আত্-তারগীব ওয়াত্-তারহীব- ইমাম মুনযিরী রহঃ

২৫. অধ্যায়ঃ পুনরুত্থান ও কিয়ামাত

হাদীস নং: ৫৫০৫
অধ্যায়ঃ পুনরুত্থান ও কিয়ামাত
পরিচ্ছেদ: হাওযে কাওসার, পাল্লা ও পুলসিরাত সম্পর্কে আলোচনা
৫৫০৫. হযরত আবূ উমামা (রা) থেকে বর্ণিত আছে যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন, নিশ্চয় আল্লাহ্ তা'আলা আমার সাথে ওয়াদা করেছেন যে, তিনি আমার উম্মাত থেকে সত্তর হাজার লোককে বিনা হিসাবে জান্নাতে দাখিল করবেন। ইয়াযীদ ইবন আখনাস (রা) বললেন, এরা তো আপনার উম্মাতের মধ্যে মাছির মাঝে লাল মাছির মতই নগণ্যসংখ্যক। তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, তিনি আমার সাথে সত্তর হাজারের ওয়াদা করেছেন। তন্মধ্যে প্রত্যেক হাজারের সাথে থাকবে আরও সত্তর হাজার এবং এর সাথে আরও তিন মুঠো আমাকে বাড়িয়ে দিয়েছেন। সে জিজ্ঞেস করল, হে আল্লাহর নবী। আপনার হাওযে কাওসারের বিস্তৃতি কতটুকু? তিনি বললেন, আদন থেকে আম্মানের মধ্যবর্তী স্থানের সমান। তার চেয়ে বেশি, তার চেয়ে বেশি। এ বলে তিনি আপন হাত দ্বারা ইশারা করেন। তিনি বললেন, তাতে দু'টি স্বর্ণ ও রূপার নালী আছে। সে জিজ্ঞেস করল, হে আল্লাহর নবী। আপনার হাওযে কাওসারের পানি কেমন হবে? তিনি বললেন, দুধের চেয়ে অধিক সাদা, মধুর চেয়ে অধিক মিষ্টি এবং মিশকের চেয়ে অধিক সুগন্ধিময়। যে তা থেকে এক ঢোক পানি পান করবে, সে তারপর কখনও তৃষ্ণার্ত হবে না এবং তার চেহারা কখনো কালিমা আচ্ছন্ন হবে না।
(আহমাদ হাদীসটি বর্ণনা করেছেন। এর সকল বর্ণনাকারী সহীহ্ হাদীসের ক্ষেত্রে গ্রহণযোগ্য। ইবন হিব্বানও তাঁর 'সহীহ' কিতাবে হাদীসটি বর্ণনা করেছেন। তাঁর বর্ণিত রিওয়ায়েতে তিনি বলেন,
আবু উমামা (রা) থেকে বর্ণিত আছে যে, ইয়াযীদ ইবন আখনাস (রা) জিজ্ঞেস করল, ইয়া রাসূলাল্লাহ্। আপনার হাওযে কাওসারের বিস্তৃতি কতটুকু? তিনি বললেন, আদন থেকে আম্মানের মধ্যবর্তী স্থানের সমান। তাতে আছে স্বর্ণ ও রূপার দু'টি নালী। সে জিজ্ঞেস করল, হে আল্লাহর নবী। আপনার হাওযে কাওসারের পানি কেমন হবে? তিনি বললেন, দুধের চেয়ে অধিক সাদা, মধুর চেয়ে অধিক মিষ্টি এবং মিশকের চেয়ে অধিক সুগন্ধিময়। যে তা থেকে পানি পান করবে, সে কখনও তৃষ্ণার্ত হবে না এবং তার চেহারা কখনও কালিমা আচ্ছন্ন হবে না।)
كتاب البعث
فصل فِي الْحَوْض وَالْمِيزَان والصراط
5505- وَعَن أبي أُمَامَة رَضِي الله عَنهُ أَن رَسُول الله صلى الله عَلَيْهِ وَسلم قَالَ إِن الله وَعَدَني أَن يدْخل الْجنَّة من أمتِي سبعين ألفا بِغَيْر حِسَاب فَقَالَ يزِيد بن الْأَخْنَس وَالله مَا أُولَئِكَ فِي أمتك إِلَّا كالذباب الأصهب فِي الذُّبَاب فَقَالَ رَسُول الله صلى الله عَلَيْهِ وَسلم قد وَعَدَني سبعين ألفا مَعَ كل ألف سبعين ألفا وَزَادَنِي ثَلَاث حثيات
قَالَ فَمَا سَعَة حوضك يَا نَبِي الله قَالَ كَمَا بَين عدن
إِلَى عمان وأوسع وأوسع يُشِير بِيَدِهِ قَالَ فِيهِ مثعبان من ذهب وَفِضة
قَالَ فماء حوضك يَا نَبِي الله قَالَ أَشد بَيَاضًا من اللَّبن وَأحلى من الْعَسَل وَأطيب رَائِحَة من الْمسك من شرب مِنْهُ شربة لم يظمأ بعْدهَا أبدا وَلم يسود وَجهه

