মুসনাদে আহমদ- ইমাম আহমদ রহঃ (আল-ফাতহুর রব্বানী)

রসনার ক্ষতি সম্পর্কে অধ্যায়

হাদীস নং: ৬৮
রসনার ক্ষতি সম্পর্কে অধ্যায়
পরিচ্ছেদ: ঘুরাইয়া–ফিরাইয়া কপটভাবে কথা বলা সম্পর্কে যা বর্ণিত হয়েছে
৬৮. উরওয়া ইবন যুবায়র (রা) থেকে বর্ণিত। 'আয়েশা (রা) তাকে সংবাদ দিয়েছেন যে, এক ব্যক্তি নবী করিম (ﷺ)-এর কাছে প্রবেশের অনুমতি চাইলে তিনি বলেন, তাকে অনুমতি দাও। এ ব্যক্তি ছিল নিজের বংশের মধ্যে খুবই নিকৃষ্ট মাস্তান, অথবা নিজের বংশের মধ্যে খুবই নিকৃষ্ট লোক, একবার বললেন নিকৃষ্ট ব্যক্তি। (সে ব্যক্তি ছিল উয়াইনা ইব্‌ন হিসন সে সময় সে ইসলাম গ্রহণ করেনি। সেজন্য রাসূল (ﷺ) তার অবস্থা বর্ণনা করেন।) যখন সে তার নিকট প্রবেশ করে, তখন তিনি তার সাথে কোমল স্বরে কথা বলেন। সে যখন বের হয়ে গেল, 'আয়েশা বলেন, তখন আমি জিজ্ঞেস করলাম, লোকটি সম্পর্কে যা বলার তা বলেছেন, তারপর তার সাথে কোমল স্বরে কথা বলেছেন। তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, হে 'আয়েশা, মানুষ যাকে অশ্লীলতা ও কুকর্মের কারণে বর্জন করে, বা পরিত্যাগ করে, সে ব্যক্তি কিয়ামতের দিন আল্লাহ্ কাছে সবচেয়ে নিকৃষ্ট বলে গণ্য হবে।
(অন্য শব্দে) নিকৃষ্ট মানুষ হলো- যাদের কুকর্ম থেকে বাচার জন্য তাদেরকে সম্মান করা হয়।
كتاب آفات اللسان
باب ما جاء في الترهيب من تشقيق الكلام والتشدق فيه وما جاء في البيان في القول
عن عروة بن الزبير (1) أن عائشة رضي الله عنها اخبرته ان رجلا استأذن على النبي صلى الله عليه وسلم فقال ائذنوا له فبئس ابن العشيرة أو بئس أخو العشيرة وقال مرة رجل (2) فلما دخل عليه ألان له القول فلما خرج قالت عائشة له الذي قلت ثم النت له القوم فقال أي عائشة شر الناس منزلة عند الله يوم القيامة من ودعه الناس أو تركه الناس اتقاء فحشه (وفي لفظ) ان من شرار الناس أو شر الناس الذين يكرمون اتقاء شرهم

হাদীসের ব্যাখ্যা:

এখানে রাসূলুল্লাহ ﷺ এর উত্তরের সারমর্ম এই যে, কোন মানুষ যদি মন্দ ও দুষ্টও হয়, তবুও তার সাথে কথা নম্রতা ও ভদ্রতার সাথেই বলতে হবে। অন্যথায় মন্দভাষা ও কটুকথার প্রতিক্রিয়া এই হয় যে, এমন ব্যক্তির সাথে সাক্ষাত করতে ও কথা বলতে মানুষ পলায়নপর হয়ে যায়। আর যে ব্যক্তির অবস্থা এই হয়, সে আল্লাহর নিকট খুবই মন্দ এবং কেয়ামতের দিন তার অবস্থা হবে খুবই খারাপ। এ হাদীসটি সম্পর্কে কয়েকটি কথা বুঝে নেওয়া উচিতঃ-

