আত্-তারগীব ওয়াত্-তারহীব- ইমাম মুনযিরী রহঃ

২২. অধ্যায়ঃ শিষ্টাচার

হাদীস নং: ৪৪০৮
অধ্যায়ঃ শিষ্টাচার
হিংসা-বিদ্বেষ করার প্রতি ভীতি প্রদর্শন এবং অন্তর পাপমুক্ত রাখার কযীলত
৪৪০৮. হযরত যুবায়র (রা) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন: তোমাদের মধ্যে পূর্ববর্তী উম্মাতের কুস্বভাবগুলো ধীরেধীরে প্রবেশ করবে। এর মধ্যে একটি হল, হিংসা বিদ্বেষ। আর বিদ্বেষই ধ্বংসকারী। সাবধান! আমি ধ্বংসকারী বলতে মাথা মুণ্ডন বুঝাইনি। আমার কথার অর্থ হচ্ছে দ্বীনকে ধ্বংসকারী।
(বাযযার উত্তম সনদে, বায়হাকী ও অন্যান্যগণ বর্ণনা করেন।)
كتاب الأدب
التَّرْهِيب من الْحَسَد وَفضل سَلامَة الصَّدْر
4408- وَعَن الزبير رَضِي الله عَنهُ أَن رَسُول الله صلى الله عَلَيْهِ وَسلم قَالَ دب إِلَيْكُم دَاء الْأُمَم قبلكُمْ الْحَسَد والبغضاء والبغضاء هِيَ الحالقة أما إِنِّي لَا أَقُول تحلق الشّعْر وَلَكِن تحلق الدّين

رَوَاهُ الْبَزَّار بِإِسْنَاد جيد وَالْبَيْهَقِيّ وَغَيرهمَا

হাদীসের ব্যাখ্যা:

ঈর্ষা ও ঘৃণা খুবই মারাত্মক ব্যধি। এ দুটো মন্দ অভ্যাসের কারণে পূর্ববর্তী জাতিসমূহের মধ্যে অন্তর্দ্বন্দ্ব, সংঘাত এবং শত্রুতার সৃষ্টি হয়েছে। যখন কোন জাতির লোকজন পরস্পর দ্বন্দ্ব ও শত্রুতার মধ্যে লিপ্ত হয়, তখন জাতি হিসেবে দায়িত্ব ও যিম্মাদারী পালনে ব্যর্থ হয়। ঈর্ষা ও ঘৃণা শত্রুতার সৃষ্টি করে এবং শত্রুতা জাতির জীবনীশক্তি নিঃশেষ করে দেয়। দীনি ভাতৃত্বের বুনিয়াদ পারস্পরিক প্রেম-প্রীতি ও বিশ্বাস। কিন্তু ঈর্ষা ও ঘৃণা দীনের মূল ভিত্তির উপর আঘাত হানে এবং দীনের ধ্বংস সাধন করে। তাই নবী করীম ﷺ এ মারাত্মক ব্যধির ততোধিক মারাত্মক আক্রমণ সম্পর্কে উম্মতকে সাবধান করে দিয়েছেন। বস্তুত পূর্ববর্তী উম্মতদের ন্যায় মুসলিম উম্মতও এ মারাত্মক রোগের শিকার হয়েছে এবং তার সর্বনাশা পরিণতি হিসেবে তারা দুর্বল ও নিস্তেজ হয়ে পড়েছে। এ ব্যধিগ্রস্ত মুসলিম উম্মতের একব্যক্তি অপর ব্যক্তির বিরুদ্ধে, এক ফেরকা অপর ফেরকার বিরুদ্ধে, এক দল অপর দলের বিরুদ্ধে কাদা ছোঁড়াছুড়ি করার জন্য যাবতীয় শক্তি ও যোগ্যতা নিয়োজিত করছে। আফসোস! যদি মুসলিম উম্মত অন্তর্দ্বন্দ্ব ও সংঘাত পরিহার করে অর্ধেক শক্তিও নিজেদের সার্বিক কল্যাণ ও উন্নতির জন্য ব্যয় করত, তাহলে আল্লাহর দীন যাবতীয় মতবাদ ও মতাদর্শের উপর জয়লাভ করত। নিজেদেরকে সংশোধন না করলে কিয়ামতের দিন আসামীর কাঠগড়ায় দাঁড়াতে হবে এবং দীনের লোকসান করার জন্য কৈফিয়ত দিতে হবে।
ব্যাখ্যা সূত্রঃ_ মা'আরিফুল হাদীস (মাওলানা মনযূর নোমানী রহ.)
tahqiqতাহকীক:তাহকীক চলমান