মুসনাদে আহমদ- ইমাম আহমদ রহঃ (আল-ফাতহুর রব্বানী)

সর্বশ্রেষ্ঠ নবী ও সর্বশেষ রাসূল মুহাম্মদ ইব্‌ন আব্দুল্লাহ (ﷺ)-এর জীবনচরিত অধ্যায়

হাদীস নং: ১৩৬
সর্বশ্রেষ্ঠ নবী ও সর্বশেষ রাসূল মুহাম্মদ ইব্‌ন আব্দুল্লাহ (ﷺ)-এর জীবনচরিত অধ্যায়
পরিচ্ছেদ : প্রথম 'আকাবার বায়'আতের পর আনসারীগণের মধ্য থেকে সত্তরজন পুরুষ ও দুইজন মহিলার আগমন যা দ্বিতীয় আক্বাবার বায়'আত নামে পরিচিত
(১৩৬) জাবির (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) দশ বছর উকায মেলায়, মাজান্নায় ও মীনায় প্রতি হজ্জের মওসুমে শিবিরে শিবিরে গিয়ে মানুষের কাছে ইসলামের দা'ওয়াত দিয়ে কাটান। তিনি মানুষকে লক্ষ্য করে বলতেন, কে আমাকে আশ্রয় দিবে? কে আমাকে সাহায্য করবে? যাতে করে আমি আমার রবের বাণী পৌছে দিতে পারি, বিনিময়ে তার জন্যে রয়েছে জান্নাত। তাঁর আহ্বানে সাড়া দিয়ে কখনও কখনও ইয়ামনী অথবা মুদার গোত্রীয় কোন পুরুষ এগিয়ে আসতো, রাসূলের (ﷺ) কওমের লোকেরা তাদেরকে সতর্ক করে দিত এই বলে যে, তোমরা কুরাইশী এই যুবকের খপ্পর থেকে বেঁচে থাকবে। এই বলে তারা ঐসব গোত্রের লোকদের মধ্যে হেঁটে হেঁটে রাসূলের (ﷺ) প্রতি অঙ্গুলি নিদেশ করে দেখিয়ে দিত। এমন এক অবস্থার মধ্যে আল্লাহ্ তা'আলা ইয়াছরিব থেকে আমাদেরকে তাঁর কাছে প্রেরণ করেন। অতঃপর আমরা তাঁকে আশ্রয় দিলাম এবং সত্য বলে মেনে নিলাম। আমাদের মধ্যকার এক একজন করে এগিয়ে আসতো এবং তাঁর প্রতি ঈমান আনতো। তিনি তাকে কুরআন পাঠ করে শোনাতেন। অতঃপর সে নিজ পরিবার-পরিজনের নিকট ফিরে যেত এবং তারাও তাদের নিকট থেকে ইসলাম গ্রহণ করত। এমনকি আনসারীদের মধ্যে কোন একটি ঘরও অবশিষ্ট থাকল না, যেখানে মুসলিমদের একটি দল গড়ে ওঠেনি এবং তারা প্রকাশে ইসলাম প্রচার করেনি। (এই অবস্থার প্রেক্ষিতে) কুরাইশী কাফির মুশরিকরা সামগ্রিক ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়। আমরা বললাম, আর কতকাল আমরা আল্লাহর রাসূলকে (ﷺ) এভাবে ফেলে রাখব যে, তিনি মক্কার পাহাড়ে-পাহাড়ে ভীতসন্ত্রস্ত অবস্থায় তাড়িত হতে থাকবেন? অতঃপর আমাদের মধ্য থেকে তাঁর কাছে হজ্জের মওসুমে সত্তরজন পুরুষ আগমন করে। আমরা 'আকাবার গিরি-সঙ্কটে তাঁর সাথে সাক্ষাতের সময় ধার্য করি। আমরা একজন দু'জন করে তাঁর সাথে সাক্ষাত করি এবং বাইয়াত গ্রহণ করি। আমরা বললাম, ইয়া রাসূলাল্লাহ্ (ﷺ) আমরা আপনার কাছে বাইয়াত গ্রহণ করতে চাই। তিনি বললেন, তোমরা এই মর্মে বায়'আত গ্রহণ কর যে, উদ্যম ও অবসাদ সর্বাবস্থায় আনুগত্য করবে, সংকটে ও স্বচ্ছলতায় ব্যয় করবে, সৎকর্মের আদেশ ও অসৎকর্মে নিষেধ করবে, তোমরা আল্লাহর পথে কোন তিরস্কারকারীর তিরস্কারকে তোয়াক্কা করবে না, আর আমি যখন তোমাদের মাঝে (মদীনায়) গমন করবো, তখন তোমরা আমাকে সাহায্য করবে, নিরাপত্তার ব্যবস্থা করবে যেভাবে তোমরা তোমাদের নিজেদের ও স্ত্রী-সন্তানদের নিরাপত্তা বিধান করে থাক। বিনিময়ে তোমাদের জন্য রয়েছে জান্নাত। রাবী বলেন, এরপর একে একে আমরা সবাই তাঁর কাছে এগিয়ে গিয়ে বাইয়াত গ্রহণ করলাম। সর্বপ্রথম তাঁর (রাসূলের) হাত