আত্-তারগীব ওয়াত্-তারহীব- ইমাম মুনযিরী রহঃ
২৩. অধ্যায়ঃ তাওবা ও যুহদ
হাদীস নং: ৪৮৮৬
অধ্যায়ঃ তাওবা ও যুহদ
দুনিয়ার প্রতি অনাসক্তি ও দুনিয়ার স্বল্পতায় তুষ্ট থাকার জন্য উৎসাহ দান এবং দুনিয়ার প্রতি ভালবাসা ও তজ্জন্য প্রতিযোগিতা-প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার ব্যাপারে সতর্কীকরণ এবং পানাহার ও লেবাস পোষাক ইত্যাদিতে নবী (ﷺ)-এর জীবন-যাপন পদ্ধতি সম্পর্কিত কতিপয় হাদীস
৪৮৮৬. হযরত ইবন আব্বাস (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন, আল্লাহ তা'আলা সংগোপনে হযরত মূসা (আ)-এর সাথে তিনদিনে এক লক্ষ চল্লিশ হাজার কথা বলেন। আল্লাহ তা'আলার কালাম মূসা (আ)-এর কর্ণগোচরে আসার পর যখন তিনি মানুষের কথা শুনলেন, তখন তাদের তাঁর কাছে খুবই অপসন্দ হল।* তাঁর প্রতিপালক তাঁর কাছে সংগোপনে যেসব কথা বলেন তাতে তিনি বলেন, হে মূসা। দুনিয়ার প্রতি অনাসক্তির সমতুল্য কোন আমল আমার সামনে আমলকারীগণ প্রদর্শন করেনি। আমি যেসব বিষয় হারাম করে দিয়েছি, তা থেকে দূরে থাকার সমতুল্য কোন গুণ নিয়ে কোন নৈকট্যকামী আমার নৈকটা কামনা করেনি। হযরত মূসা (আ) জিজ্ঞেস করলেনঃ হে সমগ্র জগতের প্রতিপালক। হে প্রতিদান দিবসের মালিক এবং হে সম্মান ও মাহাত্ম্যের অধিকারী। আপনি তাদের জন্য কি পুরস্কার প্রস্তুত করে রেখেছেন এবং তাদেরকে কি প্রতিদান দেবেন? তিনি বললেন: "দুনিয়ার প্রতি অনাসক্তদের জন্য আমি জান্নাত মঞ্জুর করেছি। তারা জান্নাতের যেখানে ইচ্ছা অবস্থান করবে। আর আমার নিষিদ্ধ বিষয়াদি থেকে বিরত ব্যক্তিদের অবস্থা এই যে, যখন কিয়ামতের দিবস সংঘটিত হবে তখন সবাইকে আমি (তাদের আমল সম্পর্কে) জিজ্ঞাসাবাদ করব এবং (তাদের আমল) যাচাই করে দেখব। তবে, হারাম থেকে বিরত ব্যক্তিগণ হতে তার ব্যতিক্রম। কেননা আমি তাদের ব্যাপারে লজ্জাবোধ করব এবং তাদেরকে মর্যাদা প্রদান করব। তারপর তাদেরকে বিনা হিসাবে জান্নাতে দাখিল করব। আর আমার ভয়ে ক্রন্দনরতদের জন্য রয়েছে মহান বন্ধু এ পুরস্কারের বেলায় অন্যেরা তাদের সাথে শরীক হবে না।"
(তাবারানী ও ইস্পাহানী হাদীসটি (র) বর্ণনা করেছেন।)
*আল্লাহর কালামের মুকাবিলায় মানুষের কথা শুনতে অপসন্দ করলেন।
(তাবারানী ও ইস্পাহানী হাদীসটি (র) বর্ণনা করেছেন।)
*আল্লাহর কালামের মুকাবিলায় মানুষের কথা শুনতে অপসন্দ করলেন।
كتاب التوبة والزهد
التَّرْغِيب فِي الزّهْد فِي الدُّنْيَا والاكتفاء مِنْهَا بِالْقَلِيلِ والترهيب من حبها وَالتَّكَاثُر فِيهَا والتنافس وَبَعض مَا جَاءَ فِي عَيْش النَّبِي صلى الله عَلَيْهِ وَسلم فِي المأكل والملبس وَالْمشْرَب وَنَحْو ذَلِك
4886- وَرُوِيَ عَن ابْن عَبَّاس رَضِي الله عَنْهُمَا قَالَ قَالَ رَسُول الله صلى الله عَلَيْهِ وَسلم إِن الله عز وَجل ناجى مُوسَى بِمِائَة ألف وَأَرْبَعين ألف كلمة فِي ثَلَاثَة أَيَّام فَلَمَّا سمع مُوسَى كَلَام الْآدَمِيّين مقتهم لما وَقع فِي مسامعه من كَلَام الرب عز وَجل وَكَانَ فِيمَا ناجاه ربه أَن قَالَ يَا مُوسَى إِنَّه لم يتصنع لي المتصنعون بِمثل الزّهْد فِي الدُّنْيَا وَلم يتَقرَّب إِلَيّ المتقربون بِمثل الْوَرع عَمَّا حرمت عَلَيْهِم وَلم يتعبد إِلَيّ المتعبدون بِمثل الْبكاء من خَشْيَتِي قَالَ مُوسَى يَا رب الْبَريَّة كلهَا وَيَا مَالك يَوْم الدّين وَيَا ذَا الْجلَال وَالْإِكْرَام مَاذَا أَعدَدْت لَهُم وماذا جزيتهم قَالَ أما الزهاد فِي الدُّنْيَا فَإِنِّي أبحتهم جنتي يتبوؤون مِنْهَا حَيْثُ شاؤوا وَأما الورعون عَمَّا حرمت عَلَيْهِم فَإِنَّهُ إِذا كَانَ يَوْم الْقِيَامَة لم يبْق عبد إِلَّا ناقشته وفتشته إِلَّا الورعون فَإِنِّي أستحييهم وأجلهم وَأكْرمهمْ فأدخلهم الْجنَّة بِغَيْر حِسَاب وَأما البكاؤون من
خَشْيَتِي فَأُولَئِك لَهُم الرفيق الْأَعْلَى لَا يشاركون فِيهِ
رَوَاهُ الطَّبَرَانِيّ والأصبهاني
خَشْيَتِي فَأُولَئِك لَهُم الرفيق الْأَعْلَى لَا يشاركون فِيهِ
رَوَاهُ الطَّبَرَانِيّ والأصبهاني