মুসনাদে আহমদ- ইমাম আহমদ রহঃ (আল-ফাতহুর রব্বানী)
সর্বশ্রেষ্ঠ নবী ও সর্বশেষ রাসূল মুহাম্মদ ইব্ন আব্দুল্লাহ (ﷺ)-এর জীবনচরিত অধ্যায়
হাদীস নং: ৩১
সর্বশ্রেষ্ঠ নবী ও সর্বশেষ রাসূল মুহাম্মদ ইব্ন আব্দুল্লাহ (ﷺ)-এর জীবনচরিত অধ্যায়
পরিচ্ছেদ: রাসূলের (ﷺ) আগমনের সুসংবাদ, তাওরাতে বর্ণিত তাঁর বৈশিষ্ট্য ও নবুওয়াতের নিদর্শনাবলী
(৩১) আবূ সা'ঈদ আল-খুদরী (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, (জনৈক রাখাল ছাগপাল চরাচ্ছিল) নেকড়ে এসে একটি ছাগলের উপর হামলা করল এবং সেটি ধরে ফেলল। রাখাল সেটি খোঁজ করতে থাকল। পরিশেষে নেকড়ের কাছ থেকে ছাগলটি কেড়ে নিল। তখন নেকড়ে তার লেজের উপর (সামনের দু'পা খাড়া করে কুকুরের ন্যায়) বসলো এবং রাখালকে উদ্দেশ্য করে বললো, তুমি কি আল্লাহকে ভয় কর না? তুমি আমার কাছ থেকে আমার রিযিক (খাবার) ছিনিয়ে নিলে, যা আল্লাহ্ আমার কাছে পৌছিয়ে দিয়েছিলেন। রাখাল বলে উঠলো, কী আশ্চর্য! নেকড়েটি তো দেখছি তার লেজের উপর উপবিষ্ট হয়ে আমার সাথে মানুষের ন্যায় কথা বলছে। নেকড়েটি বললো, এ আর কী? এর চেয়েও অধিক আশ্চর্যের বিষয তোমাকে জানাবো নাকি? (শোন) ইয়াসরিবে (মদীনায়) আবির্ভূত মুহাম্মদ (ﷺ) মানুষকে পূর্ববর্তীদের (বিগত উম্মতদের) সংবাদাদি অবহিত করে থাকেন। রাবী বলেন, অতঃপর সেই রাখাল তার ছাগপাল নিয়ে চলে আসে এবং মদীনায় প্রবেশ করে এবং ছাগলগুলোকে মদীনার এক প্রান্তে নির্ধারিত স্থানে রেখে দেয়। অতঃপর সে রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) এর সকাশে হাযির হয়ে ঘটনা খুলে বলে। এই সময় রাসূল (ﷺ) জামাতে সালাত আদায়ের নির্দেশ দেন এবং সেমতে আযান দেওয়া হয়। সালাত সমাপনান্তে রাসূল (ﷺ) বের হয়ে আসেন এবং রাখালকে বলেন, মানুষকে তোমার এই ঘটনা অবহিত কর। সে তাদেরকে তা অবহিত করল। আল্লাহর রাসূল (ﷺ) বললেন, রাখাল সত্য বলেছে। আমার জীবন যাঁর হাতে, সেই সত্তার শপথ, কিয়ামত সংঘটিত হবে না যতক্ষণ পর্যন্ত না হিংস্রপ্রাণী মানুষের সাথে কথা বলবে। লোকের সাথে কথা বলবে তার লাঠির মাথা, তার জুতার ফিতা এবং তাকে তার উরুদেশ অবহিত করবে, তার অনুপস্থিতিতে তার স্ত্রী কী ঘটিয়েছে।
