আত্-তারগীব ওয়াত্-তারহীব- ইমাম মুনযিরী রহঃ

১৯. অধ্যায়ঃ বিচার ব্যবস্থা

হাদীস নং: ৩৪৪৫
অধ্যায়ঃ বিচার ব্যবস্থা
আল্লাহর সৃষ্টি তথা প্রজা, সন্তান-সন্ততি, দাস-দাসী ইত্যাদির প্রতি স্নেহশীল হওয়ার প্রতি অনুপ্রেরণা এবং তার বিপরীত করার প্রতি ভীতি প্রদর্শন, শরয়ী কারণ ব্যতীত দাস-দাসী, চতুষ্পদ প্রাণী ও অন্যান্যের প্রতি শান্তি প্রয়োগ এবং চতুষ্পদ প্রাণীর মুখে দাগ দেওয়া নিষিদ্ধ
৩৪৪৫. হযরত আবদুল্লাহ ইবনে জা'ফর (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদিন রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) আমাকে তাঁর বাহনের পেছনে বসালেন। এরপর তিনি আমাকে একটি গোপন বিষয়ে অবহিত করেন, যেন আমি তা কারো কাছে বর্ণনা না করি। পেশাব-পায়খানা করাকালীন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) পর্দা অথবা খেজুর গাছের আড়ালে হাজত পুরা করতে ভালবাসতেন। একদা তিনি এক আনসারের বাগানে প্রবেশ করেন। তিনি সেখানে একটা উট দেখতে পান। উটটি তাঁকে দেখে কেঁদে উঠে এবং তার দুই চোখ অশ্রুসিক্ত হয়ে উঠে। তখন রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) তার নিকট যান এবং তার চোখে হাত বুলালে সেটি শান্ত হল। তখন তিনি বললেন: এই উটটির মালিক কে? এক আনসার যুবক এসে বলল: ইয়া রাসূলাল্লাহ্! এটি আমার। তিনি বললেন: এই প্রাণীটি, যা আল্লাহ্ তোমার অধীনস্থ করে দিয়েছে (তার প্রতিপালনের ব্যাপারে) তুমি কি আল্লাহকে ভয় করো না? সে আমার কাছে অভিযোগ করেছে, তুমি তাকে খাদ্যে কষ্ট দাও এবং অতিরিক্ত পরিশ্রম করাও।
(আহমাদ ও আবু দাউদ বর্ণিত।)
كتاب القضاء
التَّرْغِيب فِي الشَّفَقَة على خلق الله تَعَالَى من الرّعية وَالْأَوْلَاد وَالْعَبِيد وَغَيرهم ورحمتهم والرفق بهم والترهيب من ضد ذَلِك وَمن تَعْذِيب العَبْد وَالدَّابَّة وَغَيرهمَا بِغَيْر سَبَب شَرْعِي وَمَا جَاءَ فِي النَّهْي عَن وسم الدَّوَابّ فِي وجوهها
3445 - وَعَن عَبْدِ اللَّهِ بْنِ جَعْفَرٍ رَضِيَ اللهُ عَنْهُمَا قَالَ : أَرْدَفَنِي رَسُولُ اللَّهِ ﷺ خَلْفَهُ ذَاتَ يَوْمٍ .فَأَسَرَّ إِلَى حَدِيثا لَا أُحَدِّثُ بِهِ أَحَدًا مِنَ النَّاسِ ، وَكَانَ أَحَبُّ مَا اسْتَتَرَ بِهِ النَّبِيُّ ﷺ لِحَاجَتِهِ هدفا أو حَايِشَ نَخْلِ ، فَدَخَلَ حَائِطًا لَرَجُلٍ مِنَ الْأَنْصَارِ فَإِذَا فِيْهِ جَمَلٌ فَلَمَّا رَأَى النَّبِيُّ ﷺ حَنَّ وَذَرَفَتْ عَيْنَاهُ ، فَأَتَانَهُ رَسُولُ اللهِ ﷺ ، فَمَسَحَ ذِفْرَاهُ فَسَكَتَ ، فَقَالَ : مَنْ رَبُّ هَذَا الْجَمَلِ ؟ لِمَنْ هذَا الْجَمَلُ ؟ فَجَاءَ فَتى مِنَ الْأَنْصَارِ فَقَالَ لِي يَا رَسُولَ اللَّهِ ، فَقَالَ : أَفَلا تَتَّقِى اللهَ فِي هَذِهِ الْبَهِيمَةِ الَّتِي مَلَكَكَ اللَّهُ إِيَّاهَا ، فَإِنَّهُ شَكَا إِلَى أَيُّكَ تُجِيعُهُ وَتُدْنِبُهُ
رواه أحمد وأبو داؤد -

হাদীসের ব্যাখ্যা:

আল্লাহ তাঁর নবীকে পশুপাখির কথাবার্তা উপলব্ধি করার ক্ষমতা দিয়েছিলেন। পূর্ববর্তী আম্বিয়ায়ে কিরামের মধ্যে হযরত সুলায়মান (আ)-কেও পাখির কথা বুঝবার শক্তি দান করা হয়েছিল বলে কুরআন শরীফে উল্লেখ করা হয়েছে। এটা আম্বিয়ায়ে কিরামের প্রতি আল্লাহর এক বিশেষ মেহেরবানী। দীনি পরিভাষায় একে মু'জিযা বা অলৌকিক ব্যাপার বলা হয়।

পশুপাখি তাদের দুঃখ-দুর্দশা ও তাদের উপর নির্যাতন-নিপীড়ন সাধারণ মানুষের বোধগম্য ভাষায় প্রকাশ করতে পারে না। কিন্তু মানুষের মত তাদেরও সুখ-দুঃখের অনুভূতি রয়েছে। সুখ পেলে তারা খুশি হয়, দুঃখ পেলে ব্যথিত হয়। তাই জন্তু, জানোয়ারের ব্যাপারেও খুব সতর্কতা অবলম্বন করা উচিত। প্রয়োজন মোতাবিক তাদের খাদ্য ও পানি সরবরাহ করা উচিত। তাদের উপর কাজের এমন কোন বোঝা চাপিয়ে দেয়া উচিত নয়, যা তারা বহন করতে সক্ষম নয়। অন্যথায় তারা আল্লাহর দরবারে ফরিয়াদ করবে। জন্তু-জানোয়ারের প্রতি যুলম ও নির্যাতন আল্লাহ তা'আলা খুব অপসন্দ করেন। এ ধরনের আচরণ 'সূউল খুলক' বা মন্দ আখলাকের অন্তর্গত এবং মন্দ আখলাক মানুষকে আল্লাহর রহমত থেকে বঞ্চিত করে। যারা আল্লাহর রহমতের প্রত্যাশী, তারা যেন সর্বাবস্থায় জন্তু-জানোয়ারের প্রতি সদয় থাকেন।
ব্যাখ্যা সূত্রঃ_ মা'আরিফুল হাদীস (মাওলানা মনযূর নোমানী রহ.)
tahqiqতাহকীক: