আত্-তারগীব ওয়াত্-তারহীব- ইমাম মুনযিরী রহঃ

২৬. অধ্যায়ঃ জান্নাত ও জাহান্নামের বর্ণনা

হাদীস নং: ৫৭৭৩
অধ্যায়ঃ জান্নাত ও জাহান্নামের বর্ণনা
পরিচ্ছেদ: আল্লাহ তা'আলার সাথে জান্নাতীদের সাক্ষাতের বর্ণনা
৫৭৭৩. হযরত মুহাম্মদ ইবন আলী আহমাদ হুসায়ন (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) (ﷺ) বলেছেন, নিশ্চয় জান্নাতে একটি বৃক্ষ রয়েছে। তাকে 'তূূবা' বলা হয়। যদি দ্রুতগামী অশ্বে আরোহী ব্যক্তিকে তার ছায়ায় চলতে নিয়োজিত করা হয়, তবে সে তার ছায়ায় একশ' বছর অবধি চলবে। তার পাতা হবে সবুজ ডোরা কাটা কাপড়, তার ফুল হলুদ মসৃণ কাপড়, তার সরু ডালগুলো পাতলা ও পুরু রেশম, তার ফল পোষাক, তার আঠা আদ্রক ও মধু, তার নর্দমা লাল চুনির ও সবুজ পান্নার, তার মাটি মেশক, আম্বর ও হলুদ কর্পুর, তার তৃণ পাকা জাফরান ও সুগন্ধি কাঠ, যা জ্বালানো ব্যতিরেকেই সুগন্ধি ছড়ায়। তার মূল থেকে মিঠা পানির ফোয়ারা ঝর্ণা ও নির্ভেজাল শরাব উৎসরিত হয়। তার পাদদেশ জান্নাতীদের বসার একটি অন্যতম স্থান। সে স্থানটি তাদের খুব পসন্দসই হবে। একটি আলোচনা সভা তাদেরকে সমবেত করবে। একদা তারা বৃক্ষটির ছায়ায় আলোচনা করবে, এহেন মুহূর্তে ফিরিশতাগণ এমন কিছু দ্রুতগামী বাহণজন্তু হাঁকিয়ে তাদের কাছে আসবে, যাদেরকে চুনি থেকে সৃষ্টি করা হয়েছে এবং যাদের মধ্যে প্রাণ সঞ্চার করা হয়েছে। বাহন জন্তুগুলো সোনার শিকলে বাঁধা থাকবে। সমীরতা ও সৌন্দর্যের দিক থেকে ওগুলোর চেহারাগুলো হবে যেন প্রদীপ। সেগুলোর পশম হবে লাল রেশম ও সাদা নরম কেশে মিশ্রিত। কোন দর্শক এরূপ সৌন্দর্য ও দীপ্তি কখনো প্রত্যক্ষ করেনি। তারা ভীতি ব্যতিরেকে অনুগত এবং মহড়া দেওয়া ব্যতিরেকেই উৎকৃষ্ট। তাদের উপর থাকবে এমন হাওদা, যার পাটগুলো হবে বড় মুক্তা ও চুনির এবং ছোট মুক্তা ও প্রবণ রত্নের কাজ করা। তাদের পৃষ্ঠ হবে লাল সোনার তৈরী, উন্নতমানের বিছানা ও লাল কাপড়ে আবৃত। অতঃপর ফিরিশতাগণ তাদের সামনে দ্রুতগামী বাহন জড়গুলোকে বসাবে। এরপর তাদেরকে বলবে, তোমাদের রব, তোমাদেরকে সালাম বলেছেন এবং তোমাদের সাক্ষাতের জন্য ডেকেছেন যাতে করে তোমরা তাকে দেখতে পার এবং তিনি তোমাদেরকে দেখেন, তোমরা তাঁর সাথে কথা বলতে পার এবং তিনি তোমাদের সাথে কথা বলেন, তোমরা তাঁকে অভিনন্দন জানাতে পার এবং তিনি তোমাদেরকে অভিনন্দন জানাতে পারেন এবং তিনি তোমাদের প্রতি তাঁর অনুগ্রহ ও স্বাচ্ছন্দ্য বৃদ্ধি করে দেন। তিনি পরিব্যাপ্ত