মুসনাদে আহমদ- ইমাম আহমদ রহঃ (আল-ফাতহুর রব্বানী)

কবীরা ও অন্যান্য গুনাহের বর্ণনা অধ্যায়

হাদীস নং: ৮৩
কবীরা ও অন্যান্য গুনাহের বর্ণনা অধ্যায়
পরিচ্ছেদ : নিফাকী ও মুনাফিকী এবং দ্বিমুখী নীতির প্রতি ভীতি প্রদর্শন
৮৩. আবূ হুরায়রা (রা) থেকে বর্ণিত। নবী করিম (ﷺ) বলেছেন, কিয়ামতের দিন দ্বিমুখী চরিত্রের লোকেরা আল্লাহর কাছে নিকৃষ্ট লোক হিসাবে গণ্য হবে; আর সে হলো- যে ব্যক্তি এর কথা ওর কানে এবং ওর কথা এর কানে দিয়ে থাকে।
(বুখারী, তিরিমিযী)
তার দ্বিতীয় বর্ণনায়, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন, তুমি নিকৃষ্ট লোক দেখতে পাবে। আবু ইয়ালা বলেন, কিয়ামতের দিন আল্লাহর নিকট নিকৃষ্ট মানুষ হিসেবে দেখতে পাবে দ্বিমুখী চরিত্রের লোককে। ইব্‌ন নাসির (একজন বর্ণনাকারী) বলেন, সে হলো যে ব্যক্তি এর কথা ওর কানে এবং ওর কথা এর কানে দিয়ে থাকে।
তিনি পুনরায় বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেন, দ্বিমুখী চরিত্রের লোক কখনও আমানতদার হওয়ার উপযুক্ত নয়।
كتاب الكبائر وأنواع اخرى من المعاصي
باب ما جاء في الترهيب من النفاق وذكر المنافقين وخصالهم وذي الوجهين
وعنه أيضا (5) يبلغ به النبي صلى الله عليه وسلم قال تجد من شر الناس ذو الوجهين الذي يأتي هؤلاء بوجه وهؤلاء بوجه (وعنه من طريق ثان) (6) قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم تجد شر الناس وقال يعلي (7) تجد من شر الناس عند الله يوم القيامة ذا الوجهين قال ابن نمير (8) الذي يأتي هؤلاء بحديث هؤلاء وهؤلاء بحديث هؤلاء
وعنه أيضا) (9) أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال ما ينبغي لذي الوجهين أن يكون أمينا

হাদীসের ব্যাখ্যা:

যারা প্রকাশ্যে নিজেদেরকে মুসলমান বলে, অথচ নিজেদের স্বার্থ ও সুযোগ সুবিধা সংরক্ষণের জন্য ইসলামের শত্রুদের সাথে বন্ধুত্ব স্থাপন করে বা তাদের সাথে মিলিত হয়ে ইসলাম ও মুসলমানদের স্বার্থের বিপরীত কাজ করে, তাদেরকে ইসলামের পরিভাষায় মুনাফিক বলা হয়। এ ধরনের লোক নামায-রোযা পালন করলেও মুসলমানদের সমাজভুক্ত নয়। তাদের জন্য জাহান্নামের নিকৃষ্টতম আযাব রয়েছে।

আলোচ্য হাদীসে মুনাফিকদের সদৃশ আমলের কথা বলা হয়েছে। যারা নিজেদের পার্থিব সুযোগ-সুবিধা এবং লোভ-লালসার জন্য সমাজের বিভিন্ন শ্রেনীর মানুষের সাথে ভিন্ন ভিন্ন আচরণ করে, এক ব্যক্তিকে অপর ব্যক্তির বিরুদ্ধে উষ্কানি দেয়, দুই বন্ধুর মধ্যে শত্রুতা সৃষ্টি করার জন্য পরস্পর বিরোধী কথাবার্তা বলে, তারা দীনী পরিভাষায় মুনাফিকের দলভুক্ত না হলেও তাদের মুনাফিকসুলভ আমল ও আচরণের জন্য কিয়ামতের দিন নিকৃষ্ট মানুষ হিসেবে বিবেচিত হবে এবং কঠিন শাস্তি ভোগ করবে। হাদীসে 'বিভিন্ন চেহারায় আবির্ভূত হওয়া' দ্বারা এ কথাই বুঝান হয়েছে।
ব্যাখ্যা সূত্রঃ_ মা'আরিফুল হাদীস (মাওলানা মনযূর নোমানী রহ.)
tahqiqতাহকীক:তাহকীক চলমান