(১) রাসূলুল্লাহ ﷺ এ ব্যক্তির আগমনের পূর্বেই উপস্থিত লোকদেরকে তার মন্দ হওয়ার অবগতি সম্ভবতঃ এজন্য দিয়েছিলেন, যাতে তারা তার সামনে সতর্ক হয়ে কথা বলে এবং এমন কোন কথা যেন না বলে ফেলে, যা কোন দুষ্ট ও খারাপ মানুষের সামনে বলা যায় না। এমন কোন পরিণামদর্শিতার কারণে কারো কোন দোষের ব্যাপারে অন্যদেরকে সতর্ক করা গীবত ও পরনিন্দার মধ্যে গণ্য নয়; বরং এমন করার নির্দেশ রয়েছে। যেমন, এক হাদীসে এসেছে যে, রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন: পাপাচারী ও খারাপ মানুষের মধ্যে যে দোষ থাকে, তা লোকদেরকে বলে দাও, যাতে আল্লাহর বান্দারা তার অনিষ্ট থেকে বাঁচতে পারে। কানযুল উম্মাল

(২) এ হাদীস থেকে একথাও জানা গেল যে, কোন ব্যক্তি মন্দ ও দুষ্ট হলেও তার সাথে নরমভাবেই কথা বলতে হবে। এ ঘটনা সম্পর্কেই এক বর্ণনায় এ শব্দমালা এসেছে: রাসূলুল্লাহ ﷺ লোকটির সাথে হাসিমুখে সাক্ষাত করলেন ও কথাবার্তা বললেন। এর দ্বারা বুঝা গেল যে, যারা এ ধারণা পোষণ করে যে, পাপাচারী ও মন্দ স্বভাবের লোকদের সাথে ভালভাবে সাক্ষাত করাও উচিত নয়, এ ধারণা ঠিক নয়।

রাসূলুল্লাহ ﷺ এর প্রসিদ্ধ সাহাবী হযরত আবুদ্দারদা (রা) থেকে ইমাম বুখারী উদ্ধৃত করেছেন যে, তিনি বলতেন: আমরা অনেক এমন মানুষের সাথেও হাসিমুখে সাক্ষাত করি এবং কথা বলি, যাদের অবস্থা ও কর্মের কারণে আমাদের অন্তর তাদেরকে অভিসম্পাত করে। তবে বিশেষ কোন ক্ষেত্রে কঠোর আচরণ ও অসন্তুষ্টি প্রকাশের মধ্যেই যদি কল্যাণ নিহিত থাকে, তাহলে সেখানে এমন পন্থা অবলম্বন করাও ঠিক হবে।

(৩) এ হাদীসেরই এক বর্ণনায় রয়েছে যে, হযরত আয়েশা (রা) যখন রাসূলুল্লাহ ﷺকে জিজ্ঞাসা করলেন, যে ব্যক্তি সম্পর্কে আপনি নিজেই বলেছিলেন যে, লোকটি খুবই খারাপ, তার সাথে আপনি আবার কেমন করে হাসিমুখে কথা বললেন? রাসূলুল্লাহ ﷺ তখন উত্তর দিলেন: হে আয়েশা! আল্লাহ্ তা'আলা কটুভাষী ব্যক্তিকে পছন্দ করেন না। মর্ম এই যে, কটুকথা বলার অভ্যাস মানুষকে আল্লাহর ভালবাসা থেকে বঞ্চিত করে দেয়। তাই আমি কেমন করে এ দোষে লিপ্ত হতে পারি।
ব্যাখ্যা সূত্রঃ_ মা'আরিফুল হাদীস (মাওলানা মনযূর নোমানী রহ.)
tahqiqতাহকীক:তাহকীক চলমান
মুসনাদে আহমদ- ইমাম আহমদ রহঃ - হাদীস নং ৬৮ | মুসলিম বাংলা