মুসনাদে আহমদ- ইমাম আহমদ রহঃ (আল-ফাতহুর রব্বানী)
রসনার ক্ষতি সম্পর্কে অধ্যায়
হাদীস নং: ৫৪
রসনার ক্ষতি সম্পর্কে অধ্যায়
পরিচ্ছেদ: ঠাট্টা, তামাশা ও সে ক্ষেত্রে মিথ্যা থেকে ভীতি প্রদর্শন
৫৪. 'আবদুল্লাহ ইব্ন যাম'য়া (রা) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) একদিন ভাষণ দিতে দাঁড়িয়ে তাদের বায়ু নির্গত হওয়ার কারণে যে শব্দ হতো, তা শুনে যারা হাসাহাসি করছিল, তাদেরকে উপদেশ দিয়ে বললেন, তোমাদের কেউ এমন কাজ নিয়ে হাসাহাসি কেন কর যা সে নিজেও করে?
كتاب آفات اللسان
باب ما جاء في المزاح والترهيب من الكذب فيه
عن عبد الله بن زمعة (8) قال خطب رسول الله صلى الله عليه وسلم ثم وعظهم في ضحكهم من الضرطة فقال علام يضحك أحدكم على ما يفعل
হাদীসের ব্যাখ্যা:
হাস্যকর অহেতুক হাসি
প্রিয়নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন (তোমাদের প্রত্যেকে এমন কাজে কেন হাসে, যা নিজে করে?!)। অর্থাৎ বায়ুত্যাগের বিষয়টি মানুষের স্বভাবগত, যা সকলেই করে। যে কাজ স্বাভাবিকভাবেই সকলেই করে তা কোনও হাসির বিষয় হতে পারে না। হাসির কারণ হল এমন বিষয়, যে বিষয়টি হয় আশ্চর্যজনক ও বিরল। এরূপ ক্ষেত্রে মানুষ মুচকি হাসবে। আশ্চর্য ও বিরলতার মাত্রা একটু বেশি হলে সে হাসি হবে শব্দ করে। যদি অধিকতর আশ্চর্যজনক হয়, তখন আসে অট্টহাসির পালা। কিন্তু যে বিষয়টি স্বভাবগত এবং যা সচরাচরই ঘটে, তাতে আশ্চর্যের কিছু নেই। তাই হাসিরও ব্যাপার নেই, বিশেষত যখন সকলের দ্বারাই তা হয়ে যায়। বরং এরূপ ক্ষেত্রে হাসাহাসি করাই হবে হাস্যকর। এটা ব্যক্তিত্বের পরিপন্থী কাজ ও লঘু চরিত্রের পরিচায়ক। আবার এরকম হাসি যার প্রতি হয়, তাকে একরকম হেয় করা হয় ও লজ্জা দেওয়া হয়। সেদিক থেকে এটি অনুচিত কাজও বটে।
অবশ্য অধিকাংশ লোকেরই চরিত্রে ব্যক্তিত্বের বড় অভাব। একরকম লঘুত্ব দ্বারাই যেন সকলে চালিত। তাই এ জাতীয় কাজে অধিকাংশের আপনা-আপনিই হাসি এসে যায়। অতএব যাদের বায়ুচাপ দেখা দেয়, তাদের নিজেদেরই সতর্ক হওয়া ভালো। তাদের উচিত লোকসম্মুখ থেকে উঠে গিয়ে নিরালা কোথাও সেরে আসা।
হাদীস থেকে শিক্ষণীয়ঃ
ক. স্বভাব-প্রকৃতিগত কাজ হাসির কারণ হতে পারে না। কাজেই এরূপ কাজে হাসতে নেই।
খ. যে দোষ নিজের মধ্যেও আছে, সে দোষের কারণে অন্যকে নিন্দা-তিরস্কার করা একটি নিন্দনীয় কাজ।
প্রিয়নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন (তোমাদের প্রত্যেকে এমন কাজে কেন হাসে, যা নিজে করে?!)। অর্থাৎ বায়ুত্যাগের বিষয়টি মানুষের স্বভাবগত, যা সকলেই করে। যে কাজ স্বাভাবিকভাবেই সকলেই করে তা কোনও হাসির বিষয় হতে পারে না। হাসির কারণ হল এমন বিষয়, যে বিষয়টি হয় আশ্চর্যজনক ও বিরল। এরূপ ক্ষেত্রে মানুষ মুচকি হাসবে। আশ্চর্য ও বিরলতার মাত্রা একটু বেশি হলে সে হাসি হবে শব্দ করে। যদি অধিকতর আশ্চর্যজনক হয়, তখন আসে অট্টহাসির পালা। কিন্তু যে বিষয়টি স্বভাবগত এবং যা সচরাচরই ঘটে, তাতে আশ্চর্যের কিছু নেই। তাই হাসিরও ব্যাপার নেই, বিশেষত যখন সকলের দ্বারাই তা হয়ে যায়। বরং এরূপ ক্ষেত্রে হাসাহাসি করাই হবে হাস্যকর। এটা ব্যক্তিত্বের পরিপন্থী কাজ ও লঘু চরিত্রের পরিচায়ক। আবার এরকম হাসি যার প্রতি হয়, তাকে একরকম হেয় করা হয় ও লজ্জা দেওয়া হয়। সেদিক থেকে এটি অনুচিত কাজও বটে।
অবশ্য অধিকাংশ লোকেরই চরিত্রে ব্যক্তিত্বের বড় অভাব। একরকম লঘুত্ব দ্বারাই যেন সকলে চালিত। তাই এ জাতীয় কাজে অধিকাংশের আপনা-আপনিই হাসি এসে যায়। অতএব যাদের বায়ুচাপ দেখা দেয়, তাদের নিজেদেরই সতর্ক হওয়া ভালো। তাদের উচিত লোকসম্মুখ থেকে উঠে গিয়ে নিরালা কোথাও সেরে আসা।
হাদীস থেকে শিক্ষণীয়ঃ
ক. স্বভাব-প্রকৃতিগত কাজ হাসির কারণ হতে পারে না। কাজেই এরূপ কাজে হাসতে নেই।
খ. যে দোষ নিজের মধ্যেও আছে, সে দোষের কারণে অন্যকে নিন্দা-তিরস্কার করা একটি নিন্দনীয় কাজ।
ব্যাখ্যা সূত্রঃ_ রিয়াযুস সালিহীন (অনুবাদ- মাওলানা আবুল বাশার মুহাম্মাদ সাইফুল ইসলাম হাফি.)