক্কাবাসী লোকটি বললো, তোমরা মসজিদুল হারামে প্রবেশ করে যাঁকে আব্বাসের সাথে উপবিষ্ট দেখতে পাবে, তিনিই সেই ব্যক্তি। আমরা মসজিদুল হারামে প্রবেশ করলাম এবং দেখতে পেলাম আব্বাস বসে আছেন। আল্লাহর রাসূল (ﷺ) তার পাশেই বসে আছেন। আমরা সালাম জানিয়ে তাঁর কাছে বসে গেলাম। রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) আব্বাসকে লক্ষ্য করে বললেন, আপনি এ দু'জনকে চিনেন, হে আবুল ফযল? তিনি বললেন, হ্যাঁ। ইনি হচ্ছেন গোত্রপতি বারা ইবন্ মা'রূর; আর ইনি হলেন- কা'ব ইবন মালিক। এ কথা শুনে রাসূল (ﷺ) বললেন, কবি কা'ব? আল্লাহর শপথ, তার এ কথাটি আমি কোন দিনও ভুলব না। আব্বাস বললেন, হ্যাঁ। তখন রাবী বললেন, হে আল্লাহর নবী, আমি সফরে বের হওয়ার পূর্বেই আল্লাহ্ আমাকে ইসলাম গ্রহণের তওফীক দিয়েছেন। এরপর আমি নিজেই সিদ্ধান্ত নিলাম যে এই গৃহকে (কাবা শরীফকে) পেছনে রেখে সালাত আদায় করবো না। সেমতে আমি ঐভাবেই সালাত আদায় করে আসছি। কিন্তু আমার সাথীরা আমার মতের বিরোধিতা করেছে। সুতরাং আমার মনে সংশয়ের উদ্রেক হয়েছে। হে আল্লাহর রাসূল, এ বিষয়ে আপনার অভিমত কী? রাসূল (ﷺ) বললেন, তুমি একটি কিবলার অনুসরণ করতে, সুতরাং ধৈর্য্য ধারণ করে সেই কিবলার অনুসরণ করাই শ্রেয় ছিল। রাবী বলেন, এরপর বারা রাসূলের অনুসৃত কিবলার দিকে ফিরে আসেন এবং আমাদের সাথে সিরিয়ার দিকে মুখ করে সালাত আদায় করতে থাকেন। রাবী বলেন, তবে বারার পরিজন বা আত্মীয় স্বজনরা মনে করে থাকে যে, তিনি তাঁর মৃত্যুর পূর্ব পর্যন্ত কা'বার দিকে মুখ করেই সালাত আদায় করে গেছেন। কিন্তু প্রকৃতপক্ষে ব্যাপারটি ঠিক নয় যেরূপ তারা বর্ণনা করেছে। কারণ, বারা সম্পর্কে তাদের চেয়ে আমরাই বেশী জানি। এরপর আমরা হজ্জের উদ্দেশ্যে রওয়ানা হলাম। আইয়‍্যামে তাশরীকের মাঝামাঝি সময়ে আমরা রাসূলের (ﷺ) সাথে মিলিত হওয়ার ওয়াদা করলাম। যেদিন হজ্জের অনুষ্ঠানাদি শেষ হলো, তার পরবর্তী রাতটিই ছিল রাসূলের (ﷺ) সাথে আমাদের মিলিত হওয়ার প্রতিশ্রুত রাত। তখন আমাদের সাথে ছিলেন আবদুল্লাহ ইব্‌ন আমর ইব্‌ন হারাম আবূ জাবির। তিনি ছিলেন আমাদের অন্যতম নেতা। তাকেও আমরা সাথে নিলাম। কিন্তু আমাদের সফরসঙ্গী আমাদের গোত্রের মুশরিকদের কাছ থেকে আমাদের (পরিকল্পিত) বিষয়টি গোপন করে রেখেছিলাম। আমরা আবু জাবিরকে বললাম, হে আবু জাবির আমাদের অন্যতম সম্মানিত নেতা। আপনি যে জীবন-পদ্ধতি অনুসরণ করে চলছেন এটি আমাদের বিবেচনায় অত্যন্ত গর্হিত ব্যাপার। এর কারণে আপনি আগামী দিনে (পরকালে) জাহান্নামের ইন্ধনে পরিণত হন, তা আমরা চাই না। এরপর আমি তাঁকে ইসলামের দা'ওয়াত দিলাম এবং রাসূলের (ﷺ) সাথে আমাদের মিলিত হওয়ার নির্ধারিত সময়ের কথা জানালাম। আবু জাবির তখন ইসলাম কবুল করলেন এবং আমাদের সাথে আকাবার বাইয়াতে অংশগ্রহণ করলেন। তিনি ছিলেন একজন নকীব (আহ্বায়ক বা সর্দার)। রাবী বলেন, সেই রাতে আমরা কওমের অন্যান্য লোকদের সাথে কাফিলার