মুসনাদে আহমদ- ইমাম আহমদ রহঃ (আল-ফাতহুর রব্বানী)

সর্বশ্রেষ্ঠ নবী ও সর্বশেষ রাসূল মুহাম্মদ ইব্‌ন আব্দুল্লাহ (ﷺ)-এর জীবনচরিত অধ্যায়

হাদীস নং: ১৩
সর্বশ্রেষ্ঠ নবী ও সর্বশেষ রাসূল মুহাম্মদ ইব্‌ন আব্দুল্লাহ (ﷺ)-এর জীবনচরিত অধ্যায়
পরিচ্ছেদ: রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) এর জন্ম
(১৩) আবূ উমামা (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি জিজ্ঞেস করলাম, ইয়া নাবীয়্যাল্লাহ (ﷺ) আপনার সূচনার বিষয়টি কীরূপ? তিনি বলেন, (আমি) আমার পিতা ইব্রাহীমের (আ) দোয়া, ঈসার (আ) সুসংবাদ এবং আমার জননীর স্বপ্নে দেখা আলোকরশ্মি, যদ্বারা সিরিয়ার প্রাসাদগুলো আলোকিত হয়ে গিয়েছিল।
(হাইছামী ও তাবারানী, এর সনদ হাসান)
كتاب سيرة أول النبيين وخاتم المرسلين نبينا محمد بن عبد الله صلى الله عليه وسلم
باب ما جاء في ذكر مولده صلى الله عليه وسلم
عن أبي أمامة (3) قال قلت يا نبي الله كان كان أول بدء أمرك؟ قال دعوة أبي إبراهيم، وبشرى عيسى، ورأت أمي نورًا أضاءت منها قصور الشام

হাদীসের ব্যাখ্যা:

কুরআন মাজীদের সূরা বাকারার ১২৭ ও ১২৮ নং আয়াতে বর্ণনা করা হয়েছে যে, যখন আল্লাহর খলীল হযরত ইবরাহীম (আঃ) স্বীয় পুত্র হযরত ইসমাঈল (আঃ)-কে নিয়ে কা'বা ঘর নির্মাণ করছিলেন, তখন তাঁরা এ দু‘আও করেছিলেন যে, হে আমাদের প্রতিপালক! আমাদের বংশধর থেকে এমন একটি উম্মত সৃষ্টি করুন, যারা আপনার অনুগত হবে এবং তাদের নিকট তাদের মধ্য থেকেই এমন একজন রাসূল প্রেরণ করুন, যিনি তাদেরকে আপনার আয়াতসমূহ তিলাওয়াত করে শোনাবেন, কিতাব ও হেকমতের তা'লীম দিবেন এবং তাদেরকে পরিশুদ্ধ করবেন। আর সূরা সফের ৬নং আয়াতে বলা হয়েছে যে, যখন আল্লাহ্ তা'আলা হযরত ঈসা (আঃ)-কে নবী বানিয়ে নিজ সম্প্রদায় বনী ইসরাঈলের নিকট প্রেরণ করলেন, তখন তিনি তাদেরকে বলেছিলেন যে, আমাকে আল্লাহ্ তা'আলা যেসব কাজের জন্য প্রেরণ করেছেন, এগুলোর মধ্যে একটি এটাও যে, আমি ঐ মহান নবীর আগমনের সুসংবাদ দিব, যিনি আমার পরে আসবেন এবং তার নাম হবে আহমাদ। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) নিজের এ বক্তব্যে কুরআন মজীদের ঐসব আয়াতের দিকে ইশারা করতে গিয়ে বলেছেন যে, আমি ইবরাহীম (আঃ)-এর দু‘আর ফসল এবং আমি ঈসা (আঃ)-এর সুসংবাদের বহিঃপ্রকাশ। সামনে তিনি বলেছেন যে, আমি ঐ স্বপ্নের বাস্তবরূপ, যা আমার মা আমার জন্মের সময় দেখেছিলেন যে, এমন এক অভাবনীয় নূর দৃষ্ট হয়েছে- যার আলো আমার মায়ের সামনে শামদেশের সুউচ্চ মহলগুলো উদ্ভাসিত করে দিয়েছে এবং আমার মা এ নূরের আলোতে ঐগুলো দেখে নিয়েছেন।

এ স্বপ্ন রাসূলুল্লাহ (ﷺ)এর মা হুযুর (ﷺ)-এর জন্মের কাছাকাছি সময়ে সম্ভবত ঐ রাতেই দেখেছিলেন, যে রাত শেষে প্রভাতে তাঁর জন্ম হয়। শাম দেশের বৈশিষ্ট্য এই যে, এটা নবী-রাসূলদের পুণ্যভূমি, আর এখানেই সে বায়তুল মুকাদ্দাস অবস্থিত, যা বনী ইসরাঈলের সকল নবীর কেবলা ছিল।

আমি হাদীসের শব্দ رؤيا-এর অনুবাদ যেমন 'স্বপ্ন' হতে পারে। তেমনি এ অর্থও হতে পারে যে, হুযুর (ﷺ)-এর মা এ নূরের প্রকাশ এবং এর আলোতে শাম দেশের প্রাসাদগুলো ঠিক জন্মের সময় জাগ্রত অবস্থায় দেখেছিলেন। অন্যান্য কিছু বর্ণনা দ্বারা এমনটাই জানা যায়। আর এটাও হতে পারে যে, জন্মের পূর্বে ঘুমন্ত অবস্থায় স্বপ্ন দেখেছিলেন, তারপর ঠিক জন্মের মুহর্তে জাগ্রত অবস্থায় চোখেও দেখেছিলেন। যাহোক, এ নূরের প্রকাশ এবং এর আলোতে শাম দেশের প্রাসাদগুলো দৃষ্ট হওয়া এ কথার নিদর্শন ছিল যে, আল্লাহ্ তা'আলা এ ভাগ্যবান নবজাতক শিশু দ্বারা হেদায়াতের নূর অতিদ্রুত শাম দেশ পর্যন্ত পৌঁছিয়ে দিবেন- যা হাজার হাজার বছর পর্যন্ত হেদায়াতের কেন্দ্রভূমি ছিল এবং বায়তুল মুকাদ্দাসকে যারা কেবলা মানে, ঐসব সম্প্রদায়ও ঐ নূর দ্বারা আলোকিত ও ধন্য হবে, যেমনটি বাস্তবে ঘটেছে। পাশাপাশি পৃথিবীর প্রতিটি কোণে এ নূর দিনে দিনে পৌঁছে যাবে এবং কিয়ামত পর্যন্ত তা চলতে থাকবে।
ব্যাখ্যা সূত্রঃ_ মা'আরিফুল হাদীস (মাওলানা মনযূর নোমানী রহ.)
tahqiqতাহকীক:তাহকীক চলমান