একই রাবী (অর্থাৎ আবূ সা'ঈদ খুদরী (রা) থেকে অন্য বর্ণনায় এসেছে, নবী করীম (ﷺ) বলেন, একদা জনৈক বেদুঈন মদীনার কোন এক প্রান্তে ছাগপাল চরাচ্ছিল। নেকড়ে এসে তার এক ছাগলের উপর চড়াও হয় এবং একটি ছাগল নিয়ে যায়। (বাকী অংশ পূর্বের বর্ণনার ন্যায়, তবে এতে বলা হয়েছে- নেকড়ে বেদুঈনকে বললো) রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) আছেন দুই হাররার মাঝখানে কঙ্করময় ও কৃষ্ণকায় ভূমিতে (অর্থাৎ মদীনা শরীফে)। তিনি মানুষকে অতীতকালের ঘটনাবলী ও ভবিষ্যতে সংঘটিতব্য বিষয়ের সংবাদ প্রদান করে থাকেন। অতঃপর বেদুঈন ছাগল নিয়ে আসে এবং মদীনার পার্শ্বে কোন এক স্থানে ছাগলগুলোকে জড়ো করে রাখে। পরে সে নবীর (ﷺ) সকাশে উপস্থিত হয়ে দরজার কড়া নাড়ে। (রাসূল (ﷺ) তখন নামায আদায় করছিলেন)। নামায শেষে রাসূল (ﷺ) বললেন, রাখাল বেদুঈন কোথায়? বেদুঈন তখন দণ্ডায়মান হলে রাসূল (ﷺ) তাকে বললেন, তুমি যা শুনেছ এবং দেখেছ তা মানুষের মধ্যে প্রচার করে দাও।
(একই রাবী থেকে তৃতীয় বর্ণনায় এসেছে) আসলাম গোত্রীয় এক ব্যক্তি যুল-হুলাইফা উপত্যকায় তার ছাগপাল চরাচ্ছিল। এমন সময় এক নেকড়ে এসে আক্রমণ করলো এবং তার পাল থেকে একটি ছাগল নিয়ে গেল। লোকটি তৎক্ষণাৎ জোরে হুঙ্কার দিয়ে নেকড়ের প্রতি একটি পাথর নিক্ষেপ করলো, ফলে ছাগলটি নেকড়ের কবল থেকে রক্ষা পেল। কিন্তু (তাতে নেকড়েটি চলে গেল না) নেকড়েটি লোকটির দিকে অগ্রসর হয়ে লেজের উপর ভর দিয়ে লোকটির সামনা-সামনি বসলো...। হাদীসের বাকী অংশটি শু'আইব ইব্ন আবী হামযার হাদীসের অনুরূপ।
(আল-কাস্তাল্লানী, তিরমিযী ও হাকেম)
একই রাবী (অর্থাৎ আবূ সা'ঈদ খুদরী (রা) থেকে অন্য বর্ণনায় এসেছে, নবী করীম (ﷺ) বলেন, একদা জনৈক বেদুঈন মদীনার কোন এক প্রান্তে ছাগপাল চরাচ্ছিল। নেকড়ে এসে তার এক ছাগলের উপর চড়াও হয় এবং একটি ছাগল নিয়ে যায়। (বাকী অংশ পূর্বের বর্ণনার ন্যায়, তবে এতে বলা হয়েছে- নেকড়ে বেদুঈনকে বললো) রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) আছেন দুই হাররার মাঝখানে কঙ্করময় ও কৃষ্ণকায় ভূমিতে (অর্থাৎ মদীনা শরীফে)। তিনি মানুষকে অতীতকালের ঘটনাবলী ও ভবিষ্যতে সংঘটিতব্য বিষয়ের সংবাদ প্রদান করে থাকেন। অতঃপর বেদুঈন ছাগল নিয়ে আসে এবং মদীনার পার্শ্বে কোন এক স্থানে ছাগলগুলোকে জড়ো করে রাখে। পরে সে নবীর (ﷺ) সকাশে উপস্থিত হয়ে দরজার কড়া নাড়ে। (রাসূল (ﷺ) তখন নামায আদায় করছিলেন)। নামায শেষে রাসূল (ﷺ) বললেন, রাখাল বেদুঈন কোথায়? বেদুঈন তখন দণ্ডায়মান হলে রাসূল (ﷺ) তাকে বললেন, তুমি যা শুনেছ এবং দেখেছ তা মানুষের মধ্যে প্রচার করে দাও।