মধ্যেই নিদ্রা গেলাম। রাত এক তৃতীয়াংশ অতিক্রান্ত হওয়ার পর আমরা অতি সন্তর্পণে রাসূলকে (ﷺ) দেওয়া প্রতিশ্রুতি মোতাবেক আকাবার উদ্দেশ্যে বেরিয়ে পড়লাম। নিশাচর পাখির ন্যায় অতি সন্তর্পণে ও গোপনে পথ চলতে চলতে আমরা আকাবার গিরিসংকটে গিয়ে সমবেত হলাম। আমরা সংখ্যায় সত্তরজন পুরুষ। দুইজন স্ত্রীলোকও ছিলেন। তাঁরা হলেন নু'সাইবা বিনতি কা'ব, যিনি উমারার মাতা ও বনূ মাযিন ইবন্ নাজ্জার গোত্রীয় মহিলা। অপরজন আসমা বিনতি আমর ইবন 'আদী ইবন সাবিত, ইনি উম্মু মানী' (বা মানী'র মাতা) ও বনূ সালামা গোত্রীয় মহিলা।

.....রাবী (কা'ব ইবন মালিক রা) বলেন, আমরা গিরিসংকটে সমবেত হয়ে রাসুলুল্লাহর (ﷺ) প্রতীক্ষায় ছিলাম। এমন সময় তিনি তাঁর চাচা 'আব্বাস ইব্‌ন 'আব্দুল মুত্তালিবকে সাথে নিয়ে সেখানে উপস্থিত হলেন। আব্বাস তখনও তার কওমের দ্বীনের উপর ছিলেন (তখনও ইসলাম গ্রহণ করেননি)। তা সত্ত্বেও তিনি তাঁর ভাতিজার এই গুরুত্বপর্ণ বিষয়টি প্রত্যক্ষ করা এবং তাঁর নিরাপত্তা বিধানের পক্ষেই রাসূলের (ﷺ) সাথে এসেছিলেন। আমরা যখন (বৈঠকে) বসলাম, তখন সর্বপ্রথম কথা বললেন আব্বাস। তিনি বললেন, হে খাযরাজ গোত্রের সম্মানীয়) লোকজন, (রাবী বলেন, উল্লেখ্য যে, আরবরা আনসারীদেরকে সাধারণভাবে খাযরাজ নামে অভিহিত করত, তা খাযরাজ গোত্রের লোকই হোক বা আওস গোত্রের হোক।) মুহাম্মদ আমাদের মধ্যে কিরূপ মর্যাদার অধিকারী তা আপনাদের নিশ্চয় জানা আছে। আমরা তাঁকে তাঁর সম্প্রদায়ের এমন সব লোকদের যুলুম-নির্যাতন থেকে রক্ষা করেছি, যারা তাঁর ব্যাপারে আমাদের মতই ধারণা রাখে। ফলে তিনি তাঁর সম্প্রদায়ে সম্মান ও স্বদেশে নিরাপত্তার সাথেই আছেন। রাবী বলেন, আমরা বললাম, (হে আবুল ফযল আল-আব্বাস) আমরা আপনার বক্তব্য শুনলাম। এবার আপনি বলুন, ইয়া রাসূলাল্লাহ (ﷺ) এবং আপনার ও আপনার রবের পক্ষে যেরূপ প্রতিশ্রুতি আপনি পছন্দ করবেন, সেইরূপ গ্রহণ করুন। এবার আল্লাহর রাসূল (ﷺ) তাঁর কথা বললেন। প্রথমে তিনি আল-কুরআন থেকে তিলাওয়াত করলেন, আল্লাহ্ জাল্লা শানুহুর দিকে দাওয়াত দিলেন এবং ইসলাম গ্রহণের ব্যাপারে (সবাইকে) অনুপ্রাণিত করলেন। তারপর বললেন, আমি আপনাদের কাছ থেকে এই প্রতিশ্রুতি প্রত্যাশা করি যে, তোমরা তোমাদের স্ত্রী ও সন্তানদেরকে যেভাবে রক্ষা করে থাকো, আমাকেও সেভাবে রক্ষা করবে। (তৎক্ষনাৎ) বারা ইব্‌ন মা'রূর রাসুলুল্লাহর (ﷺ) হাত ধরে বললেন, হ্যাঁ। যে মহান সত্তা আপনাকে সত্য দ্বীনসহ প্রেরণ করেছেন, তাঁর শপথ করে বলছি, আমরা যেভাবে আমাদের স্ত্রী-স্বজনদের রক্ষা করে থাকি, আপনাকেও সেভাবে রক্ষা করবো। অতঃপর আমরা রাসূলের (ﷺ) হাতে এই মর্মে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হলাম (এবং আমরা তাঁকে এও জানালাম যে.) আমরা যুদ্ধ ও অস্ত্রের মধ্যেই লালিত পালিত। আমরা বংশানুক্রমে (উত্তরাধিকার সূত্রে) যোদ্ধা জাতি।

রাসূলুল্লাহর (ﷺ) সাথে বারার কথাবার্তা শেষ হতে না হতেই বনু আবদুল আশহাল গোত্রের মিত্র আবুল হাইছাম ইবনুত তায়্যিহান বলে উঠলেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ (ﷺ) ইয়াহুদীদের সাথে আমাদের মৈত্রী চুক্তি রয়েছে, আমরা তা ছিন্ন করতে চাচ্ছি। আমরা তা করার পর (ইয়াহুদীদের সাথে মৈত্রী চুক্তি ছিন্ন করার পর) আল্লাহ্ যদি আপনাকে বিজয় দান করেন, আপনি কি আমাদেরকে পরিত্যাগ করে নিজ গোত্রে ফিরে যাবেন? একথা শুনে আল্লাহর রাসূল (ﷺ) মুচকি হেসে বললেন, আমি বরং তোমাদের জীবন-মরণ ও সুখ- দুঃখের চিরসঙ্গী হয়ে থাকবো, আমি (চিরদিন) তোমাদের থাকব এবং তোমরাও আমার থাকবে। তোমাদের রক্তপাতকে আমার রক্তপাত বলে মনে করবো। তোমরা যার বিরুদ্ধে যুদ্ধ করবে, আমিও তার বিরুদ্ধে যুদ্ধ করবো, আর তোমরা যার সাথে আপোষ বা সন্ধি করবে, আমিও তাদের সাথে আপোষ করবো।

(এ পর্যায়ে) রাসূল (ﷺ) বললেন, তোমাদের মধ্য থেকে বারজন প্রতিনিধি (নকীব) চয়ন করে আমার কাছে পাঠাও, যেন তাঁরা নিজ নিজ গোত্রের প্রতিনিধিত্ব করতে পারে (এবং এই বাইয়াতে সামিল করে নিতে পারে)। তখন তাঁরা তাঁদের মধ্য থেকে বারজন নকীব ঠিক করেন; তন্মধ্যে নয়জন খাযরাজ ও তিনজন আউস গোত্রীয়। যিনি সর্বপ্রথম রাসূলের (ﷺ) হাত ধরে বাইআত করেন, তিনি ছিলেন বারা ইবন মা'রূর। পরে একের পর এক অন্যরা বাইআতে শামিল হয়। রাবী বলেন, আমরা যখন রাসূলুল্লাহর সাথে বাই'আত সম্পন্ন করলাম, তখন আক্বাবার পর্বত শীর্ষ থেকে শয়তান এমন জোরে চিৎকার করে উঠলো যে ওরকম বিকট চিৎকার আমি আর কোন দিন শুনিনি। সে চিৎকার করে বলছিল, হে মীনার অধিবাসীরা, তোমরা কি লক্ষ্য করলে না, এই যে 'মুযাম্মাম' নিন্দিত ব্যক্তির সাথে ধর্মত্যাগীরা যোগসাজস করে তোমাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করার ব্যাপারে ঐকমত্যে পৌছে গেছে? (ইবন ইসহাক বলেন, আল্লাহ্ শত্রুরা মুহাম্মদ (ﷺ)-কে 'মুযাম্মাম' বলতো। অর্থাৎ মুহাম্মদ হচ্ছে প্রশংসিত-নন্দিত, কিন্তু তারা বলতো মুযাম্মাম বা নিন্দিত।) রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) বললেন, এটি হচ্ছে আকাবার শয়তান ইবনে উযাইবের চিৎকার। শুনে রাখ, হে আল্লাহর দুশমন, আল্লাহর শপথ, তোর আধিপত্যের দিন অবশ্যই শেষ হতে যাচ্ছে। অতঃপর রাসূল (ﷺ) আমাদের নির্দেশ দিলেন, তোমরা নিজ নিজ কাফিলায় ফিরে যাও। (এই সময়) আব্বাস ইব্‌ন উবাদা ইব্‌ন নাদলা বললেন, যে মহান সত্ত্বা আপনাকে সত্য দ্বীনসহ প্রেরণ করেছেন, তাঁর শপথ, আপনি চাইলে আমরা আগামীকাল সকলেই মীনায় অবস্থানকারী (মুশরিকদের উপর) তরবারী নিয়ে হামলা চালাবো। রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) বললেন, আমি এ ব্যাপারে (এখনও) আদিষ্ট হইনি। অতঃপর আমরা কাফিলায় ফিরে আসলাম এবং সকাল পর্যন্ত নিদ্রায় কাটালাম। সকাল হতেই কুরাইশদের এক বিরাট দল আমাদেরকে ঘিরে ধরলো। এমনকি তারা আমাদের শিবিরে প্রবেশ করে বললো, হে খাযরাজ গোত্রের লোকজন, আমরা জানতে পেরেছি যে, তোমরা আমাদের গোত্রীয় সাথীকে (মুহাম্মদকে) আমাদের কাছ থেকে বের করে নিয়ে যেতে এসেছ এবং আমাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করার জন্য তার সাথে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হয়েছ। আল্লাহর শপথ, আরবের অন্য কোন গোত্রের সাথে যুদ্ধ করার চেয়ে তোমাদের সাথে যুদ্ধে লিপ্ত হওয়া আমাদের কাছে সবচেয়ে অপ্রীতিকর। (তাদের এসব কথা শুনে) আমাদের কাফিলার গোত্রীয় মুশরিকরা আল্লাহর নামে শপথ করে তাদেরকে বলতে লাগলো, এ ধরনের কোন কিছু ঘটেনি (বা কোন ষড়যন্ত্র হয়নি) এবং আমরা এর কিছুই জানি না। বস্তুতঃ তারা সত্য কথাই বলছিল, কারণ তারা আমাদের ঐ বিষয়ে কিছুই জানতে পারেনি। (এই সময় আমরা কোন কথা না বলে) আমরা একে অপরের মুখের দিকে তাকাচ্ছিলাম। তখন কুরাইশী কাফিররা হারিছ ইব্‌নল মুগীরা আল- মাখযূমীসহ দণ্ডায়মান হলো; হারিছের পায়ে ছিল এক জোড়া নতুন জুতা। রাবী বলেন, তখন আমি কুরাইশীদের মনোযোগ অন্যদিকে আকর্ষিত করার লক্ষ্যে বললাম, হে আবু জাবির, আপনি আমাদের অন্যতম প্রধান নেতা। আপনি কি কুরাইশী এই যুবকের (হারিছ) জুতার ন্যায় এক জোড়া জুতা ব্যবহার করতে পারেন না? হারিছ আমার কথাটি শুনতে পায় এবং জুতাজোড়া খুলে আমার দিকে নিক্ষেপ করে দিয়ে বললো, আল্লাহর শপথ, তুমি এগুলো পায়ে পড়ে নাও। আবু জাবির (রা) বললেন, হায়, তুমি তো এই যুবকটিকে ক্ষেপিয়ে দিলে, তার জুতাগুলো ফেরত দাও। আমি বললাম, আল্লাহর শপথ, আমি তা ফেরত দেব না। এটি একটি শুভ লক্ষণ। এই লক্ষণ যদি সত্য হয়, তাহলে আমি অবশ্যই যুদ্ধের ময়দানে একে পরাজিত করে তা ছিনিয়ে নেব।
(ইবনে হিশাম ইবন ইসহাক থেকে।)
كتاب سيرة أول النبيين وخاتم المرسلين نبينا محمد بن عبد الله صلى الله عليه وسلم
باب قدوم سبعين رجلا وامرأتين من الأنصار بعد العقبه الأولى بعام وبيعة العقبة الثانية
حدّثنا يعقوب قال ثنا أبى عن ابن اسحاق قال فحدثنى معبد بن كعب بن مالك بن أبى كعب بن القين أخو بنى سلمة ان أخاه عبد الله بن كعب وكان من أعلم الانصار حدثه أن أباه كعب بن مالك وكان كعب ممن شهد العقبة وبايع رسول الله صلى الله عليه وسلم بها قال خرجنا فى حجاج قومنا من المشركين وقد صلينا وفقهنا ومعنا البراء بن معرور كبيرنا وسيدنا، فلما تواجهنا لسفرنا وخرجنا من المدينة قال البراء لنا يا هؤلاء انى قد رأيت والله رأيا وانى والله ما أدرى توافقونى عليه أم لا؟ قال قلنا له وما ذاك؟ قال قد رأيت ان لا أدع هذه البنية منى ظبهر، يعنى الكعبة وان أصلى اليها، قال فقلنا والله ما بلغنا أن نبينايصلى الا الى الشام وما نريد ان نخالفه، فقال انى أصلى اليها: قال فقلنا له لكنا لا نفعل، فكنا اذا حضرت الصلاة صلينا الى الشام وصلى الى الكعبة حتى قدمنا مكة قال أخي وقد كنا عبنا عليه ما صنع وأبى الا الأقامة عليه، فلما قدمنا مكة قال يا ابن أخى انطلق الى رسول الله صلى الله عليه وسلم فاسأله عما صنعت فى سفرى هذا فانه والله قد وقع فى نفسى منه شئ لما رأيت من خلافكم إياى فيه، قال فخرجنا نسأل عن رسول الله صلى الله عليه وسلم وكنا لا نعرفه لم نره قبل ذلك، فلقينا رجل من أهل مكة فسألناه عن رسول الله صلى الله عليه وسلم، فقال هل تعرفانه، قال قلنا لا، قال فهل تعرفان العباس بن عبد المطلب عمه؟ قلنا نعم، قال وكنا نعرف العباس، كان لا يزال يقدم علينا تاجرا: قال فاذا دخلتما المسجد فهو الرجل الجالس مع العباس قال فدخلنا المسجد فاذا العباس جالس ورسول الله صلى الله عليه وسلم معه جالس فسلمنا ثم جلسنا اليه، فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم للعباس هل تعرف هذين الرجلين يا أبا الفضل؟ قال نعم: هذا البراء بن معرور سيد قومه وهذا كعب بن مالك قال فوالله ما أنسى قول رسول الله صلى الله عليه وسلم الشاعر؟ قال نعم، قال فقال البراء بن معرور يا نبى الله انى خرجت من سفرى هذا وهدانى الله للاسلام فرأيت أن لا أجعل هذه البنية منى بظهر فصليت اليها وقد خالفنى أصحابى فى ذلك حتى وقع فى نفسى من ذلك شئ فماذا ترى يا رسول الله؟ قال لقد كنت على قبلة لو صبرت عليها قال فرجع البراء الى قبلة رسول الله صلى الله عليه وسلم فصلى معنا الى الشام، قال وأهله يزعمون أنه صلى الى الكعبة حتى مات وليس ذلك كما قالوا، نحن أعلم به منهم قال وخرجنا الى الحج فوعدنا رسول الله صلى الله عليه وسلم العقبة من أوسط أيام التشريق فلما رفغنا الحج وكانت الليلة التى وعدنا رسول الله صلى الله عليه وسلم ومعنا عبد الله بن عمرو بن حرام أبو جابر سيد من ساداتنا وكنا نكتم من معنا من قومنا من المشركين أمرنا فكلمناه وقلنا له يا أبا جابر انك سيد من ساداتنا وشريف من أشرافنا، وإنا نرغب بك عما أنت فيه ان تكون حطبا للنار غدا: ثم دعوته الى الاسلام وأخرته بميعاد رسول الله صلى الله عليه وسلم فأسلم وشهد معنا العقبة وكان نقيبا، قال فنمنا تلك الليلة مع قومنا فى رحالنا حتى اذا مضى ثلث الليل خرجنا من رحالنا لميعاد رسول الله صلى الله عليه وسلم نتسلل مستخفين تسلل القطا حتى اجتمعنا فى الشعب عن دالعقبة ونحن سبعون رجلا ومعنا امرأتان من نسائهم: نسيبة بنت كعب أم عمارة احدى نساء بنى مازن بن النجار واسماء بنت عمرو بن عدى بن ثابت احدى نساء بنى سلمة وهى أم منيع، قال فاجتمعنا بالشعب ننتظر رسول الله صلى الله عليه وسلم حتى جاءنا ومعه يومئذ عمه العباس بن عبد المطلب وهو يومئذ على دين قومه إلا أنه احب ان يحضر امر ابن اخيه ويتوثق له، فلما جلسنا كان العباس بن عبد المطلب اول متكلم فقال يا معشر الخزرج، قال وكانت العرب مما يسمون هذا الحى من الانصار الخزرج أوسها وخزرجها: إن محمدا منا حيث قد علمتم وقد منعناه من قومنا ممن هو على مثل رأينا فيه وهو فى عز من قومه ومنعة فى بلده قال فقلنا قد سمعنا ما قلت فتكلم يا رسول الله فخذ لنفسك ولربك ما