আত্-তারগীব ওয়াত্-তারহীব- ইমাম মুনযিরী রহঃ

২৩. অধ্যায়ঃ তাওবা ও যুহদ

হাদীস নং: ৪৮৪৯
অধ্যায়ঃ তাওবা ও যুহদ
দারিদ্র্যও স্বল্পসামগ্রীর প্রতি উৎসাহ প্রদান এবং ফকীর-মিসকীন ও দুর্বলদের মর্যাদা এবং তাদেরকে ভালবাসা ও তাদের সাথে উঠাবসা করা
৪৮৪৯. হযরত আবদুল্লাহ ইবন আবি আওফা (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তাঁর সাহাবীদের কাছে গেলেন তখন তাঁরা পুরোপুরি একাগ্রচিত্তে বসা ছিলেন। তিনি বলেন, আমি গতরাত্রে জান্নাতে তোমাদের স্থান ও তোমাদের স্থানের, আশপাশ প্রত্যক্ষ করেছি। তারপর রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আবু বকর (রা)-এর দিকে ফিরে বললেন, হে আবু বকর! আমি এক ব্যক্তিকে চিনি, যার নাম ও তার পিতামাতার নাম আমি জানি। সে জান্নাতের যে দরজা দিয়েই প্রবেশ করলো (ফিরিশতাগণ) বললোঃ মারহাবা! মারহাবা! সালমান বললেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ্ (ﷺ)। ইনিই কি সেই উঁচু মর্যাদার অধিকারী ব্যক্তি? জবাবে তিনি বললেন। তিনি আবু বকর ইবন আবু কুহাফা। তারপর তিনি উমর (রা)-এর দিকে ফিরে বলেন, হে উমর। আমি জান্নাতে শ্বেত মুক্তার একটি প্রাসাদ দেখেছি। তার মুক্তাগুলো অতি শুভ্র, স্বর্ণের আস্তরকৃত। আমি জিজ্ঞেস করলাম, এ প্রাসাদটি কার? উত্তরে বলা হল, কুরায়শের এক যুবকের। তখন আমি ধারণা করলাম যে, প্রাসাদটি বুঝি আমারই জন্যে। সুতরাং আমি তাতে প্রবেশ করতে উদ্যত হলাম। তখন (আমাকে) বলল, হে মুহাম্মদ। এ প্রাসাদটি উমর ইবন খাত্তাবের জন্য। হে আবু হাফ্স! একমাত্র তোমার আত্মমর্যাদাবোধই তাতে প্রবেশ করতে আমাকে বাধা দিয়েছে। তখন হযরত উমর (রা) কেঁদে দিলেন এবং বললেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমার পিতামাতা আপনার জন্য কুরবান! আপনার ব্যাপারেও কি আমি কিছু মনে করতে পারি? এরপর উসমান (রা)-এর দিকে ফিরে বললেন, হে উসমান! নিশ্চয় প্রত্যেক নবীর জন্য জান্নাতে একজন অন্তরঙ্গ বন্ধু থাকবে। আর তুমি হলে আমার জান্নাতের সেই অন্তরঙ্গ বন্ধু।
তারপর তিনি আলী (রা)-এর হাত ধরে বললেন, হে আলী! তুমি কি এতে সন্তুষ্ট নও যে, জান্নাতে তোমার স্থান আমার স্থানের মুখোমুখি হবে। এরপর তালহা ও যুবায়র (রা)-এর দিকে ফিরে বললেন, হে তালহা ও যুবায়র। নিশ্চয় প্রত্যেক নবীর নিষ্ঠাবান সহচর থাকে। আর তোমরা দু'জন হচ্ছে আমার নিষ্ঠাবান সহচর।
তারপর তিনি আব্দুর রহমান ইবন আওফ (রা)-এর দিকে ফিরে বললেন, আমার সাহাবীদের মধ্যে তোমাকে আমাদের সামনে বিলম্বে পেশ করা হল। ফলে আমি আশংকা করলাম যে, তুমি কি ধ্বংস হয়ে গেলে এবং আমি ভীষণ ঘর্মাক্ত হয়ে গেলাম। আমি জিজ্ঞেস করলাম, তুমি কেন বিলম্ব করলে হে! তখন তুমি বললে, আমার অধিক সম্পদের কারণে আমি এ পর্যন্ত বাধাপ্রাপ্ত ও হিসাব-নিকাশের সম্মুখীন রয়েছি। ইয়া রাসূলাল্লাহ আমার সম্পদ আমি কোথা থেকে উপার্জন করেছি এবং কোথায় ব্যয় করেছি, সে ব্যাপারে আমি জিজ্ঞাসিত হয়েছি। তখন আব্দুর রহমান (রা) কেঁদে দিলেন এবং বললেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ্। এই একশ' উট আজ রাত্রে মিসরের ব্যবসা থেকে আমার কাছে এসেছে। আমি আপনাকে সাক্ষী রেখে বলছি, এগুলো মদীনার দরিদ্র ইয়াতীমদের জন্য সাদাকা। যাতে আল্লাহ তা'আলা সেদিন আমার বোঝা হাল্কা করে দেন।
(বাযযার হাদীসটি বর্ণনা করেছেন। হাদীসের উল্লিখিত ভাষা তাঁরই বর্ণিত। তাবারানীও হাদীসটি বর্ণনা করেছেন। আম্মার ইবন সায়ফ ব্যতীত হাদীসটি সকল রাবীই নির্ভরযোগ্য। আবার কেউ কেউ তাঁরও নির্ভরযোগ্যতা স্বীকার করেছেন।)
[হাফিয (র) বলেনঃ] হাদীসটি একাধিক সনদে বর্ণিত হয়েছে। একদল সাহাবায়ে কিরামের সূত্রে নবী থেকে বর্ণিত আছে যে, "আবদুর রহমান ইবন আওফ (রা)-এর অধিক সম্পদের কারণে তিনি হামাগুড়ি দিয়ে জান্নাতে প্রবেশ করবেন।" কিন্তু তন্মধ্যে সর্বোৎকৃষ্ট রিওয়ায়েতটিও আপত্তিমুক্ত নয় এবং এসব রিওয়ায়েতের কোনটিই স্বতন্ত্রভাবে 'হাসান'-এর মর্যাদায় পৌছে নি। হযরত আব্দুর রহমান ইবন আওফ (রা)-এর সম্পদ ছিল ঠিক তেমনি, যেমন রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) বর্ণনা দিয়েছেনঃ "সৎ লোকের জন্য সৎ সম্পদ প্রশংসাযোগ্য।" সুতরাং কি করে পরকালে তাঁর মর্যাদা খাটো হতে পারে অথবা এ উম্মাতের অন্যান্য ধনী ব্যক্তিবর্গ বাদেই কেবল তাঁরই এ দশা কিভাবে হতে পারে? কেননা, অন্যদের ব্যাপারে এরূপ বর্ণিত হয়নি। তবে সাধারণভাবে এ উম্মাতের ধনী ব্যক্তিবর্গের পূর্বে দরিদ্রদের জান্নাতে যাওয়ার বিষয়টি সহীহ হাদীসে বর্ণিত হয়েছে।(আল্লাহই ভালো জানেন)
كتاب التوبة والزهد
التَّرْغِيب فِي الْفقر وَقلة ذَات الْيَد وَمَا جَاءَ فِي فضل الْفُقَرَاء وَالْمَسَاكِين وَالْمُسْتَضْعَفِينَ وحبهم ومجالستهم
4849 - وَعَن عبد الله بن أبي أوفى رَضِي الله عَنْهُمَا قَالَ خرج رَسُول الله صلى الله عَلَيْهِ وَسلم على أَصْحَابه أجمع مَا كَانُوا فَقَالَ إِنِّي رَأَيْت اللَّيْلَة مَنَازِلكُمْ فِي الْجنَّة وَقرب مَنَازِلكُمْ ثمَّ إِن رَسُول الله صلى الله عَلَيْهِ وَسلم أقبل على أبي بكر رَضِي الله عَنهُ فَقَالَ يَا أَبَا بكر إِنِّي لأعرف رجلا أعرف اسْمه وَاسم أَبِيه وَأمه لَا يَأْتِي بَابا من أَبْوَاب الْجنَّة إِلَّا قَالُوا مرْحَبًا مرْحَبًا فَقَالَ سلمَان إِن هَذَا الْمُرْتَفع شَأْنه يَا رَسُول الله قَالَ فَهُوَ أَبُو بكر بن أبي قُحَافَة ثمَّ أقبل على عمر رَضِي الله عَنهُ فَقَالَ يَا عمر لقد رَأَيْت فِي الْجنَّة قصرا من درة بَيْضَاء لؤلؤه أَبيض مشيد بالياقوت فَقلت لمن هَذَا فَقيل لفتى من قُرَيْش فَظَنَنْت أَنه لي فَذَهَبت لأدخله فَقَالَ يَا مُحَمَّد هَذَا لعمر بن الْخطاب فَمَا مَنَعَنِي من دُخُوله إِلَّا غيرتك يَا أَبَا حَفْص فَبكى عمر وَقَالَ بِأبي وَأمي عَلَيْك أغار يَا رَسُول الله ثمَّ أقبل على عُثْمَان رَضِي الله عَنهُ فَقَالَ يَا عُثْمَان إِن لكل نَبِي رَفِيقًا فِي الْجنَّة وَأَنت رفيقي فِي الْجنَّة ثمَّ أَخذ بيد عَليّ رَضِي الله عَنهُ فَقَالَ يَا عَليّ أَو مَا ترْضى أَن يكون مَنْزِلك فِي الْجنَّة مُقَابل منزلي ثمَّ أقبل على طَلْحَة وَالزُّبَيْر رَضِي الله عَنْهُمَا فَقَالَ يَا طَلْحَة وَيَا زبير إِن لكل نَبِي حوارِي وأنتما حواريي ثمَّ أقبل على عبد الرَّحْمَن بن عَوْف رَضِي الله عَنهُ فَقَالَ لقد بطأ بك عَنَّا من بَين أَصْحَابِي حَتَّى خشيت أَن تكون هَلَكت وعرقت عرقا شَدِيدا
فَقلت مَا بطأ بك فَقلت يَا رَسُول الله من كَثْرَة مَالِي مَا زلت مَوْقُوفا محاسبا أسأَل عَن مَالِي من أَيْن اكتسبته وَفِيمَا أنفقته فَبكى عبد الرَّحْمَن وَقَالَ يَا رَسُول الله هَذِه مائَة رَاحِلَة جَاءَتْنِي اللَّيْلَة من تِجَارَة مصر فَإِنِّي أشهدك أَنَّهَا على فُقَرَاء أهل الْمَدِينَة وأيتامهم لَعَلَّ الله يُخَفف عني ذَلِك الْيَوْم

رَوَاهُ الْبَزَّار وَاللَّفْظ لَهُ وَالطَّبَرَانِيّ وَرُوَاته ثِقَات إِلَّا عمار بن سيف وَقد وثق
قَالَ الْحَافِظ وَقد ورد من غير وَجه وَمن حَدِيث جمَاعَة من الصَّحَابَة عَن النَّبِي صلى الله عَلَيْهِ وَسلم أَن عبد الرَّحْمَن بن عَوْف رَضِي الله عَنهُ يدْخل الْجنَّة حبوا لِكَثْرَة مَاله وَلَا يسلم أَجودهَا من مقَال وَلَا يبلغ مِنْهَا شَيْء بِانْفِرَادِهِ دَرَجَة الْحسن وَلَقَد كَانَ مَاله بِالصّفةِ الَّتِي ذكر رَسُول الله صلى الله عَلَيْهِ وَسلم نعم المَال الصَّالح للرجل الصَّالح فَأنى تنقص درجاته فِي الْآخِرَة أَو يقصر بِهِ دون غَيره من أَغْنِيَاء هَذِه الْأمة فَإِنَّهُ لم يرد هَذَا فِي حق غَيره إِنَّمَا صَحَّ سبق فُقَرَاء هَذِه الْأمة أغنياءهم على الْإِطْلَاق وَالله أعلم
tahqiqতাহকীক:তাহকীক চলমান