দয়া ও বিশাল অনুগ্রহের অধিকারী। সুতরাং প্রত্যেকেই তার বাহনজন্তুর উপর আরোহণ করবে এবং তারা সোজা সারিবদ্ধ হয়ে চলবে। সারির কেউ কারও থেকে পৃথক হবে না এবং একটি উটনীর কানের অপর উটনীর কানের সাথে পার্থক্য থাকবে না। তারা জান্নাতের যে বৃক্ষের পাশ দিয়েই যাবে, সে তাদেরকে ফল উপহার দেবে এবং তাদের ছত্রভঙ্গ হওয়ার আশংকায় অথবা দুই সফর সঙ্গীর মাঝে পার্থক্য ও দূরত্ব সৃষ্টির ভয়ে সে তাদের সুবিধার্থে তাদের পথ থেকে দূরে সরে যাবে যখন তারা পরাক্রমশালী আল্লাহ্ তা'আলার কাছে পৌঁছবে, তখন তিনি তাদের সামনে তাঁর মহান চেহারা উন্মোচিত করবেন এবং মহা প্রতাপের সাথে তাদের সামনে আত্মপ্রকাশ করবেন। সেখানে তাদের অভিনন্দন হবে সালাম। তারা বলবে, হে আমাদের রব! আপনার নাম সালাম (শান্তিন্তি), আপনার পক্ষ থেকেই সালাম (শান্তি) আসে এবং প্রতাপ ও সম্মান দানের অধিকার আপনারই। তখন তাদের রব তাদেরকে বলবেন, নিশ্চয় আমার নাম সালাম, আমার পক্ষ থেকেই সালাম আসে এবং প্রতাপ ও সম্মান দানের অধিকার আমারই। সুতরাং আমি স্বাগতম জানাই আমার সেসব বান্দাদের, যারা আমার উপদেশ সংরক্ষণ করেছে। আমার (সাথে প্রদত্ত) প্রতিশ্রুতির প্রতি যত্নবান রয়েছে আমাকে না দেখেও ভয় করেছে এবং তারা সর্বাবস্থায় আমার ভয়ে কম্পিত ছিল। তারা বলবে, তবে আপনার সম্ভ্রম, আপনার প্রতাপ ও আপনার উঁচু মর্যাদার কসম, আমরা আপনার যথোচিত মর্যাদা রক্ষা করতে পারিনি এবং আপনার পূর্ণ হক আদায় করতে পারিনি। সুতরাং আমাদেরকে আপনার সামনে সিজদা করার অনুমতি দিন। তখন তাদের রব তা'আলা তাদেরকে বলবেন, আমি তোমাদের থেকে ইবাদতের কষ্ট দূর করে দিয়েছি, তোমাদের আরামের জন্য তোমাদের শরীরকে শাস্তি দিয়েছি। তোমরা দীর্ঘকাল শরীরকে ক্লান্ত রেখেছ এবং চেহারা অবনমিত রেখেছ। এখন তোমরা আমার শান্তি, আমার দয়া ও আমার সম্মানের দ্বারে পৌঁছেছ। সুতরাং তোমাদের যা ইচ্ছা আমার কাছে চাও এবং আমার কাছে প্রার্থনা কর, আমি তোমাদের প্রার্থনা পূর্ণ করব। কেননা, আমি আজ তোমাদেরকে তোমাদের আমল অনুপাতে প্রতিদান দেব না; বরং আমার দয়া, আমার সম্মান, আমার ক্ষমতা, আমার প্রতাপ, আমার উচ্চমর্যাদা ও আমার মাহাত্মা অনুপাতে প্রতিদান দেব। এরপর তারা আশা-আকাঙ্ক্ষা প্রকাশ ও দান-বখশিশ প্রার্থনায় নিয়োজিত থাকবে। এমনকি তাদের মধ্যে ন্যূনতম প্রার্থনাকারী ব্যক্তি আল্লাহ্ তা'আলা যেদিন দুনিয়া সৃষ্টি করেছেন, সেদিন থেকে দুনিয়াকে ধ্বংস করে দেওয়ার দিন পর্যন্ত