মুসনাদে আহমদ- ইমাম আহমদ রহঃ (আল-ফাতহুর রব্বানী)

সর্বশ্রেষ্ঠ নবী ও সর্বশেষ রাসূল মুহাম্মদ ইব্‌ন আব্দুল্লাহ (ﷺ)-এর জীবনচরিত অধ্যায়

হাদীস নং: ৯১
সর্বশ্রেষ্ঠ নবী ও সর্বশেষ রাসূল মুহাম্মদ ইব্‌ন আব্দুল্লাহ (ﷺ)-এর জীবনচরিত অধ্যায়
পরিচ্ছেদ : খাদীজার (রা) ওফাতের তারিখ এবং রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) কর্তৃক আয়েশা (রা) ও সাওদাকে (রা) বিবাহকরণ
(৯১) আবূ সালামা ও ইয়াহইয়া থেকে বর্ণিত; খাদীজার (রা) ইন্তিকালের পর খাওলা বিনতে হাকীম (উছমান ইব্‌ন মাযউনের স্ত্রী রা.) রাসূলুল্লাহর (ﷺ) কাছে এসে আরজ করলেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ্, আপনি বিয়ে করবেন না? রাসূল (ﷺ) বললেন, কাকে? খাওলা (রা) বললেন, আপনি চাইলে (একজন) কুমারীকে; আর যদি চান (একজন) প্রাপ্তবয়স্কাকে। রাসূল (ﷺ) জিজ্ঞেস করলেন, কুমারী কে? খাওলা (রা) বললেন, আপনার বিবেচনায় যিনি আল্লাহর নিকট সবচেয়ে প্রিয়জন সেই আবুবকরের কন্যা আয়েশা। বললেন, প্রাপ্তবয়স্কা কে? খাওলা (রা) বললেন, যাম'আর কন্যা সাওদা, যিনি ইতিমধ্যে আপনার উপর ঈমান এনেছেন এবং আপনার কথা-বার্তা মেনে চলছেন। রাসূল (ﷺ) বললেন, তাহলে যাও, তাঁদের কাছে আমার (বিয়ের) প্রস্তাব উত্থাপন করে দেখ। অতঃপর খাওলা প্রথমে আবূ বকরের (রা) গৃহে প্রবেশ করেন এবং আবু বকরের স্ত্রী উন্মু রুমানকে উদ্দেশ্য করে বরলেন, আল্লাহ্ তা'আলা তোমার গৃহে কতই না কল্যাণ ও বরকত রেখে দিয়েছেন। তিনি বললেন, সেটা কী? খাওলা (রা) বললেন, আল্লাহর রাসূল (ﷺ) আয়েশার বিয়ের প্রস্তাব নিয়ে আমাকে পাঠিয়েছেন। তিনি (উম্মু রুমান) বললেন, আবু বকর আসা পর্যন্ত (একটু) অপেক্ষা করুন। আবু বকর (রা) গৃহে আসার পর খাওলা বললেন, আল্লাহ্ তা'আলা আপনার গৃহে কতই না কল্যাণ ও বরকত রেখে দিয়েছেন, হে আবু বকর। আবু বকর (রা) বললেন, সেটা কী? খাওলা (রা) বললেন, আল্লাহর রাসূল (ﷺ) আয়েশার বিয়ের প্রস্তাব দিয়ে আমাকে পাঠিয়েছেন। আবু বকর (রা) বললেন, আয়েশা কি তাঁর জন্যে বৈধ হবে, সে তো তাঁর ভাতিজী। সুতরাং আমি রাসূলের (ﷺ) কাছে ফিরে গিয়ে সেই বিবরণ পেশ করলাম। তিনি উত্তরে বললেন, তুমি আবু বকরের কাছে ফিরে গিয়ে বল যে, আমি তাঁর (ধর্মীয়) ভাই আর সেও আমার ইসলামী (ধর্মীয়) ভাই। আর তোমার কন্যা আমার জন্য বৈধ হবে। সুতরাং আমি পুনরায় আবূ বকরের (রা) কাছে আগমন করে রাসূলের (ﷺ) বক্তব্য তাঁর কাছে উপস্থাপন করলাম। তিনি বললেন, (ঠিক আছে) তুমি একটু অপেক্ষা কর। এই বলে তিনি ঘর থেকে বের হয়ে গেলেন। উম্মু রুমান বললেন, (ব্যাপার হচ্ছে) মুত'ইম ইবন আদী তার ছেলের জন্য আয়েশার প্রস্তাব করেছিল। আল্লাহর শপথ, সে (আবু বকর) কখনো কোন ওয়াদা করে ভঙ্গ করেনা। যাহোক, আবু বকর মুত'ইম ইবন 'আদীর নিকট গমন করলেন, সেখানে তাঁর স্ত্রী ওই যুবকের মাও উপস্থিত ছিল। ওই যুবকের মা বললো, হে আবু কুহাফার বেটা, (আবূ বকর) আপনি সম্ভবতঃ আমাদের ছেলের সাথে আপনার মেয়ের বিয়ের মাধ্যমে তাকে আপনার ধর্মে প্রবেশ করাবেন। আবু বকর (রা) এই কথা শুনে মুত'ইমকে বললেন, এই কি আপনারও কথা, যা সে বললো! মুত'ইম বললো, সে (যুবকের মা) তো এইরূপই বলে থাকে। (অর্থাৎ আবূ বকর (রা) এর বুঝতে বাকী রইল না যে, তারা আয়েশার সাথে বিবাহের ব্যাপারে আগ্রহী নয়)। সুতরাং তিনি সেখান থেকে বের হয়ে এলেন এবং তাঁর মনে তার দেয়া ওয়াদা বিষয়ে যে সংশয় ছিল, তা আল্লাহ্ তা'আলা বিদূরিত করে দিলেন। আবু বকর (রা) গৃহে প্রত্যাবর্তন করে খাওলাকে বললেন, রাসূলুল্লাহকে (ﷺ) এখানে নিয়ে আসো। খাওলা (রা) রাসূলুল্লাহকে (ﷺ) ডেকে নিয়ে গেলেন; আর আবূ বকর (রা) আয়েশার সাথে তাঁর বিবাহ সম্পন্ন করে দিলেন। আয়েশা (রা) ঐ সময় ছয় বছরের বালিকা।
অতঃপর খাওলা (রা) পুনরায় বের হলেন এবং সাওদা বিনতে যাম'আর কাছে গেলেন। সেখানে গিয়ে তিনি বললেন, আপনার গৃহে আল্লাহ্ তা'আলা কতই না কল্যাণ ও বরকত রেখেছেন! তিনি বললেন, সেটা কী? খাওলা (রা) বললেন, আল্লাহর রাসূল (ﷺ) বিবাহের প্রস্তাব দিয়ে আমাকে পাঠিয়েছেন। তিনি বললেন, আমি রাজি। তবে আপনি আমার পিতার কাছে যান এবং তাকে এই প্রস্তাবের বিষয় খুলে বলুন। তাঁর পিতা ছিলেন বয়োবৃদ্ধ (বয়সের ভারে ন্যূব্জ)। অধিক বয়সের কারণে তিনি সেই বছর হজ্জও পালন করতে পারেননি। খাওলা (রা) তার কাছে গিয়ে জাহেলিয়াত যুগের প্রথানুযায়ী অভিবাদন করলেন। তিনি বললেন, তুমি কে? উত্তর দিলেন খাওলা বিনতি হাকীম। বললেন, কেন এসেছ? খাওলা (রা) বললেন, আমাকে মুহাম্মদ (ﷺ) ইব্‌ন আবদুল্লাহ সাওদাকে বিয়ের প্রস্তাব দিয়ে প্রেরণ করেছেন। সাওদার পিতা বললেন, মহান পাত্র। তা তোমার বান্ধবী (সাওদা) কী বলে? খাওলা বললেন, তিনি প্রস্তাবে রাজী। পিতা বললেন, তাহলে সাওদাকে আমার কাছে ডাক; আমি তাঁকে ডাকলাম। পিতা বললেন, হে বেটি, এই খাওলা বলছে যে, মুহাম্মদ ইব্‌ন আবদুল্লাহ্ (ﷺ) তোমার বিবাহের প্রস্তাব দিয়ে তাকে পাঠিয়েছেন। তিনি একজন মহান পাত্র। তুমি কি চাও আমি তার সাথে তোমার বিবাহ দিই? সাওদা (রা) বললেন, হ্যাঁ। বৃদ্ধ বললেন, তবে তাঁকে (মুহাম্মদকে) ডেকে নিয়ে আস। অতঃপর রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) তার কাছে আগমন করলেন এবং বৃদ্ধ পিতা তাঁর সাথে কন্যার বিবাহ সম্পন্ন করে দিলেন। বিয়ের পর সাওদার (রা) ভাই আবদ ইবন্ যামআা হজ্জ শেষে প্রত্যাবর্তন করলেন। সে তার মাথায় মাটি ঢেলে দিতে লাগলো (অর্থাৎ রাসূলের (ﷺ) সাথে বোনের বিবাহের প্রতিবাদে)। কিন্তু তিনি (আবদ) ইসলাম গ্রহণের পর বলেছিলেন, আমি কতই না নির্বোধ ছিলাম যে, আমি রাসূলুল্লাহর (ﷺ) সাথে সাওদার বিয়ের দিনে আমার মাথায় মাটি নিক্ষেপ করেছিলাম।
আয়েশা (রা) বলেন, অতঃপর আমরা মদীনায় আগমন করলাম। সেখানে বনু হারিছ ইবনল খাযরাজ গোত্রের অধীন 'সুনহ' নামক স্থানে অবতরণ করলাম। রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) আমাদের (সেখানকার) গৃহে প্রবেশ করলেন। তাঁর আগে অনেক আনসারী নারী ও পুরুষ সমবেত হলো। (এমন সময়) আমার মা আমার কাছে আসলেন। আমি তখন দুই খেজুর শাখায় ঝুলন্ত দোলনায় বসে দোল খাচ্ছিলাম)। মা আমাকে দোলনা থেকে নামালেন। আমার চুল ছিল কাঁধ বরাবর। মা তা দুই ভাগে বিভক্ত করে দিলেন এবং পানি জাতীয় কিছু দ্বারা আমার মুখমণ্ডল মুছে দিলেন। এরপর তিনি আমাকে নিয়ে গৃহপানে অগ্রসর হতে লাগলেন এবং পরিশেষে দরজার কাছে এসে থামলেন। আমি তখনও জোরে নিশ্বাস নিচ্ছিলাম। যখন আমি স্বাভাবিক হলাম, তখন তিনি আমাকে নিয়ে গৃহে প্রবেশ করলেন (আমি আশ্চর্যান্বিত হয়ে) দেখতে পেলাম আল্লাহর রাসূল (ﷺ) আমাদের গৃহের মধ্যে চৌকির উপর উপবিষ্ট। তাঁর কাছে অনেক আনসারী পুরুষ ও মহিলা রয়েছেন। মা আমাকে তাঁর কোলে বসালেন এবং বললেন, এঁরা হচ্ছেন তোমার স্বজন। তাঁদের মধ্যে আল্লাহ্ তা'আলা তোমায় বরকত দান করুন; আর তোমার মাধ্যমে আল্লাহ্ তা'আলা তাদেরকে বরকতময় করুন। নারী-পুরুষ সবাই ভীড় করলেন এবং পরে সবাই বের হয়ে গেলেন। রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) আমার সাথে রইলেন-আমাদের সেই গৃহে। (এই অনুষ্ঠানে) কোন উট যবাহ করা হয়নি এমনকি জবাহ্ করা হয়নি কোন ছাগল। ঐ সময় সা'দ ইবন 'উবাদা খাবার ভর্তি তশতরী আমাদের উদ্দেশ্যে পাঠিয়ে দিলেন। রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) যখন তাঁর স্ত্রীগণের সাথে রাত্রিযাপন করতেন, তখন সা'দ (খাবার পাঠানোর) এ কাজটি বরাবরই করতেন। এই সময় আমি নয় বছরের কিশোরী।
(হাইছামী। এই হাদীসের অংশবিশেষ বর্ণনা করেছেন আহমদ।)
كتاب سيرة أول النبيين وخاتم المرسلين نبينا محمد بن عبد الله صلى الله عليه وسلم
باب ما جاء فى تاريخ وفاة خديجة وزواجه صلى الله عليه وسلم بعائشة وسودة رضي الله عنهن
حدثنا أبو سلمة ويحيى قال لما هلكت خديجة جاءت بنت حكم امرأة عثمان بن مظعون قالت يا رسول الله ألا تزوَّج؟ قال من؟ قالت إن شئت بكرًا وإن شئت ثيبا، قال فمن البكر؟ قالت ابنة أحب خلق الله عز وجل اليك عائشة بنت أبى بكر، قال ومن الثيب؟ قالت سودة ابنة زمعة قد آمنت بك واتبعتك على ما تقول قال فاذهبى فاذكريهما على، فدخلت بيت أبى بكر فقالت يا أم رومان ماذا أدخل الله عليكم من الخير والبركة، قالت وما ذاك؟ قالت أرسلنى رسول الله صلى الله عليه وسلم أخطب عليه عائشة، قالت انتظرى أبا بكر حتى يأتى فجاء أبو بكر فقالت يا أبا بكر ماذا أدخل الله عليكم من الخير والبركة؟ قال وما ذاك، قالت أرسلنى رسول الله صلى الله عليه وسلم أخطب عليه عائشة، قال وهل تصلح له انما هى ابنة أخيه، فرجعت إلى رسول الله صلى الله عليه وسلم فذكرت له ذلك، قال ارجعى اليه فقولى له أنا أخوك وأنت أخى فى الاسلام وابنتك تصلح لى، فرجعت فذكرت ذلك له قال انتظرى وخرج، قالت أم رومان ان مطعم بن عدى قد كان ذكرها على ابنه فوالله ما وعد وعدًا قط فأخلفه لأبى بكر، فدخل أبو بكر رضي الله عنه على مطعم بن عدى وعنده امرأته أم الفتى، فقالت يا ابن أبى قحافة لعلك مصب صاحبنا مدخله فى دينك الذي أنت عليه بسنتين أو ثلاث وأنا بنت سبع سنين إن تزوج البك قال أبو بكر للمطعم بن عدى اقول هذه تقول، قال انها تقول ذلك فخرج من عنده وقد اذهب الله عز وجل ما كان فى نفسه من عدته التى وعده، فرجع فقال ادعى لى رسول الله صلى الله عليه وسلم فدعته فزوجها اياه وعائشة يومئذ بنت ست سنين، ثم خرجت فدخلت على سودة بنت زمعة فقالت ماذا أدخل الله عز وجل عليك من الخير والبركة؟ قالت وما ذاك؟ قالت أرسلنى رسول الله صلى الله عليه وسلم اخطبك عليه، قالت وددت: ادخلى إلى أبى فاذكرى ذاك له: وكان شيخا كبيرًا قد ادركه السن قد تخلف عن الحج فدخلت عليه فحييته بتحية الجاهلية، فقال من هذه؟ فقالت خولة بنت حكيم، قال فما شأنك؟ قالت أرسلنى محمد بن عبد الله صلى الله عليه وسلم اخطب عليه سودة، قال كفء كريم، ماذا تقول صاحبتك؟ قالت تحب ذاك، قال ادعها الى فدعيتها قال أى بنية إن هذه تزعم أن محمد بن عبد الله بن عبد المطلب قد أرسل يخطبك وهو كفء كريم اتحبين أن أزوجك به؟ قالت نعم قال أدعيه لى فجاء رسول الله صلى الله عليه وسلم اليه فزوجها اياه، فجاءها أخوها عبد بن زمعة من الحج فجعل يحثى فى رأسه التراب فقال بعد أن أسلم لعمرك انى لسفيه يوم أحثى فى رأسى التراب ان تزوج رسول الله صلى الله عليه وسلم سودة بنت زمعة قالت عائشة فقدمنا المدينة فنزلنا فى بنى الحارث بن الخزرج في السُّنح قالت فجاء رسول الله صلى الله عليه وسلم فدخل بيتنا واجتمع اليه رجال من الأنصار ونساء فجاءتنى أمى وانى لفى ارجوحة بين عذقين ترجح بى فانزلتنى من الأرجوحة ولى جميمة ففرقتها ومسحت وجهى بشى من ماء ثم أقبلت تقردنى حتى وقفت بى عند الباب وانى لانهج حتى سكن من نفسى ثم دخلت بى فاذا رسول الله صلى الله عليه وسلم جالس على سرير فى بيتنا وعنده رجال ونساء من الأنصار فاجلستنى فى حجرة ثم قالت هؤلاء أهلك فبارك الله لك فيهم وبارك لهم فيك، فوثب الرجال والنساء فخرجوا وبنى بى رسول الله صلى الله عليه وسلم فى بيتنا ما نحرت على جزور ولا ذبحت على شاة حتى أرسل الينا يعد بن عبادة بجفنة كان يرسل بها الى رسول الله صلى الله عليه وسلم اذا دار الى نسائه وأنا يومئذ بنت تسع سنين
tahqiqতাহকীক:তাহকীক চলমান