মুসনাদে আহমদ- ইমাম আহমদ রহঃ (আল-ফাতহুর রব্বানী)

প্রশংসা ও ভর্ৎসনা সম্পর্কে অধ্যায়

হাদীস নং: ১১
প্রশংসা ও ভর্ৎসনা সম্পর্কে অধ্যায়
পরিচ্ছেদ: যে ধরনের প্রশংসা করা জায়েয নেই
১১. তাঁর থেকে আরো বর্ণিত। আবু মা'মার (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, এক ব্যক্তি দাঁড়িয়ে কোন এক আমিরের প্রশংসা করছিল (তিনি ছিলেন উছমান রা)। তখন মিকদাদ (রা) ধুলা-বালি নিয়ে তার মুখে নিক্ষেপ করে বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আমাদেরকে চাটুকারের মুখে ধুলা-বালি নিক্ষেপ করার নির্দেশ দেন।
كتاب المدح والذم
باب مالا يجوز من المدح
وعنه أيضا (11) عن أبي معمر قال قام رجل يثني على أمير من الأمراء (1) فجعل المقداد يحثى في وجهه التراب وقال أمرنا رسول الله صلى الله عليه وسلم أن نحثي في وجوه المداحين التراب

হাদীসের ব্যাখ্যা:

এ হাদীসে 'অধিক প্রশংসাকারী' দ্বারা সম্ভবত ঐসব লোক উদ্দেশ্য, যারা মানুষের তোষামোদ ও চাটুকারিতার জন্য এবং পেশাগতভাবে তাদের সীমাতিরিক্ত প্রশংসা ও কাব্যগাথা রচনা করে। এ হাদীসে বলা হয়েছে যে, যখন এসব লোকের সাথে তোমাদের দেখা হয় এবং তারা তোমাদের মুখের উপর তোমাদের সীমাতিরিক্ত প্রশংসা করতে শুরু করে, তখন তাদের মুখে মাটি ছিটিয়ে দাও। এর একটি অর্থ এমন বর্ণনা করা হয়েছে যে, তাদেরকে কোন প্রকার পুরস্কার ও বখশিশ দিয়ো না। তাই মুখে মাটি ছিটিয়ে দেওয়ার অর্থ যেন এই হল যে, তাদেরকে কিছু দিয়ো না; বরং তাদেরকে ব্যর্থ মনোরথ ও বঞ্চিত অবস্থায় ফিরিয়ে দাও। আরেকটি অর্থ এই বলা হয়েছে যে, অতি প্রশংসাকারীদেরকে বলে দাও যে, তোমাদের মুখে মাটি পড়ুক। যেন একথা বলাই তাদের মুখে মাটি নিক্ষেপ করার শামিল। কেউ কেউ আক্ষরিক অর্থেই মাটি ছিটানোর অর্থ গ্রহণ করেছেন। হাদীসটির রাবী হযরত মেকদাদ ইবনুল আসওয়াদ একবার এক ব্যক্তি তার উপস্থিতিতে হযরত উসমান রাযি.-এর সামনে তার প্রশংসা করল। তিনি তখন এ হাদীসের উপর আমল করতে গিয়ে ভূমি থেকে কিছু মাটি নিয়ে তার মুখে নিক্ষেপ করলেন। পরবর্তী যুগের কোন কোন মনীষী থেকেও এ ধরনের ঘটনা বর্ণিত রয়েছে।

একথা প্রকাশ থাকা চাই যে, যদি ভালো নিয়্যতে এবং কোন দ্বীনি কল্যাণের খাতিরে আল্লাহর কোন বান্দার সত্যিকার প্রশংসা তার সামনে অথবা পশ্চাতে করা হয় এবং এ আশংকা না থাকে যে, সে আত্মম্ভরিতা ও নিজের ব্যাপারে কোন ভ্রান্ত আত্মতৃপ্তির মধ্যে লিপ্ত হয়ে যাবে, তাহলে এ ধরনের প্রশংসা নিষেধ নয়; বরং ইন্‌শাআল্লাহ ভালো নিয়্যত অনুযায়ী সে সওয়াব ও প্রতিদানের অধিকারী হবে। স্বয়ং রাসূলুল্লাহ (ﷺ) কোন কোন সাহাবীর এবং কোন কোন সাহাবী অন্য কোন সাহাবীর যে প্রশংসা কখনো করেছেন, এটা এ প্রকারেরই ছিল।
ব্যাখ্যা সূত্রঃ_ মা'আরিফুল হাদীস (মাওলানা মনযূর নোমানী রহ.)
tahqiqতাহকীক:তাহকীক চলমান
মুসনাদে আহমদ- ইমাম আহমদ রহঃ - হাদীস নং ১১ | মুসলিম বাংলা