সমস্ত দুনিয়ার সমান বখশিশ চাইবে। তাদের রব তাদেরকে বলবেন, তোমরা তোমাদের আকাঙ্ক্ষায় ত্রুটি করেছ এবং তোমাদের জন্য যা উচিত, তার চেয়ে কমে তোমরা সন্তুষ্ট হয়ে গিয়েছ। তোমরা যা চেয়েছ এবং আকাঙ্ক্ষা করেছ, তা আমি তোমাদের জন্য অবধারিত করে দিলাম এবং যে ব্যাপারে তোমাদের আকাঙ্ক্ষা অক্ষম হয়েছে, তার উপর তোমাদেরকে (পুরস্কার) বৃদ্ধি করে দিলাম। তোমরা তোমাদের রবের দানের প্রতি তাকাও, যিনি তোমাদেরকে দান করেছেন। তখন দেখা যাবে যে, তার সামনে বিশাল উঁচু অনেকগুলো গম্বুজ এবং বড় মুক্তা ও প্রবালরত্নে নির্মিত অনেক কামরা রয়েছে। সেগুলোর দরজা সোনার, পালংকগুলো চুনির বিছানাগুলো পাতলা ও পুরু রেশমের মিম্বরগুলো নূরের। কামরাসমূহের দরজা ও আসবাবপত্র থেকে সূর্যের কিরণের মত আলো বিচ্ছুরিত হচ্ছে। যেমন আলোকদীপ্ত দিবসে (প্রাজ্জ্বল তারকা।। আরও দেখা যাবে যে, চুনি দ্বারা নির্মিত মহাকাশচুম্বী অনেকগুলো প্রাসাদ রয়েছে, সেগুলো থেকে আলো বিচ্ছুরিত হচ্ছে। যদি না সে আলো নিয়ন্ত্রিত করা হত, তবে দৃষ্টি শক্তি কেড়ে নিয়ে যেত। সেসব প্রাসাদের মধ্য থেকে যেটি সাদা চুনি নির্মিত, তাতে সাদা রেশম বিছানা রয়েছে, যেটি লাল চুনি দ্বারা নির্মিত, তাতে লাল গালিচা বিছানো রয়েছে, যেটি সবুজ চুনি দ্বারা নির্মিত, তাতে সবুজ রেশম বিছানা রয়েছে, যেটি হলুদ চুনি দ্বারা নির্মিত, তাতে হলুদ কাপড় বিছানো রয়েছে, যা সবুজ যমররদ, লাল সোনা ও শুভ্র রূপার নিকেল করা। প্রাসাদগুলোর ভিত্তিও স্তম্ভগুলো হবে চুনির উপরিভাগ হবে মুক্তার গুম্বুজ, থাকার জায়গাগুলো প্রবাল রত্নের কামরা। তাদের রব তাদেরকে যা দেবেন, তার দিকে যখন তারা রওয়ানা হবে, তখন তাদের সামনে সাদা চুনির তৈরী উন্নতমানের ঘোড়া পেশ করা হবে, সেগুলোর পাশে থাকবে চিরকিশোরগণ। তন্মধ্যে প্রতিটি কিশোরের হাতে থাকবে একটি করে ঘোড়ার বাগডোর। ঘোড়াগুলোর লাগাম ও রশি হবে সাদা রূপার। গলায় থাকবে মুক্তা ও চুনির বেড়ি। তাদের জীনগুলো হবে জওহর দ্বারা নির্মিত। তাতে বিছানো থাকবে পাতলা ও পুরু রেশমী গালিচা। ঘোড়াগুলো তাদেরকে নিয়ে দ্রুত বেগে চলবে এবং জান্নাতের উদ্যান সমূহের দিকে তাকাবে। যখন তারা তাদের মঞ্জিলসমূহের কাছে পৌঁছে যাবে, তখন সেখানে তারা সে সবকিছুই পাবে, যা আল্লাহ্ তা'আলা তাদের চাওয়া ও আকাঙক্ষার কারণে তাদেরকে অনুগ্রহ করে দান করেছেন। আরও দেখা যাবে যে, সেসব প্রাসাদের মধ্য থেকে প্রতিটি প্রাসাদের দরজায় চারটি করে উদ্যান