মুসনাদে আহমদ- ইমাম আহমদ রহঃ (আল-ফাতহুর রব্বানী)
রাজ'আত (স্ত্রীকে ফিরিয়ে আনা) অধ্যায়
হাদীস নং: ৩৬
রাজ'আত (স্ত্রীকে ফিরিয়ে আনা) অধ্যায়
অধ্যায় : রাজ'আত (স্ত্রীকে ফিরিয়ে আনা)
পরিচ্ছেদ: স্ত্রী ফিরিয়ে আনার ওপর সাক্ষী রাখা এবং তিন তালাকপ্রাপ্তা স্ত্রী প্রথম স্বামীর জন্য কীভাবে হালাল হবে সে প্রসঙ্গে
পরিচ্ছেদ: স্ত্রী ফিরিয়ে আনার ওপর সাক্ষী রাখা এবং তিন তালাকপ্রাপ্তা স্ত্রী প্রথম স্বামীর জন্য কীভাবে হালাল হবে সে প্রসঙ্গে
৩৬। আয়েশা (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, এক ব্যক্তি তার স্ত্রীকে তালাক দিলে সে অন্য স্বামী গ্রহণ করে। দ্বিতীয় স্বামী তার সঙ্গে নির্জনবাস করে। তার কাছে কাপড়ের ঝালরের মত বস্তু ছিল। সে কেবল একবার তার কাছে আসে। এর দ্বারা তার ভিতরে কিছু পৌঁছে নি। এরপর সে নবী (ﷺ) এর নিকট তা তুলে ধরে বললেন, আমি কি আমার প্রথম স্বামীর জন্য হালাল হব? রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, তুমি তোমার প্রথম স্বামীর জন্য হালাল হবে না; যাবত না দ্বিতীয় স্বামী তোমার মধুর স্বাদ আস্বাদন করবে এবং তুমিও তার মধুর স্বাদ আস্বাদন করবে।
(বায়হাকী। বুখারী (র) মুহাম্মদ (র) মু'আবিয়া (রা) থেকে হাদীসটি বর্ণনা করেছেন আর মুসলিম (র) আবূ কুরায়ব (র) মু'আবিয়া (রা) থেকে হাদীসটি বর্ণনা করেছেন।)
(বায়হাকী। বুখারী (র) মুহাম্মদ (র) মু'আবিয়া (রা) থেকে হাদীসটি বর্ণনা করেছেন আর মুসলিম (র) আবূ কুরায়ব (র) মু'আবিয়া (রা) থেকে হাদীসটি বর্ণনা করেছেন।)
كتاب الرجعة
كتاب الرجعة
باب الإشهاد عليها وبما تحل المطلقة ثلاثا لزوجها الأول
باب الإشهاد عليها وبما تحل المطلقة ثلاثا لزوجها الأول
عن عائشة رضي الله عنها قالت طلق رجل امرأته فتزوجت زوجا غيره فدخل بها وكان معه مثل الهدبة فلم يقربها إلا هبة واحدة لم يصل منها إلى شيء فذكرت ذلك النبي صلى الله عليه وسلم فقالت أحل لزوجي الأول؟ فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم لا تحلي لزوجك الأول حتى يذوق الآخر عسيلتك وتذوقي عسيلته.
হাদীসের ব্যাখ্যা:
শরীয়তের এ নির্দেশ কুরআন মজীদেও বর্ণিত হয়েছে। সূরা বাকারায় বলা হয়েছে:
فَإِنْ طَلَّقَهَا فَلَا تَحِلُّ لَهُ مِنْ بَعْدُ حَتَّى تَنْكِحَ زَوْجًا غَيْرَهُ
(অর্থাৎ স্বামী যদি স্ত্রীকে দুই তালাকের পর তৃতীয় তালাকও দিয়ে দেয় তবে সেই মহিলা এ স্বামীর জন্য তত সময় পর্যন্ত হালাল হবে না, যতক্ষণ না দ্বিতীয় স্বামীর বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হয়)। এরপর সেই দ্বিতীয় স্বামী যদি মৃত্যুবরণ করে অথবা তালাক দিয়ে দেয় তবে ইদ্দত পূর্ণ করার পর প্রথম স্বামীর সাথে পুনরায় বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হতে পারবে।
বস্তুত আলোচ্য হাদীস থেকে এবং এছাড়াও বিভিন্ন হাদীসমূহ থেকে উল্লিখিত আয়াতের তাফসীর ও ব্যাখা এই জানা গেল যে, অন্য স্বামীর সাথে কেবল বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হওয়া যথেষ্ট নয় বরং সেই কাজও প্রয়োজন যা বিবাহের বিশেষ উদ্দেশ্য হয়ে থাকে। এ বিষয়ে উম্মতের অধিকাংশ আলিমগণের অভিমত এটাই। বিষয় হচ্ছে দ্বিতীয় স্বামীর সাথে যদি সহবাসের বাধ্যবাধকতা না থাকে তবে দ্বিতীয় বিবাহের শর্ত একেবারে মূল্যহীন ও অর্থহীন হয়ে দাঁড়াবে।
فَإِنْ طَلَّقَهَا فَلَا تَحِلُّ لَهُ مِنْ بَعْدُ حَتَّى تَنْكِحَ زَوْجًا غَيْرَهُ
(অর্থাৎ স্বামী যদি স্ত্রীকে দুই তালাকের পর তৃতীয় তালাকও দিয়ে দেয় তবে সেই মহিলা এ স্বামীর জন্য তত সময় পর্যন্ত হালাল হবে না, যতক্ষণ না দ্বিতীয় স্বামীর বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হয়)। এরপর সেই দ্বিতীয় স্বামী যদি মৃত্যুবরণ করে অথবা তালাক দিয়ে দেয় তবে ইদ্দত পূর্ণ করার পর প্রথম স্বামীর সাথে পুনরায় বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হতে পারবে।
বস্তুত আলোচ্য হাদীস থেকে এবং এছাড়াও বিভিন্ন হাদীসমূহ থেকে উল্লিখিত আয়াতের তাফসীর ও ব্যাখা এই জানা গেল যে, অন্য স্বামীর সাথে কেবল বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হওয়া যথেষ্ট নয় বরং সেই কাজও প্রয়োজন যা বিবাহের বিশেষ উদ্দেশ্য হয়ে থাকে। এ বিষয়ে উম্মতের অধিকাংশ আলিমগণের অভিমত এটাই। বিষয় হচ্ছে দ্বিতীয় স্বামীর সাথে যদি সহবাসের বাধ্যবাধকতা না থাকে তবে দ্বিতীয় বিবাহের শর্ত একেবারে মূল্যহীন ও অর্থহীন হয়ে দাঁড়াবে।
ব্যাখ্যা সূত্রঃ_ মা'আরিফুল হাদীস (মাওলানা মনযূর নোমানী রহ.)