(একই রাবী থেকে তৃতীয় বর্ণনায় এসেছে) আসলাম গোত্রীয় এক ব্যক্তি যুল-হুলাইফা উপত্যকায় তার ছাগপাল চরাচ্ছিল। এমন সময় এক নেকড়ে এসে আক্রমণ করলো এবং তার পাল থেকে একটি ছাগল নিয়ে গেল। লোকটি তৎক্ষণাৎ জোরে হুঙ্কার দিয়ে নেকড়ের প্রতি একটি পাথর নিক্ষেপ করলো, ফলে ছাগলটি নেকড়ের কবল থেকে রক্ষা পেল। কিন্তু (তাতে নেকড়েটি চলে গেল না) নেকড়েটি লোকটির দিকে অগ্রসর হয়ে লেজের উপর ভর দিয়ে লোকটির সামনা-সামনি বসলো...। হাদীসের বাকী অংশটি শু'আইব ইব্ন আবী হামযার হাদীসের অনুরূপ।
(আল-কাস্তাল্লানী, তিরমিযী ও হাকেম)
كتاب سيرة أول النبيين وخاتم المرسلين نبينا محمد بن عبد الله صلى الله عليه وسلم
باب ما جاء في العلامات الدالة على نبوته والتبشير بمبعثه صلى الله عليه وسلم وصفته في التوارة
عن أبى سعيد الخدرى (4) قال عدا الذئب على شاة فأخذها فطلبه الراعى فانتزعها منه فأقعى (5) الذئب على ذنبه قال ألا تتقى الله تنزع عنى رزقا ساقه الله إلى؟ فقال ياعجبى ياعجبى مقع على ذنبه يكلمنى كلام الإنس، فقال الذئب ألا أخبرك بأعجب من ذلك، محمد صلى الله عليه وسلم بيرب (6) يخبر الناس بانباء ما قد سبق (7) قال فأقبل الراعى يسوق غنمه حتى دخل المدينة فزواها (8) الى زواية من زواياها ثم إتى رسول الله صلى الله عليه وسلم فأخبره: فأمر رسول الله صلى الله عليه وسلم فنودى الصلاة جامعة: ثم خرج فقال للراعى أخبرهم (9) فأخبرهم فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم صدق، والذي نفسى بيده لا تقوم الساعة حتى يكلم السباع الأنس، ويكلم الرجل عذبة (10) سوطه وشراك نعله ويخبره فخذه بما أحدث أهله (11) بعده (وعنه من طريق ثان) (12) عن النبي صلى الله عليه وسلم قال بينا اعرابى فى بعض نواحى المدينة فى غنم له عدا عليه الذئب فأخذ شاة من غنمه (فذكر نحو الطريق الأولى، وفيه أن الذئب قال للأعرابى) رسول الله صلى الله عليه وسلم فى النخلتين بين الحرتين يحدث الناس عن نباء ما قد سبق وما يكون بعد ذلك قال فنعق الاعرابى بغنمه حتى الجأها الى بعض المدينة ثم مشى الى النبى صلى الله عليه وسلم حتى ضرب عليه بابه فلما صلى النبي صلى الله عليه وسلم وقال أين الاعرابي صاحب الغنم؟ فقام الأعرابي فقال له النبي صلى الله عليه وسلم حدث الناس بما سمعت وما رأيت الحديث (وعنه من طريق ثالث) قال بينا رجل من أسلم فى غنيمة له يهش عليها فى بيداء ذى الحليفة إذ عدا عليه ذئب فانتزع شاة من غنمه فجهجأه الرجل فرماه بالحجارة حتى استنقذ منه شاته، ثم أن الذئب أقبل حتى أقعى مستثفرا بذنبه مقابل الرجل: فذكره نحو حديث شعيب بن أبي حمزة