আত্-তারগীব ওয়াত্-তারহীব- ইমাম মুনযিরী রহঃ

১১. অধ্যায়ঃ হজ্জ

হাদীস নং: ১৮৭৩
অধ্যায়ঃ হজ্জ
আমৃত্যু মদীনায় বসবাসের প্রতি উৎসাহ দান এবং মদীনা, উজ্বল ও আকীক উপত্যকার ফযীলত প্রসঙ্গ
১৮৭৩. হযরত উমর (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ(ﷺ)-কে বলতে শুনেছি যে, যে ব্যক্তি আমার কবর যিয়ারত করল অথবা তিনি বলেছেন, আমার যিয়ারত করল, আমি কিয়ামতের দিন তার সুপারিশকারী অথবা তার পক্ষে সাক্ষ্যদানকারী হব। আর যে ব্যক্তি হারাম শরীফদ্বয়ের কোন একটিতে মারা গেল, আল্লাহ তাকে কিয়ামতের দিন নিরাপত্তালাভকারীদের অন্তর্ভুক্ত করে উঠাবেন।
(হাদীসটি বায়হাকী প্রমুখ হযরত উমর (রা)-এর বংশের জনৈক ব্যক্তি সূত্রে হযরত উমর (রা) থেকে বর্ণনা করেছেন। কিন্তু ঐ ব্যক্তিটির নাম উল্লেখ করেন নি।)
كتاب الْحَج
التَّرْغِيب فِي سُكْنى الْمَدِينَة إِلَى الْمَمَات وَمَا جَاءَ فِي فَضلهَا وَفضل أحد ووادي العقيق
1873 - وَعَنْ عُمَرَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ : سَمِعْتُ رَسُولَ : اللهِ ﷺ يَقُوْلُ : مَنْ زَارَ قَبْرِي، أَوْ قَالَ مَنْ زَارَنِي كُنْتُ لَهُ شَفِيعًا أَوْ شَهِيدًا يَوْمَ الْقِيَامَةِ ، وَمَنْ مَاتَ فِي أَحَدِ الْحَرَمَيْنِ بَعَثَهُ اللَّهُ فِي الْأمِنِينَ يَوْمَ الْقِيَامَةِ -
رواه البيهقي وغيره عن رجل من ال عمر لم يسمه عن عمر .

হাদীসের ব্যাখ্যা:

যে পর্যন্ত একজন উম্মতের অন্তরে রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর ভালবাসা আল্লাহ্ তা'আলা ছাড়া দুনিয়াতে সকল জিনিস থেকে এমনকি নিজের পিতা-মাতা, আত্মীয়-স্বজন এবং স্বয়ং নিজের জীবনের চেয়ে অধিক না হবে, সে পর্যন্ত সে ঈমানের প্রকৃত স্বরূপ ও স্বাদ লাভ করতে পারবে না। রওযা শরীফের যিয়ারত নিঃসন্দেহে এ ভালবাসারই একটি অনিবার্য দাবী। আর এটা যেন এরই এক বাস্তব নমুনা। আরবী কবি বলেনঃ

أمر على الديار ديار ليلى ، أقبل ذا الجدار وذا الجدارا وما حب الديار شغفن قلبى ، ولكن حب من سكن الديارا

অর্থাৎ, আমি যখন লায়লার বাড়ীর পাশ দিয়ে যাই, তখন কখনো এ দেয়ালে চুমু খাই আর কখনো ঐ দেয়ালে। কিন্তু এ ঘরের ভালবাসা আমার অন্তরকে পাগল বানায়নি; বরং এ ঘরে যে বাস করে তার ভালবাসাই আমাকে এমন বানিয়ে দিয়েছে।

তাছাড়া যিয়ারতের সময় যিয়ারতকারীর অন্তরে যে ঈমানী আবেগ সৃষ্টি হয় এবং নবীর সান্নিধ্যে আসার বরকতে ঈমানী প্রতিজ্ঞার নবায়ন, গুনাহর জন্য অনুতাপ, আল্লাহর প্রতি অনুরাগ ও তওবা ইস্তিগফারের যে ঢেউ তার অন্তরে জাগে, এর সাথে নবীর ভালবাসার যে আবেগ দোলায়িত হয় এবং ভালবাসা ও অনুতাপ মিশ্রিত অনুভূতি তার চোখ থেকে যে অশ্রু ঝরিয়ে দেয়, এগুলোর মধ্য থেকে প্রতিটি জিনিসই এমন, যা নবীর শাফাআত; বরং আল্লাহর ক্ষমাকেও অনিবার্য করে দেয়। এজন্য এতে কোন সন্দেহ নেই যে, রওযা শরীফ যিয়ারতকারী প্রতিটি ঈমানদারের ভাগ্যেই নবীর শাফাআত নছীব হবে। হ্যাঁ, দুর্ভাগ্যক্রমে কোন যিয়ারতকারী যদি এমন হয় যে, তার অন্তরে এ ধরনের কোন আবেগ, অনুভূতি ও অবস্থাই সৃষ্টি না হয়, তাহলে মনে করতে হবে যে, তার অন্তর ঈমানের মূল চেতনা থেকে শূন্য। তাই তার যিয়ারত প্রকৃত যিয়ারত নয়; বরং শুধু যিয়ারতের আকৃতি ও রূপ। আর আল্লাহ্ ও রাসূলের নিকট কোন আমলেরই কেবল বাহ্যিকরূপ গ্রহণযোগ্য নয়।

রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর রওযা শরীফ যিয়ারতের যেসব উপকারিতা, বরকত ও কল্যাণের কথা উপরে উল্লেখ করা হয়েছে, এগুলো সামনে রেখে যদি ঐসব হাদীসের চিন্তা করা হয়, যেগুলো এ যিয়ারতের প্রতি উৎসাহদানে বর্ণিত হয়েছে, তাহলে যদিও সনদের দিক দিয়ে এগুলোর উপর কথা বলা যেতে পারে; কিন্তু বিষয়গত দিক দিয়ে এগুলো দ্বীনি চিন্তা-চেতনা ও কর্মনীতির সাথে সম্পূর্ণ সামঞ্জস্যশীল মনে হবে এবং সুস্থ মস্তিষ্ক এর উপর সন্তুষ্ট হয়ে যাবে যে, কবর মুবারকের এ যিয়ারত আসলে কবরে শায়িত মহান সত্তা মহানবী (ﷺ)-এর সাথে ঈমানী সম্পর্ক, তাঁর প্রতি ভক্তি ও ভালবাসা এবং দ্বীনি উন্নতির বিশেষ ওসীলা। আমাদের বিশ্বাস, প্রতিটি ভাগ্যবান ঈমানদার বান্দা- যাকে আল্লাহ্ তা'আলা এ যিয়ারতের সৌভাগ্য দান করেছেন- এ কথার সাক্ষ্য দেবে।
ব্যাখ্যা সূত্রঃ_ মা'আরিফুল হাদীস (মাওলানা মনযূর নোমানী রহ.)
tahqiqতাহকীক: