আত্-তারগীব ওয়াত্-তারহীব- ইমাম মুনযিরী রহঃ

২২. অধ্যায়ঃ শিষ্টাচার

হাদীস নং: ৪৩৭১
অধ্যায়ঃ শিষ্টাচার
কল্যাণকর কথাবার্তা ব্যতীত নীরবতা অবলম্বন করার প্রতি অনুপ্রেরণা এবং অধিক বাক্যালাপের প্রতি ভীতি প্রদর্শন
৪৩৭১. হযরত আবু যার (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা আমি রাসুলুল্লাহ (ﷺ) এর নিকট উপস্থিত হলাম এই কথা বলে তিনি একটি সুদীর্ঘ হাদীস বর্ণনা করেন। হাদীস বর্ণনার এক পর্যায়ে তিনি উল্লেখ করেন যে, আমি বললামঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ্। আপনি আমাকে উপদেশ দিন। তিনি বলেনঃ আমি তোমাকে আল্লাহ্ ভীতি অবলম্বনের জন্য উপদেশ দিচ্ছি। কেননা, তা তোমার যাবতীয় কাজের শোভন। আমি বললাম: ইয়া রাসূলাল্লাহ্। আপনি আমাকে আরো বাড়িয়ে বলুন। তিনি বলেনঃ তুমি কুরআন তিলাওয়াত ও আল্লাহর যিকরকে অপরিহার্য করে নেবে। কেননা, তা আসমানে তোমার আলোচনার বিষয় এবং পৃথিবীতে তোমার জন্য জ্যোতি। আমি বললাম: ইয়া রাসূলাল্লাহ্। আপনি আমাকে আরো বাড়িয়ে বলুন। তিনি বলেনঃ তুমি নিজের জন্য দীর্ঘ নীরবতা অপরিহার্য করে নেবে। কেননা, তা শয়তানকে বিতাড়িত করার উপায় ও তোমার দ্বীনের ব্যাপারে সাহায্য প্রাপ্তির পথ। আমি বললাম: আপনি আমাকে আরো বাড়িয়ে বলুন। তিনি বলেন: তুমি অধিক হাসি থেকে বিরত থাকবে। কেননা, তা অন্তরকে নিষ্প্রাণ করে দেয়, তোমার চেহারায় জ্যোতি দূরীভূত করে দেয়। আমি বললামঃ আপনি আমাকে আরো বাড়িয়ে বলুন। তিনি বলেন: তুমি সত্য কথা বলবে, যদিও 'তা তিক্ত হয়। আমি বললামঃ আপনি আমাকে আরো বাড়িয়ে বলুন। তিনি বলেন: তুমি আল্লাহর ব্যাপারে কোন নিন্দুকের নিন্দার ভয় করবে না। আমি বললাম: আপনি আমাকে আরো বাড়িয়ে বলুন। তিনি বলেন: তুমি নিজের জন্য যা চাওনা, তা অপরের জন্য কামনা করবে না।
(আহমাদ, তাবারানী, ইব্‌ন হিব্বানের সহীহ গ্রন্থ ও হাকিমের নিজ শব্দে বর্ণিত। তিনি বলেন: হাদীসের সনদ সহীহ। আমি ইবন হিব্বানের শব্দমালায় এই হাদীসের একটি বিরাট অংশ الترهيب من الظلم অধ্যায়ের লিখেছি, যার মধ্যে ইব্‌রাহীম (আ)-এর সহীফার একটি ঘটনার উদ্ধৃতি আছে। আল-হাদীস।)
كتاب الأدب
التَّرْغِيب فِي الصمت إِلَّا عَن خير والترهيب من كَثْرَة الْكَلَام
4371- وَعَن أبي ذَر رَضِي الله عَنهُ قَالَ دخلت على رَسُول الله صلى الله عَلَيْهِ وَسلم فَذكر الحَدِيث بِطُولِهِ إِلَى أَن قَالَ قلت يَا رَسُول الله أوصني
قَالَ أوصيك بتقوى الله فَإِنَّهَا زين لأمرك كُله
قلت يَا رَسُول الله زِدْنِي
قَالَ عَلَيْك بِتِلَاوَة الْقُرْآن وَذكر الله عز وَجل فَإِنَّهُ ذكر لَك فِي السَّمَاء وَنور لَك فِي الأَرْض
قلت يَا رَسُول الله زِدْنِي
قَالَ عَلَيْك بطول الصمت فَإِنَّهُ مطردَة للشَّيْطَان وَعون لَك على أَمر دينك
قلت زِدْنِي
قَالَ وَإِيَّاك وَكَثْرَة الضحك فَإِنَّهُ يُمِيت الْقلب وَيذْهب بِنور الْوَجْه
قلت زِدْنِي
قَالَ قل الْحق وَإِن كَانَ مرا
قلت زِدْنِي
قَالَ لَا تخف فِي الله لومة لائم
قلت زِدْنِي
قَالَ ليحجزك عَن النَّاس مَا تعلم من نَفسك

رَوَاهُ أَحْمد وَالطَّبَرَانِيّ وَابْن حبَان فِي صَحِيحه وَالْحَاكِم وَاللَّفْظ لَهُ وَقَالَ صَحِيح الْإِسْنَاد وَقد أملينا قِطْعَة من هَذَا الحَدِيث أطول من هَذِه بِلَفْظ ابْن حبَان فِي التَّرْهِيب من الظُّلم وفيهَا حِكَايَة عَن صحف إِبْرَاهِيم عَلَيْهِ السَّلَام

হাদীসের ব্যাখ্যা:

তাকওয়ার ফল ও বরকত অবর্ণনীয়। যিনি আল্লাহকে ভয় করে যিন্দেগী যাপন করেন তিনি দুনিয়ার যিন্দেগীতে বেশুমার ফযীলত লাভ করেন এবং আখিরাতের যিন্দেগীতে উৎফুল্ল ও আনন্দিত হবেন। আল্লাহ মুত্তাকী বান্দাকে বে-ইনতেহা মহব্বত করেন এবং তার বিক্ষিপ্ত কাজকে সুন্দর ও সুশৃঙ্খল করেন।

যিকির খুব ব্যাপক শব্দ। আল্লাহর স্মরণ, নামায, কুরআন তিলাওয়াত সব কিছুই আল্লাহর যিকিরের মধ্যে শামিল। শুধু স্মরণ বা ইয়াদ হিসেবে যখন যিকির ব্যবহৃত হবে, তখন বুঝতে হবে, মনের মধ্যে আল্লাহর শ্রেষ্ঠত্ব, কর্তৃত্ব, এখতিয়ার সম্পর্কে সঠিক ধারণার সৃষ্টি করা। আসমান-যমীন বা যাবতীয় সৃষ্টি সম্পর্কে চিন্তা-ভাবনা করা, মুখে আল্লাহর গুণগান করা এবং অপর মানুষের কাছে তাঁর শ্রেষ্ঠত্ব ঘোষণা করা। যখনই কোন মজলিসে আল্লাহর বাণী পাঠ করা হয় বা তাঁর সম্পর্কে আলোচনা করা হয়, তখন ফেরেশতাদের মজলিসে তার আলোচনা করা হয়। যে আল্লাহকে ইয়াদ করে, আল্লাহ তাকে ইয়াদ করেন।

যিকর ও কুরআন পাঠের মাধ্যমে বান্দা দুনিয়াতে নূর লাভ করবে। দুনিয়াতে নূর লাভ করার জন্য প্রয়োজন হল, কুরআনের অর্থ বুঝতে হবে, কুরআনের হুকুম-আহকাম পালন করতে হবে, কুরআনের ফয়সালার কাছে মাথানত করতে হবে, কুরআন যাকে মন্দ বলে তাকে মন্দ এবং কুরআন যাকে ভাল বলে তাকে ভাল মনে করতে হবে। যখন কুরআনের সাথে ঈমানদার ব্যক্তির সম্পর্ক এ ধরনের হবে, তখন তার জীবন কুরআনের আলোয় আলোকিত হবে।
ব্যাখ্যা সূত্রঃ_ মা'আরিফুল হাদীস (মাওলানা মনযূর নোমানী রহ.)
tahqiqতাহকীক:তাহকীক চলমান