আত্-তারগীব ওয়াত্-তারহীব- ইমাম মুনযিরী রহঃ
২২. অধ্যায়ঃ শিষ্টাচার
হাদীস নং: ৪৩৭৩
অধ্যায়ঃ শিষ্টাচার
কল্যাণকর কথাবার্তা ব্যতীত নীরবতা অবলম্বন করার প্রতি অনুপ্রেরণা এবং অধিক বাক্যালাপের প্রতি ভীতি প্রদর্শন
৪৩৭৩. হযরত আবু সাঈদ (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা এক ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর নিকট এসে বলল: ইয়া রাসূলাল্লাহ্। আপনি আমাকে উপদেশ দিন। তিনি বলেন: তুমি নিজের জন্য আল্লাহ্ ভীতি অপরিহার্য করে নেবে। কেননা, তা সকল কল্যাণের ভাণ্ডার। তুমি নিজের জন্য আল্লাহর পথে জিহাদ করা অপরিহার্য করে নেবে। কেননা, তা মুসলমানের বৈরাগ্যতা। তুমি নিজের জন্য আল্লাহর যিকর কুরআন তিলাওয়াত অপরিহার্য করে নেবে। কেননা, তা যমীনে তোমার জন্য জ্যোতি এবং আসমানে তোমার স্মরণ। উত্তম বাক্যালাপ ব্যতীত তোমার রসনা সংযত রাখবে। কেননা, এর দ্বারা শয়তান পরাভূত হয়।
(তাবারানীর সাগীর গ্রন্থ, আবু শায়খের সাওয়াব গ্রন্থে বর্ণিত। তাঁরা উভয়ের লায়স ইব্ন আবু সুলায়ম থেকে বর্ণনা করেন। উক্ত হাদীসটি ইবন আবুদ দুনিয়া আবু শায়খ সংক্ষিপ্তভাবে মারফু সূত্রে বর্ণনা করেছেন।)
(তাবারানীর সাগীর গ্রন্থ, আবু শায়খের সাওয়াব গ্রন্থে বর্ণিত। তাঁরা উভয়ের লায়স ইব্ন আবু সুলায়ম থেকে বর্ণনা করেন। উক্ত হাদীসটি ইবন আবুদ দুনিয়া আবু শায়খ সংক্ষিপ্তভাবে মারফু সূত্রে বর্ণনা করেছেন।)
كتاب الأدب
التَّرْغِيب فِي الصمت إِلَّا عَن خير والترهيب من كَثْرَة الْكَلَام
4373- وَعَن أبي سعيد رَضِي الله عَنهُ قَالَ جَاءَ رجل إِلَى رَسُول الله صلى الله عَلَيْهِ وَسلم فَقَالَ يَا رَسُول الله أوصني
قَالَ عَلَيْك بتقوى الله فَإِنَّهَا جماع كل خير وَعَلَيْك بِالْجِهَادِ فِي سَبِيل الله فَإِنَّهَا رَهْبَانِيَّة الْمُسلمين وَعَلَيْك بِذكر الله وتلاوة كِتَابه فَإِنَّهُ نور لَك فِي الأَرْض وَذكر لَك فِي السَّمَاء واخزن لسَانك إِلَّا من خير فَإنَّك بذلك تغلب الشَّيْطَان
رَوَاهُ الطَّبَرَانِيّ فِي الصَّغِير وَأَبُو الشَّيْخ فِي الثَّوَاب كِلَاهُمَا من رِوَايَة لَيْث بن أبي سليم وَرَوَاهُ ابْن أبي الدُّنْيَا وَأَبُو الشَّيْخ أَيْضا مَرْفُوعا عَلَيْهِ مُخْتَصرا
قَالَ عَلَيْك بتقوى الله فَإِنَّهَا جماع كل خير وَعَلَيْك بِالْجِهَادِ فِي سَبِيل الله فَإِنَّهَا رَهْبَانِيَّة الْمُسلمين وَعَلَيْك بِذكر الله وتلاوة كِتَابه فَإِنَّهُ نور لَك فِي الأَرْض وَذكر لَك فِي السَّمَاء واخزن لسَانك إِلَّا من خير فَإنَّك بذلك تغلب الشَّيْطَان
رَوَاهُ الطَّبَرَانِيّ فِي الصَّغِير وَأَبُو الشَّيْخ فِي الثَّوَاب كِلَاهُمَا من رِوَايَة لَيْث بن أبي سليم وَرَوَاهُ ابْن أبي الدُّنْيَا وَأَبُو الشَّيْخ أَيْضا مَرْفُوعا عَلَيْهِ مُخْتَصرا
হাদীসের ব্যাখ্যা:
তাকওয়ার ফল ও বরকত অবর্ণনীয়। যিনি আল্লাহকে ভয় করে যিন্দেগী যাপন করেন তিনি দুনিয়ার যিন্দেগীতে বেশুমার ফযীলত লাভ করেন এবং আখিরাতের যিন্দেগীতে উৎফুল্ল ও আনন্দিত হবেন। আল্লাহ মুত্তাকী বান্দাকে বে-ইনতেহা মহব্বত করেন এবং তার বিক্ষিপ্ত কাজকে সুন্দর ও সুশৃঙ্খল করেন।
যিকির খুব ব্যাপক শব্দ। আল্লাহর স্মরণ, নামায, কুরআন তিলাওয়াত সব কিছুই আল্লাহর যিকিরের মধ্যে শামিল। শুধু স্মরণ বা ইয়াদ হিসেবে যখন যিকির ব্যবহৃত হবে, তখন বুঝতে হবে, মনের মধ্যে আল্লাহর শ্রেষ্ঠত্ব, কর্তৃত্ব, এখতিয়ার সম্পর্কে সঠিক ধারণার সৃষ্টি করা। আসমান-যমীন বা যাবতীয় সৃষ্টি সম্পর্কে চিন্তা-ভাবনা করা, মুখে আল্লাহর গুণগান করা এবং অপর মানুষের কাছে তাঁর শ্রেষ্ঠত্ব ঘোষণা করা। যখনই কোন মজলিসে আল্লাহর বাণী পাঠ করা হয় বা তাঁর সম্পর্কে আলোচনা করা হয়, তখন ফেরেশতাদের মজলিসে তার আলোচনা করা হয়। যে আল্লাহকে ইয়াদ করে, আল্লাহ তাকে ইয়াদ করেন।
যিকর ও কুরআন পাঠের মাধ্যমে বান্দা দুনিয়াতে নূর লাভ করবে। দুনিয়াতে নূর লাভ করার জন্য প্রয়োজন হল, কুরআনের অর্থ বুঝতে হবে, কুরআনের হুকুম-আহকাম পালন করতে হবে, কুরআনের ফয়সালার কাছে মাথানত করতে হবে, কুরআন যাকে মন্দ বলে তাকে মন্দ এবং কুরআন যাকে ভাল বলে তাকে ভাল মনে করতে হবে। যখন কুরআনের সাথে ঈমানদার ব্যক্তির সম্পর্ক এ ধরনের হবে, তখন তার জীবন কুরআনের আলোয় আলোকিত হবে।
যিকির খুব ব্যাপক শব্দ। আল্লাহর স্মরণ, নামায, কুরআন তিলাওয়াত সব কিছুই আল্লাহর যিকিরের মধ্যে শামিল। শুধু স্মরণ বা ইয়াদ হিসেবে যখন যিকির ব্যবহৃত হবে, তখন বুঝতে হবে, মনের মধ্যে আল্লাহর শ্রেষ্ঠত্ব, কর্তৃত্ব, এখতিয়ার সম্পর্কে সঠিক ধারণার সৃষ্টি করা। আসমান-যমীন বা যাবতীয় সৃষ্টি সম্পর্কে চিন্তা-ভাবনা করা, মুখে আল্লাহর গুণগান করা এবং অপর মানুষের কাছে তাঁর শ্রেষ্ঠত্ব ঘোষণা করা। যখনই কোন মজলিসে আল্লাহর বাণী পাঠ করা হয় বা তাঁর সম্পর্কে আলোচনা করা হয়, তখন ফেরেশতাদের মজলিসে তার আলোচনা করা হয়। যে আল্লাহকে ইয়াদ করে, আল্লাহ তাকে ইয়াদ করেন।
যিকর ও কুরআন পাঠের মাধ্যমে বান্দা দুনিয়াতে নূর লাভ করবে। দুনিয়াতে নূর লাভ করার জন্য প্রয়োজন হল, কুরআনের অর্থ বুঝতে হবে, কুরআনের হুকুম-আহকাম পালন করতে হবে, কুরআনের ফয়সালার কাছে মাথানত করতে হবে, কুরআন যাকে মন্দ বলে তাকে মন্দ এবং কুরআন যাকে ভাল বলে তাকে ভাল মনে করতে হবে। যখন কুরআনের সাথে ঈমানদার ব্যক্তির সম্পর্ক এ ধরনের হবে, তখন তার জীবন কুরআনের আলোয় আলোকিত হবে।
ব্যাখ্যা সূত্রঃ_ মা'আরিফুল হাদীস (মাওলানা মনযূর নোমানী রহ.)