أحببت، قال فتكلم رسول الله صلى الله عليه وسلم فتلا ودعا الى الله عز وجل ورغّب فى الاسلام قال أبايعكم على أن تمنعونى مما تمنعون منه نساءكم وأبناءكم: قال فأخذ البراء بن معرور بيده ثم قال نعم والذى بعثك بالحق لنمنعنك مما نمنع منه أزرنا فبايعنا رسول الله صلى الله عليه وسلم فنحن أهل الحروب وأهل الحلقة ورثناها كابرًا عن كابر، قال فاعترض القول والبراء يكلم رسول الله صلى الله عليه وسلم أبو الهيثم ابن التيهان حليف بنى عبد الأشهل فقال يا رسول الله ان بينا وبين الرجال حبالا وانا قاطعوها يعنى العهود، فهل عسيت إن نحن فعلنا ذلك ثم أظهرك الله ان ترجع الى قومك وتدعنا؟ قال فتبسم رسول الله صلى الله عليه وسلم ثم قال بل الدم الدم والهدم الهدم انا منكم وانتم منى أحارب من حاربتم وأسالم من سالمتم، وقد قال رسول الله صلى الله عليه وسلم اخرجوا الى منكم اثني عشر نقيبا يكونون على قومهم فأخرجوا منهم اثنى عشر نقيبا منهم تسعة من الخزرج وثلاثة من الأوس، وأما معبد بن كعب فحدثني فى حديثه عن أخيه عن أبيه كعب بن مالك قال كان أول من ضرب على يد رسول الله صلى الله عليه وسلم البراء بن معرور ثم تتابع القوم، فلما بايعنا رسول الله صلى الله عليه وسلم صرخ الشيطان من رأس العقبة بأبعد صوت سمعته قط يا أهل الجباجب والجباجب المنازل هل لكم فى مذمّم. الصباة معه قد أجمعوا على حربكم، قال على يعنى ابن اسحاق ما يقول عدو الله محمد، ففال رسول الله صلى الله عليه وسلم هذا أزب العقبة هذا ابن ازيب اسمع أي عدو الله أما والله لا فرغن لك، ثم قال، رسول الله صلى الله عليه وسلم أرجعوا الى رحالكم، قال فقال له العباسي بن عبادة بن نضلة والذى بعثك بالحق لئن شئت لنميلن على أهل منى غدا بأسيافنا، قال فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم لم أومر بذلك، قال فرجعنا فنمنا حتى أصبحنا فلما أصبحنا غدت علينا جلة قريش حتى جاءونا في منازلنا فقالوا يا معشر الخزرج انه قد بلغنا انکم قد جئتم الى صاحبنا هذا تستخرجونه من بين أظهرنا وتبايعونه على حربنا، والله انه ما من العرب أحد أبغض الينا ان تنشب الحرب بيننا وبينه منكم، قال فانبعث من هنالك من مشركى قومنا يحلفون لهم بالله ما كان من هذا شئ وما علمناه، وقد صدقوا لم يعلموا ما كان منا، قال فبعضنا ينظر الى بعض، قال وقام القوم وفيهم الحارث بن هشام بن المغيرة المخزومي وعليه نعلان جديدان قال فقلت كلمة كأنى أريد أن أشرك القوم بها فيما قالوا: ما تستطيع يا أبا جابر وأنت سيد من ساداتنا أن تتخذ نعلين مثل نعلي هذا الفتى من قريش؟ فسمعهما الحرث فخلعهما ثم رمى بهما الى فقال والله لتنتعلنها: قال يقول أبو جابر أحفظت والله الفتى فاردد عليه نعليه، قال فقلت والله لا أردهما، قال والله صالح لئن صدق الفأل لاسلبنه فهذا حديث كعب بن مالك من العقبة وما حاضر منها
tahqiqতাহকীক:তাহকীক চলমান