رَوَاهُ أَحْمد وَرُوَاته مُحْتَج بهم فِي الصَّحِيح وَابْن حبَان فِي صَحِيحه
وَلَفظه قَالَ عَن أبي أُمَامَة أَن يزِيد بن الْأَخْنَس رَضِي الله عَنهُ قَالَ يَا رَسُول الله مَا سَعَة حوضك قَالَ مَا بَين عدن إِلَى عمان وَإِن فِيهِ مثعبين من ذهب وَفِضة
قَالَ فماء حوضك يَا نَبِي الله قَالَ أَشد بَيَاضًا من اللَّبن وَأحلى مذاقة من الْعَسَل وَأطيب رَائِحَة من الْمسك من شرب مِنْهُ لم يظمأ أبدا وَلم يسود وَجهه أبدا

হাদীসের তাখরীজ (সূত্র):

المثعب بِفَتْح الْمِيم وَالْعين الْمُهْملَة جَمِيعًا بَينهمَا ثاء مُثَلّثَة وَآخره مُوَحدَة وَهُوَ مسيل المَاء

হাদীসের ব্যাখ্যা:

দুই হাত পূর্ণ করে কোন জিনিস প্রদান করা হলে আরবী ভাষায়...... বলা হয়, উর্দু বা হিন্দীতে যে প্রতিশব্দ ব্যবহার করা হয় তার অর্থ হল কানায় কানায় পরিপূর্ণ। হাদীসের অর্থ হল আল্লাহ তা'আলা ওয়াদা করেছেন যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর উম্মতের ৭০ হাজার মানুষকে বিনা হিসাব এবং কোনরূপ আযাব ছাড়া বেহেশতে প্রবেশ করতে দেবেন। অনুরূপভাবে বিনা হিসাব এবং কোনরূপ আযাব ছাড়াই প্রত্যেক হাজারের সাথে আরও সত্তর হাজার উম্মতী জান্নাতে প্রবেশ করবে। এছাড়াও আল্লাহ্ তা'আলা তার খাস রহমতের দ্বারা তিনবার আখেরী নবীর উম্মতের বিপুল সংখ্যক ব্যক্তিকে জান্নাতে প্রবেশ করতে দেবেন।

سبحانك وبحمدك يا ارحم الراحمين

একমাত্র তখন এ ধরনের হাদীসের পূর্ণ হাকীকত উন্মোচিত হবে যখন এসব জিনিস বাস্তবতঃ এবং প্রকৃতপক্ষে চোখের সামনে সংঘঠিত হবে। আমাদের জ্ঞান এবং বোধশক্তি এত ত্রুটিপূর্ণ যে কোন কোন সময় সংবাদপত্রে প্রকাশিত কোন কোন বিষয় আমরা সঠিকভাবে হৃদয়ঙ্গম করতে ব্যর্থ হই

صدق ربنا عز وجل
وما أوتيتم من العلم إلا قليلا

এ হাদীসে যে সুসংবাদ প্রদান করা হয়েছে তা এ উম্মতের প্রতি আল্লাহ সুবহানাহু খাস মেহেরবানী। আখেরী নবীর উম্মতকে আল্লাহ্ তা'আলা যে ভালবাসেন তার ইঙ্গিত আলোচ্য হাদীসে রয়েছে। বিনা হিসাব এবং বিনা আযাব বেহেশতে প্রবেশ করার সৌভাগ্য তারা হাসিল করবেন যারা আল্লাহ ও তার রাসূলের তরীকা মোতাবেক যিন্দেগী পরিচালনা করেছেন এবং আল্লাহর দীনকে প্রতিষ্ঠা করার জন্য সর্বাত্মক প্রচেষ্টায় নিজেদেরকে নিয়োজিত করেছেন। এ দুর্লভ সৌভাগ্য সম্ভবতঃ তারা হাসিল করবেন যারা দুনিয়ার যিন্দেগীতে বাতিলের সামনে মাথা নত করেন নি, আখিরাতের বিনিময়ে দুনিয়া লাভ করেন নি বরং তার বিপরীত আখিরাতের জন্য দুনিয়া কুরবান দিয়েছেন এবং তাগুতের বিরুদ্ধে সারা জীবন জিহাদ করেছেন। আল্লাহ আমাদেরকে এ সৌভাগ্যবানদের অন্তর্ভুক্ত করুন।
ব্যাখ্যা সূত্রঃ_ মা'আরিফুল হাদীস (মাওলানা মনযূর নোমানী রহ.)
tahqiqতাহকীক:তাহকীক চলমান