মুসনাদে আহমদ- ইমাম আহমদ রহঃ (আল-ফাতহুর রব্বানী)

বিবাহ অধ্যায়

হাদীস নং: ৫২
বিবাহ অধ্যায়
পরিচ্ছেদ : কুমারীকে তার অনিচ্ছায় বিবাহ দান এবং অকুমারীর বিয়ের বিষয়ে তার অনুমতি গ্রহণ।
৫২। আবূ হুরায়রা (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন, কুমারীর বিয়ের ব্যাপারে তার নির্দেশ চাইতে হবে। আর অকুমারীর বিয়ের ব্যাপার তার সাথে পরামর্শ করতে হবে। বলা হল: হে আল্লাহর রাসূল, কুমারী তো লজ্জা করে। তিনি বললেন, তার চুপ থাকাই তার সম্মতি।
(তাঁর থেকে দ্বিতীয় এক বর্ণনা সূত্রে বর্ণিত হয়েছে) তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন, অকুমারীর সাথে তার বিয়ের ব্যাপারে পরামর্শ করতে হবে। আর কুমারীর কাছে তার বিয়ের অনুমতি চাইতে হবে। উপস্থিত সাহাবীগণ বললেন, হে আল্লাহর রাসূল, কিরূপে তার অনুমতি বুঝা যাবে? তিনি বললেন, তার চুপ থাকাই তার অনুমতি।
(বুখারী, মুসলিম, আবূ দাউদ, নাসাই, তিরমিযী। ইবন মাজাহ এবং অন্যরা হাদীসটিকে নিকটবর্তী শব্দে বর্ণনা করেছেন।)
كتاب النكاح
باب ما جاء فى إجبار البكر واستئمارالثيب
عن أبى هريرة (7) قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم البكر تستأمر، والثيب تشاور (8) قيل يا رسول الله إن البكر تستحى، قال سكوتها رضاها (وعنه من طريق ثان) (9) قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم الثيب تستأمر (10) فى نفسها، والبكر تستأذن، قالوا يا رسول الله كيف إذنها قال أن تسكت

হাদীসের ব্যাখ্যা:

ثيب এর অর্থ হচ্ছে, যে বিয়ের পর স্বামী বাসের পর স্বামীহীনা হয়েছে। স্বামীর মৃত্যুজনিত কারণেই হোক অথবা তালাকজনিত কারণেই হোক। এরূপ নারী সম্বন্ধে হাদীসে নির্দেশ প্রদান করা হয়েছে যে, তার সিদ্ধান্ত ও সম্মতি না জেনে তাকে বিয়ে দেওয়া যাবেনা। অর্থাৎ এটা আবশ্যক যে, সে মুখে কিংবা প্রকাশ্য ইঙ্গিতে স্বীয় সম্মতি ব্যক্ত করবে। আলোচ্য হাদীসের ভাবার্থ এটাই।

অন্য দিকে بكر দ্বারা এমন কুমারী বালিকা বুঝানো হয়েছে-যে বুদ্ধিমতী ও প্রাপ্ত বয়স্কা বটে, তবে স্বামীবাসী নয়। তার ব্যাপারে নির্দেশ করা হয়েছে যে, তার বিয়েও তার অনুমতি ছাড়া সম্পন্ন করা যাবেনা। তবে এরূপ মেয়েদের লজ্জা-শরমের কারণে যেহেতু মুখে বা ইঙ্গিতে অনুমতি প্রদান কঠিন হয়ে দাঁড়ায়, এজন্য অনুমতি তলবের পর তাদের চুপ থাকাকেই অনুমতি স্থির করা হয়েছে। এ উভয় হাদীস থেকে জানা গেল যে, কোন বুদ্ধিমতী ও প্রাপ্ত বয়স্কা নারীর বিয়ে, চাই সে স্বামী দর্শনকারী হোক অথবা কুমারী, তার সম্মতি ও অনুমতি ছাড়া তার স্বামী বিয়ে সম্পন্ন করতে পারে না। তবে যদি কোন মেয়ে কম বয়স্কা হয়, যে এখনো বিয়ের ব্যাপারে চিন্তা ভাবনার উপযুক্ত নয়; অথচ কোন উত্তম সম্পর্ক এসে পড়ে এবং স্বয়ং মেয়ের উপযোগিতা এরূপ যে, তার বিয়ে সম্পন্ন করা হোক তখন ওলী (যে কল্যাণকামিতার দায়িত্ব পালনকারী) নিজের হিতকামী সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বিয়ে দিতে পারে।

হযরত সিদ্দীকে আকবর (রা) স্বীয় কন্যা হযরত আয়েশা (রা)-এর বিয়ে রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর সাথে কেবল নিজের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সম্পন্ন করেছিলেন, যখন তাঁর বয়স ছিল ৬-৭ বছর।১

টিকা ১. সে বিবাহে উভয় পক্ষের জন্য কল্যাণ ও অনেক বরকত ছিল। হযরত আবু বকর সিদ্দীক সর্বপ্রথম ঈমান আনেন এবং এমন ত্যাগ স্বীকার ও সাথীর এরূপ দাবি পূর্ণ করেন যে, ওফাতের কিছু পূর্বে নবী করীম ﷺ বলে ছিলেন, আমার প্রতি যে যত ইহসান করেছে অথবা যে সব খিদমত করেছে আমি সব কিছুর বদলা দিয়েছি। তবে আবু বকর এর খিদমতের বদলা দিতে পারিনি। সুতরাং রাসূলুল্লাহ ﷺ হযরত আয়েশা অল্প বয়স্কা হওয়া সত্ত্বেও তাঁকে এজন্য বিবাহ করেছিলেন যে, আবুবকরের সাথে আত্মীয়তার এক বিশেষ সম্পর্ক স্থাপিত হবে। আর তাঁর পরিবারের লোকজনও সন্তুষ্ট হবে। উক্ত বিবাহে অন্যান্য আরো যে-সব কল্যাণ নিহিত ছিল, সে বিষয়ে স্বতন্ত্র গ্রন্থ রচনা করা যেতে পারে।
ব্যাখ্যা সূত্রঃ_ মা'আরিফুল হাদীস (মাওলানা মনযূর নোমানী রহ.)
tahqiqতাহকীক:তাহকীক চলমান