মুসনাদে আহমদ- ইমাম আহমদ রহঃ (আল-ফাতহুর রব্বানী)

সর্বশ্রেষ্ঠ নবী ও সর্বশেষ রাসূল মুহাম্মদ ইব্‌ন আব্দুল্লাহ (ﷺ)-এর জীবনচরিত অধ্যায়

হাদীস নং: ৯২
সর্বশ্রেষ্ঠ নবী ও সর্বশেষ রাসূল মুহাম্মদ ইব্‌ন আব্দুল্লাহ (ﷺ)-এর জীবনচরিত অধ্যায়
পরিচ্ছেদ: আল্লাহর নবীর (ﷺ) উপর সর্বপ্রথম ঈমান আনয়নকারীনি ও তাকে সত্য বলে প্রতিপন্নকারিনী উম্মুল মুমিনীন খাদিজা বিনতি খুয়াইলিদ (রা) এর মর্যাদা
(৯২) আবূ যুর'আ থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি আবূ হুরাইরাকে (রা) বলতে শুনেছি, একদা জিব্রীল (আ) রাসূল (ﷺ) এর নিকট আগমন করে বললেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ্ (ﷺ), ঐ যে খাদীজা আসছেন, তাঁর হাতে রয়েছে একটি পাত্র যার মধ্যে রয়েছে ব্যঞ্জন অথবা খাবার অথবা পানীয়। (যাহোক) তিনি আপনার কাছে আসলে পরে তাঁর রবের ও আমার পক্ষ থেকে তাঁর উপর সালাম পাঠ করবেন; এবং তাঁকে জান্নাতে এমন একটি আলয়ের সুসংবাদ প্রদান করবেন, যা স্বচ্ছ মণি-মুক্তায় নির্মিত এবং যেখানে কোন কোলাহল ও কস্ট-ক্লেশ থাকবে না।
(বুখারী, মুসলিম, তাবারানী ও তাইলাসী)
كتاب سيرة أول النبيين وخاتم المرسلين نبينا محمد بن عبد الله صلى الله عليه وسلم
باب ما ورد فى فضل أم المؤمنين خديجة بنت خويلد
عن أبى زرعة قال سمعت أبا هريرة يقول اتى جبريل النبى صلى الله عليه وسلم فقال يا رسول الله هذه خديجة قد أتتك باناء معها فيه ادام أو طعام أو شراب فاذا أتتك فاقرأ عليها السلام من ربها ومنى وبشرها ببيت فى الجنة من قصب لا صخب فيه ولا نصب

হাদীসের ব্যাখ্যা:

উম্মুল মুমিনীন হযরত খাদীজা রাযি. রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ১ম স্ত্রী। এক ইবরাহীম ছাড়া রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সকল পুত্র-কন্যার জন্ম তাঁরই গর্ভে। তিনি ৬৫ বছর বয়সে নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নবুওয়াতের ১০ম বছর ইন্তিকাল করেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর বৈবাহিক জীবনের দীর্ঘ ২৫ বছর কেবল তাঁকে নিয়েই কাটিয়েছেন। এ সময় তিনি অন্য কোনও বিবাহ করেননি। তাঁর ইন্তিকালে তিনি গভীর বেদনাহত হন। জীবনে কখনও তিনি তাঁকে ভুলতে পারেননি।

হযরত খাদীজা রাযি. ছিলেন সর্বপ্রথম ইসলাম গ্রহণকারী ব্যক্তি। তিনি ইসলাম ও নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের জন্য নিজের সবকিছু উৎসর্গ করে দিয়েছিলেন। সেজন্য আল্লাহ তা'আলার কাছে অতি উচ্চমর্যাদা লাভ করেন। এ হাদীছে তাঁকে জান্নাতের সুসংবাদ দেওয়ার পাশাপাশি সেখানে তাঁর বাড়িটি কেমন হবে তাও জানানো হয়েছে। বলা হয়েছে সে বাড়িটি হবে মুক্তার। বলাবাহুল্য, তা জান্নাতের মুক্তা। দুনিয়ার মুক্তা দিয়ে তার মূল্য ও সৌন্দর্য অনুমান করা সম্ভব নয়।

বলা হয়েছে, সেখানে কোনও শোরগোল ও ক্লান্তি থাকবে না। জান্নাতে তা থাকার কথাও নয়। কারণ জান্নাত কাজকর্ম ও ব্যস্ততার জায়গা নয়। শোরগোল ও ক্লান্তি ব্যস্ততার কারণেই হয়। জান্নাত হল আরাম ও উপভোগের স্থান। সম্মান ও মর্যাদার জায়গা। সেখানে সুখ-শান্তি ও সম্মানের পরিপন্থী কোনওকিছুই ঘটবে না।

হাদীস থেকে শিক্ষণীয়ঃ

ক. এ হাদীছটি দ্বারা হযরত খাদীজা রাযি.-এর উচ্চমর্যাদা সম্পর্কে ধারণা লাভ হয়। জীবিত অবস্থায় যারা জান্নাতের সুসংবাদ লাভ করেছেন, তিনি তাদের অন্যতম।

খ. জান্নাত সত্য। সেখানে অকল্পনীয় সুখ-শান্তির ব্যবস্থা থাকবে। থাকবে দৃষ্টিনন্দন বিলাসিতাপূর্ণ বাড়ি।
ব্যাখ্যা সূত্রঃ_ রিয়াযুস সালিহীন (অনুবাদ- মাওলানা আবুল বাশার মুহাম্মাদ সাইফুল ইসলাম হাফি.)
tahqiqতাহকীক:তাহকীক চলমান