ধরলেন আস'আদ ইব্‌ন যুরারা। তিনি ছিলেন বয়সে সর্বকনিষ্ঠ। তিনি বললেন, হে ইয়াসরিববাসী, শুনে রাখ, তিনি আল্লাহর রাসূল এটা বিশ্বাস করেই আমরা তার কাছে এসেছি। আজ তাকে এ দেশ থেকে বের করে নেওয়ার মাধ্যমে গোটা আরব জাতির সাথে শত্রুতা অবধারিত হয়ে যাবে। তোমাদের শ্রেষ্ঠজনদের রক্ত দিতে হবে এবং তোমাদের উপর তরবারি চালনা করা হবে। সেক্ষেত্রে তোমরা হয়ত ধৈর্য ধারণ করবে। আর তা করতে পারলে আল্লাহর কাছে রয়েছে তোমাদের প্রতিদান। আর যদি তোমরা তোমাদের জীবনের ভয়ে কাপুরুষতাবশতঃ শঙ্কিত হও; তাও বল। সেটি আল্লাহর কাছে ওযর হিসেবে গণ্য হতে পারে। সমবেত লোকজন বললেন, হে আস'আদ তুমি তোমার হাত সরাও (অর্থাৎ রাসূলের (ﷺ) হাত থেকে)। আল্লাহর শপথ, আমরা এই বাইয়াতকে কখনও পরিত্যাগ করবো না, কখনও তা ভঙ্গ করবো না। রাবী বলেন, এরপর আমরা তাঁর কাছে দাঁড়িয়ে গেলাম এবং বাইয়াত গ্রহণ করলাম-এই শর্তে যে, এর বিনিময়ে আল্লাহ্ আমাদেরকে জান্নাত প্রদান করবেন। (আল্লাহ্ তা'আলা এঁদের সবার প্রতি সন্তুষ্ট হোন)।
(মালিক ও বায়হাকী)
كتاب سيرة أول النبيين وخاتم المرسلين نبينا محمد بن عبد الله صلى الله عليه وسلم
باب قدوم سبعين رجلا وامرأتين من الأنصار بعد العقبه الأولى بعام وبيعة العقبة الثانية
عن جابرقال مكث رسول الله صلى الله عليه وسلم عشر سنين يتبع الناس فى منازلهم بعكاظ ومجنّة فى المواسم بمنى يقول من يؤوينى من ينصرنى حتى أبلغ رسالة ربى وله الجنة، حتى ان الرجل ليخرج من اليمن أو من مضر فيأتيه قومه فيقولون احذر من غلام قريش لا يفتنك ويمشى بين رجالهم وهم يشيرون اليه بالاصابع حتى بعثنا الله اليه من يثرب فآويناه وصدقناه فيخرج الرجل منا فيؤمن به ويقرئه القرآن فينقلب الى أهله فيسلمون باسلامه حتى لم يبق دار من دور الانصار الا وفيها رهط من المسلمين يظهرون الاسلام ثم ائتمروا جميعا حتى متى نترك رسول الله صلى الله عليه وسلم يطرد فى جبال مكة ويخاف، فرحل اليه منا سبعون رجلا حتى قدموا عليه فى الموسم فواعدناه شعب العقبة فاجتمعنا عليه من رجل ورجلين حتى توافينا، فقلنا يا رسول الله نبايعك، قال تبايعونى على السمع والطاعة فى النشاط والكسل والنفقة فى العسر واليسر وعلى الأمر بالمعروف والنهى عن المنكر، وأن تقولوا فى الله لا تخافون فى الله لومة لائم، وعلى أن تنصرونى فتمنعونى اذا قدمت عليكم مما تمنعون منه أنفسكم وأزواجكم وأبناءكم ولكم الجنة، قال فقمنا اليه فبايعناه وأخذ بيده اسعد بن زرارة وهو من أصغرهم فقال رويدا يا أهل يثرب فانا لم نضرب أكباد الإبل الا ونحن نعلم أنه رسول الله صلى الله عليه وسلم وان اخراجه اليوم مفارقة العرب كافة وقتل خياركم وان تعضكم السيوف فإما أنتم قوم تصبرون على ذلك وأجركم على الله، وإما أنتم قوم تخافون من أنفسكم جبنة فبينوا ذلك فهو عذر لكم عند الله: قالوا امط عنا يا أسعد فوالله لا ندع هذه البيعة ابدا ولا نسلبها ابدا قال فقمنا اليه فبايعناه فأخذ علينا وشرط يعطينا على ذلك الجنة رضي الله عنهم أجمعين
tahqiqতাহকীক:তাহকীক চলমান