আত্-তারগীব ওয়াত্-তারহীব- ইমাম মুনযিরী রহঃ

২৬. অধ্যায়ঃ জান্নাত ও জাহান্নামের বর্ণনা

হাদীস নং: ৫৫৭৬
অধ্যায়ঃ জান্নাত ও জাহান্নামের বর্ণনা
পরিচ্ছেদ: জাহান্নামের তাপের প্রচণ্ডতা ইত্যাদির বর্ণনা
৫৫৭৬. হযরত আবু হুরায়রা (রা) সূত্রে নবী (ﷺ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, তোমাদের এ আগুন, যা আদম সন্তানরা জ্বালায়, তা হচ্ছে জাহান্নামের আগুনের সত্তর ভাগের এক ভাগ। সাহাবায়ে কিরাম বললেন, আল্লাহর কসম, যদি জাহান্নামের আগুন এমনি হয়, তবেই তো যথেষ্ট। তিনি বললেন, জাহান্নামের অগ্নিতে আরও উনসত্তর অংশ বৃদ্ধি করা হয়েছে। প্রতিটি অংশের তাপ এর তাপের সমান।
(মালিক, বুখারী, মুসলিম ও তিরমিযী (র) হাদীসটি বর্ণনা করেছেন। তবে মালিকের রিওয়ায়েতে "প্রতিটি অংশের তাপ এর তাপের সমান।" এ অংশটুকু নেই। আহমাদ, ইবন হিব্বান তাঁর 'সহীহ্'-এ এবং বায়হাকী ও এ হদীস বর্ণনা করেছেন। তাঁরা এতে এ অংশটুকু বেশি বর্ণনা করেছেন। এবং সে অগ্নিকে সমুদ্রে দুবার ডুবানো হয়েছে, যদি তা না করা হত, তবে আল্লাহ্ তা'আলা এতে কারও জন্য কোন উপাকারিতা নিহিত রাখতেন না।)
كتاب صفة الجنة والنار
فصل فِي شدَّة حرهَا وَغير ذَلِك
5576- عَن أبي هُرَيْرَة رَضِي الله عَنهُ عَن النَّبِي صلى الله عَلَيْهِ وَسلم قَالَ نَاركُمْ هَذِه مَا يُوقد بَنو آدم جُزْء وَاحِد من سبعين جُزْءا من نَار جَهَنَّم قَالُوا وَالله إِن كَانَت لكَافِيَة قَالَ إِنَّهَا فضلت عَلَيْهَا بِتِسْعَة وَسِتِّينَ جُزْءا كُلهنَّ مثل حرهَا

رَوَاهُ مَالك وَالْبُخَارِيّ وَمُسلم وَالتِّرْمِذِيّ وَلَيْسَ عِنْد مَالك كُلهنَّ مثل حرهَا
وَرَوَاهُ أَحْمد وَابْن حبَان فِي صَحِيحه وَالْبَيْهَقِيّ فزادوا فِيهِ وَضربت بالبحر مرَّتَيْنِ وَلَوْلَا ذَلِك مَا جعل الله فِيهَا مَنْفَعَة لأحد

হাদীসের ব্যাখ্যা:

আমাদের পৃথিবীর আগুনের প্রকার এবং মাত্রার বিভিন্নতা রয়েছে যেমন- কাঠের আগুন, ঘাসের আগুনের থেকে তেজ হয়। পাথর এবং কয়লার আগুনের উত্তাপ কাঠের আগুনের চেয়ে অধিক। কোন কোন সময় কোন আগুনের তীব্রতা হয় এ থেকে আমরা সহজে অনুমান বুঝতে পারি যে, আগুনের তীব্রতা এবং উত্তাপের মধ্যে তারতম্য হতে পারে। হাদীসে বর্ণিত জাহান্নামের আগুন দুনিয়ার আগুনের চেয়ে অনেকগুণ বেশী দাহিকা সম্পন্ন।

হাদীসে একথাও বর্ণিত হয়েছে যে, জনৈক সাহাবী বলেছিলেন, হে আল্লাহর রাসূল! দুনিয়ার আগুনই যথেষ্ট ছিল। আল্লাহর রাসূল (ﷺ) তার কোন স্বতন্ত্র উত্তর প্রদান করেন নি এবং তার প্রথম কথা বিশদভাবে পুনরায় বর্ণনা করলেন। সম্ভবত তিনি এ উপদেশ দিতে চেয়েছেন যে, আল্লাহর 'জালাল' এবং 'কহর'কে ভয় করা উচিত এবং দোযখের আগুন থেকে বাঁচার জন্য চিন্তা-ভাবনা করা আমাদের কর্তব্য। আল্লাহ তা'আলার সিদ্ধান্ত সম্পর্কে কোনরূপ প্রশ্ন করা অনুচিত। তিনি যা কিছু করেন এবং করবেন তা সবই ঠিক।

বিঃদ্রঃ হাদীসে সত্তর সংখ্যাটি নিছক সংখ্যা না বুঝিয়ে অধিক বুঝানোর জন্যও ব্যবহৃত হতে পারে। কারণ আরবী পরিভাষায় এরূপ ক্ষেত্রে সাধারণত অধিক বুঝানোর জন্য সত্তর ও এ জাতীয় সংখ্যা ব্যবহার করা হয়। এমতাবস্থায় হাদীসে ব্যবহৃত সত্তর সংখ্যাটির অর্থ হবে, জাহান্নামের আগুনের উত্তাপ ও শক্তি হবে দুনিয়ার আগুনের অনেক অনেক গুণ বেশী। দুনিয়ার কোন জিনিসের সাথে জান্নাত ও জাহান্নামের তুলনা হতে পারে না।
ব্যাখ্যা সূত্রঃ_ মা'আরিফুল হাদীস (মাওলানা মনযূর নোমানী রহ.)
tahqiqতাহকীক:তাহকীক চলমান