আত্-তারগীব ওয়াত্-তারহীব- ইমাম মুনযিরী রহঃ

২৩. অধ্যায়ঃ তাওবা ও যুহদ

হাদীস নং: ৪৯০৫
অধ্যায়ঃ তাওবা ও যুহদ
দুনিয়ার প্রতি অনাসক্তি ও দুনিয়ার স্বল্পতায় তুষ্ট থাকার জন্য উৎসাহ দান এবং দুনিয়ার প্রতি ভালবাসা ও তজ্জন্য প্রতিযোগিতা-প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার ব্যাপারে সতর্কীকরণ এবং পানাহার ও লেবাস পোষাক ইত্যাদিতে নবী (ﷺ)-এর জীবন-যাপন পদ্ধতি সম্পর্কিত কতিপয় হাদীস
৪৯০৫. হযরত আনাস (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, সালমান (রা) অসুস্থ হলেন, তখন সা'দ (রা) তাঁকে দেখতে গেলেন। গিয়ে তাঁকে দেখলেন যে, তিনি কাঁদছেন। তখন সা'দ (রা) তাঁকে জিজ্ঞেস করলেন, হে আমার ভাই। আপনি কাঁদছেন কেন? আপনি কি রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ)-এর সাহচর্য লাভ করেননি? তাকি নয়? তা' কি নয়? সালমান (রা) বললেনঃ আমি দু'টো বিষয়ের কোনটির জন্য কাঁদছি না। আমি দুনিয়ার প্রতি কার্পণ্যের অথবা পরকালকে অপসন্দ করার কারণে কাঁদছি না। বরং (এ জন্য কাঁদছি যে,) রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আমাদের কাছ থেকে একটি প্রতিশ্রুতি নিয়েছিলেন। আমি দেখছি, আমি (সে প্রতিশ্রুতি), লঙ্ঘন করেছি। সা'দ (রা) জিজ্ঞেস করলেন, তিনি আপনাদের কাছ থেকে কি প্রতিশ্রুতি নিয়েছিলেন? সালমান (রা) বললেনঃ তিনি আমাদের কাছ থেকে এ প্রতিশ্রুতি নিয়েছিলেন যে, যেন মুসাফিরের পাথেয় পরিমাণ আসবাবপত্র তোমাদের প্রত্যেকের প্রয়োজনপূর্ণ করে। আমি দেখছি যে, আমি (সে প্রতিশ্রুতি) লঙ্ঘন করেছি। তবে হে সা'দ। যখন তুমি বিচার করবে, তখন বিচারের সময়টিতে যখন (কোন কিছু) তুমি বণ্টন করবে, তখন বণ্টনের সময়টিতে এবং যখন (কোন কাজ করার) সংকল্প করবে তখন সংকল্প করার সময়টিতে তুমি আল্লাহকে ভয় করবে। সাবিত (র) বলেনঃ আমার কাছে এ তথ্য এসেছে যে, তিনি (মৃত্যুকালে) তাঁর কাছে থাকা একটি ক্ষুদ্র মৃগনাভি সহ কুড়ির চেয়ে কিছু বেশি দিরহাম রেখে যান।
(ইবন মাজাহ (র) হাদীসটি বর্ণনা করেছেন। এর সকল বর্ণনাকারী নির্ভরযোগ্য। তন্মধ্যে জা'ফর ইবন সুলায়মান ব্যতীত অন্যান্য সবাইকে নির্ভরযোগ্যরূপে বুখারী, মুসলিম (র) উভয়েই গ্রহণ করেছেন। কিন্তু জা'ফর ইবন সুলায়মানকে কেবল মুসলিমই নির্ভরযোগ্যরূপে মেনে নিয়েছেন।
[হাফিয (র) বলেনঃ] 'সহীহ ইবন হিব্বান'-এ বর্ণিত আছে যে, সালমান (রা)-এর সমস্ত সম্পত্তি একত্রিত করা হলে দেখা গেল যে, সর্বসাকুল্যে পনের দিরহাম হল। তাবারানীর রিওয়ায়েতে আছে যে, সালমান (রা)-এর আসবাবপত্র বিক্রি করা হল, যার মূল্য দাঁড়াল সর্বমোট চৌদ্দ দিরহাম। ইনশাআল্লাহ্ হাদীসটি পরে বর্ণিত হবে।)
كتاب التوبة والزهد
التَّرْغِيب فِي الزّهْد فِي الدُّنْيَا والاكتفاء مِنْهَا بِالْقَلِيلِ والترهيب من حبها وَالتَّكَاثُر فِيهَا والتنافس وَبَعض مَا جَاءَ فِي عَيْش النَّبِي صلى الله عَلَيْهِ وَسلم فِي المأكل والملبس وَالْمشْرَب وَنَحْو ذَلِك
4905- وَعَن أنس رَضِي الله عَنهُ قَالَ اشْتَكَى سلمَان فعاده سعد فَرَآهُ يبكي فَقَالَ لَهُ سعد مَا يبكيك يَا أخي أَلَيْسَ قد صَحِبت رَسُول الله صلى الله عَلَيْهِ وَسلم أَلَيْسَ أَلَيْسَ قَالَ سلمَان مَا أبْكِي وَاحِدَة من اثْنَتَيْنِ مَا أبْكِي ضنا على الدُّنْيَا وَلَا كَرَاهِيَة الْآخِرَة وَلَكِن رَسُول الله صلى الله عَلَيْهِ وَسلم عهد إِلَيْنَا عهدا مَا أَرَانِي إِلَّا قد تعديت
قَالَ وَمَا عهد إِلَيْك قَالَ عهد إِلَيْنَا أَنه يَكْفِي أحدكُم مثل زَاد الرَّاكِب وَلَا أَرَانِي إِلَّا قد تعديت وَأما أَنْت يَا سعد فَاتق الله عِنْد حكمك إِذا حكمت وَعند قسمك إِذا قسمت وَعند همك إِذا هَمَمْت
قَالَ ثَابت فبلغني أَنه مَا ترك إِلَّا بضعَة وَعشْرين درهما مَعَ نفيقة كَانَت عِنْده

رَوَاهُ ابْن مَاجَه وَرُوَاته ثِقَات احْتج بهم الشَّيْخَانِ إِلَّا جَعْفَر بن سُلَيْمَان فاحتج بِهِ مُسلم وَحده
قَالَ الْحَافِظ وَقد جَاءَ فِي صَحِيح ابْن حبَان أَن مَال سلمَان رَضِي الله عَنهُ جمع فَبلغ خَمْسَة عشر درهما وَفِي الطَّبَرَانِيّ أَن مَتَاع سلمَان بيع فَبلغ أَرْبَعَة عشر درهما وَسَيَأْتِي إِن شَاءَ الله تَعَالَى
tahqiqতাহকীক:তাহকীক চলমান