রয়েছে। দু'টি বহু শাখা গল্প বিশিষ্ট বৃক্ষেপূর্ণ, অপর দুটি ঘন সবুজ। সে দু'টি বাগানে রয়েছে উচ্ছলিত দু'টি প্রস্রবন এবং উভয় উদ্যানে রয়েছে প্রত্যেক ফল দু'প্রকার করে, তাঁবুতে সুরক্ষিত হুর। যখন তারা তাদের মঞ্জিলসমূহে আসন গ্রহণ করবে এবং তারা স্থির হয়ে বসে যাবে, তখন তাদের রব তাদেরকে বললো, তোমাদের রব তোমাদের সাথে যা ওয়াদা করেছিলেন, তা কি তোমরা সঠিক পেয়েছ? তারা বলবে জ্বী হ্যাঁ। আমরা সন্তুষ্ট হয়েছি, সুতরাং আপনি আমাদের প্রতি সন্তুষ্ট হয়ে যান। তিনি বলবেন, তোমাদের প্রতি আমি সন্তুষ্ট থাকার ফলেই তোমরা আমার জান্নাতে প্রবেশ করেছ, আমার চেহারা তোমরা দেখেছ এবং আমার ফিরিশতাগণ তোমাদের সাথে করমর্দন করেছে। ধন্যবাদ, ধন্যবাদ এটা নিরবচ্ছিন্ন পুরস্কার, যাতে কোন বন্ধ হওয়া অথবা হ্রাসের সম্ভাবনা নেই। এ সম্পর্কেই বলা হয়েছে। "এবং তারা বলবে, প্রশংসা আল্লাহর যিনি আমাদের দুঃখ-দুর্দশা দূরীভূত করেছেন এবং আমাদেরকে যিনি নিজ অনুগ্রহে স্থায়ী আবাস দিয়েছেন, যেখানে ক্লেশ আমাদেরকে স্পর্শ করবে না এবং ক্লান্তি ও স্পর্শ করবে না। নিশ্চয় আমাদের রব তো মহা ক্ষমাশীল, গুণগ্রাহী"। (৩৫ঃ ৩৪, ৩৫)
(ইবন আবিদ-দুনিয়া ও আবু মু'আয়ম এভাবে মু'দালরূপে হাদীসটি বর্ণনা করেছেন। এ হাদীসটিকে মারফু' বলা মুনকার। আল্লাহই সমধিক জ্ঞাত।)
كتاب صفة الجنة والنار
فصل فِي زِيَارَة أهل الْجنَّة رَبهم تبَارك وَتَعَالَى
5773- وَرُوِيَ عَن مُحَمَّد بن عَليّ بن الْحُسَيْن رَضِي الله عَنْهُمَا قَالَ قَالَ رَسُول الله صلى الله عَلَيْهِ وَسلم إِن فِي الْجنَّة شَجَرَة يُقَال لَهَا طُوبَى لَو يسخر الرَّاكِب الْجواد يسير فِي ظلها لسار فِيهِ مائَة عَام وَرقهَا برود خضر وزهرها رياط صفر وأفنانها سندس وإستبرق وَثَمَرهَا حلل وصمغها زنجبيل وَعسل وبطحاؤها ياقوت أَحْمَر وزمرد أَخْضَر وترابها مسك وَعَنْبَر وكافور أصفر وحشيشها زعفران مونع والألنجوج يتأججان من غير وقود يتفجر من أَصْلهَا السلسبيل والمعين والرحيق وَأَصلهَا مجْلِس من مجَالِس أهل الْجنَّة يألفونه ومتحدث يجمعهُمْ فَبينا هم يَوْمًا فِي ظلها يتحدثون إِذْ جَاءَتْهُم الْمَلَائِكَة يقودون نجبا جبلت من الْيَاقُوت ثمَّ نفخ فِيهَا الرّوح مزمومة بسلاسل من ذهب كَأَن وجوهها المصابيح نضارة وحسنا وبرها خَز أَحْمَر ومرعزي أَبيض مختلطان لم ينظر الناظرون إِلَى مثلهَا حسنا وبهاء ذلل من غير مهابة نجب من غير رياضة عَلَيْهَا رحائل ألواحها من الدّرّ والياقوت مفضضة بِاللُّؤْلُؤِ والمرجان صفائحها من الذَّهَب الْأَحْمَر ملبسة بالعبقري والأرجوان فأناخوا لَهُم تِلْكَ النجائب ثمَّ قَالُوا لَهُم إِن ربكُم يقرئكم السَّلَام ويستزيركم لتنظروا إِلَيْهِ وَينظر إِلَيْكُم وتكلمونه ويكلمكم وتحيونه ويحييكم ويزيدكم من فَضله وَمن سعته إِنَّه ذُو رَحْمَة وَاسِعَة وَفضل عَظِيم فيتحول كل رجل مِنْهُم على رَاحِلَته ثمَّ ينطلقون صفا معتدلا لَا يفوت شَيْء مِنْهُ شَيْئا وَلَا تفوت أذن نَاقَة أذن صاحبتها وَلَا يَمرونَ بشجرة من أَشجَار الْجنَّة إِلَّا أتحفتهم بثمرها وزحلت لَهُم عَن طريقهم كَرَاهِيَة أَن ينثلم صفهم أَو تفرق بَين الرجل ورفيقه فَلَمَّا دفعُوا إِلَى الْجَبَّار تبَارك وَتَعَالَى أَسْفر لَهُم عَن وَجهه الْكَرِيم وتجلى لَهُم فِي

مقصورات فِي الْخيام فَلَمَّا تبوأوا مَنَازِلهمْ وَاسْتقر بهم قرارهم قَالَ لَهُم رَبهم هَل وجدْتُم مَا وَعدكُم ربكُم حَقًا قَالُوا نعم رَضِينَا فارض عَنَّا قَالَ برضاي عَنْكُم حللتم دَاري ونظرتم إِلَى وَجْهي وصافحتكم ملائكتي فهنيئا هَنِيئًا عَطاء غير مجذوذ لَيْسَ فِيهِ تنغيص وَلَا تصريد فَعِنْدَ ذَلِك قَالُوا الْحَمد لله الَّذِي أذهب عَنَّا الْحزن وأحلنا دَار المقامة من فَضله لَا يمسنا فِيهَا نصب وَلَا يمسنا فِيهَا لغوب إِن رَبنَا لغَفُور شكور

رَوَاهُ ابْن أبي الدُّنْيَا وَأَبُو نعيم هَكَذَا معضلا وَرَفعه مُنكر وَالله أعلم

হাদীসের তাখরীজ (সূত্র):

الرياط بِالْيَاءِ الْمُثَنَّاة تَحت جمع ريطة وَهِي كل ملاءة تكون نسجا وَاحِدًا لَيْسَ لَهَا لفقين وَقيل ثوب لين رَقِيق حَكَاهُ ابْن السّكيت وَالظَّاهِر أَنه المُرَاد فِي هَذَا الحَدِيث
والألنجوج بِفَتْح الْهمزَة وَاللَّام وَإِسْكَان النُّون وجيمين الأولى مَضْمُومَة هِيَ عود البخور
تتأججان تتلهبان وَزنه وَمَعْنَاهُ
زحلت بزاي وحاء مُهْملَة مفتوحتين مَعْنَاهُ تنحت لَهُم عَن الطَّرِيق
أنصبتم أَي أتعبتم وَالنّصب التَّعَب
وأعنيتم هُوَ من قَوْله تَعَالَى وعنت الْوُجُوه للحي القيوم طه 111 أَي خضعت وذلت
وَالْحكمَة بِفَتْح الْحَاء وَالْكَاف هِيَ مَا تقاد بِهِ الدَّابَّة كاللجام وَنَحْوه
المجذوذ بجيم وذالين معجمتين هُوَ الْمَقْطُوع
والتصريد التقليل كَأَنَّهُ قَالَ عَطاء لَيْسَ بمقطوع وَلَا منغص وَلَا متملل
tahqiqতাহকীক:তাহকীক চলমান