আত্-তারগীব ওয়াত্-তারহীব- ইমাম মুনযিরী রহঃ

২২. অধ্যায়ঃ শিষ্টাচার

হাদীস নং: ৪৩৪৯
অধ্যায়ঃ শিষ্টাচার
কল্যাণকর কথাবার্তা ব্যতীত নীরবতা অবলম্বন করার প্রতি অনুপ্রেরণা এবং অধিক বাক্যালাপের প্রতি ভীতি প্রদর্শন
৪৩৪৯. হযরত উকবা ইবন আমির (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা আমি জিজ্ঞেস করলামঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ্। মুক্তির উপায় কি? তিনি বলেন: তুমি তোমার রসনা নিয়ন্ত্রণ করবে, (মেহমানদের জন্য) তোমার ঘর উন্মুক্ত রাখবে এবং তুমি তোমার গুনাহের কথা স্মরণ করে কাঁদবে।
(আবু দাউদ, তিরমিযী, ইব্‌ন আবুদ দুনিয়া আযালা ও সামত অধ্যায়ের এবং বায়হাকী (র) যুহদ ও অন্যান্য কিতাকে বর্ণনা করেন। তাঁরা সকলে আবদুল্লাহ ইবন যাহর হতে তিনি আলী ইব্‌ন ইয়াযীদ হতে, তিনি কাসিম (র) হতে, তিনি আবু উমামা (রা) থেকে বর্ণনা করেন। ইমাম তিরমিযী (র) বলেনঃ হাদীসটি হাসান-গরীব।)
كتاب الأدب
التَّرْغِيب فِي الصمت إِلَّا عَن خير والترهيب من كَثْرَة الْكَلَام
4349- وَعَن عقبَة بن عَامر رَضِي الله عَنهُ قَالَ قلت يَا رَسُول الله مَا النجَاة قَالَ أمسك عَلَيْك لسَانك وليسعك بَيْتك وابك على خطيئتك

رَوَاهُ أَبُو دَاوُد وَالتِّرْمِذِيّ وَابْن أبي الدُّنْيَا فِي الْعُزْلَة وَفِي الصمت وَالْبَيْهَقِيّ فِي كتاب الزّهْد وَغَيره كلهم من طَرِيق عبد الله بن زحر عَن عَليّ بن يزِيد عَن الْقَاسِم عَن أبي أُمَامَة عَنهُ وَقَالَ التِّرْمِذِيّ حَدِيث حسن غَرِيب

হাদীসের ব্যাখ্যা:

যাবতীয় অকল্যাণ ও অমঙ্গল থেকে নিজেকে রক্ষা করার জন্য তিনটি জিনিসের উল্লেখ করা হয়েছে। জিহ্বাকে সংযত রাখা এবং জিহ্বার দ্বারা অন্যায় ও অসঙ্গত কথাবার্তা না বলা। অজ্ঞাতসারে মানুষ জিহ্বার দ্বারা অসংখ্য অমঙ্গল উপার্জন করে। তাই তার হিফাযতের মধ্যে বান্দার নাজাত রয়েছে।

নিজের গৃহ প্রশস্ত থাকার অর্থ হল উদ্দেশ্যহীনভাবে ঘরের বাইরে ঘুরে না বেড়ান। প্রয়োজনীয় কাজ সম্পাদন করার পর ঘরের বাইরে অবস্থান করা নিজের এবং পরিবার-পরিজনের জন্য মঙ্গলজনক নয়। যে ব্যক্তি বিনা প্রয়োজনে ঘরের বাইরে থাকে বা এক স্থান থেকে অন্য স্থানে ঘুরে বেড়ায়, সে নিজের এবং পরিবার-পরিজনের উপর যুলম করে। নিজেকে এবং পরিবার-পরিজনকে অকল্যাণের দিকে ঠেলে দেয়। বস্তুত প্রয়োজনীয় কাজ সম্পাদন করে ঘরে ফিরে আসার মধ্যে বহুবিধ কল্যাণ রয়েছে। তাই নবী করীম ﷺ বিনা প্রয়োজনে ঘরের বাইরে ঘুরে না বেড়ানোর উপদেশ দিয়েছেন।

গুনাহের জন্য কাঁদা খুবই উপকারী। যে বান্দা আল্লাহকে ভয় করে কাঁদে, আল্লাহ সে বান্দাকে মাফ করে দেন। তাই তওবা করা, কান্নাকাটি করা এবং গুনাহের জন্য মাফ চাওয়ার মধ্যে বান্দার পরিত্রাণ রয়েছে।
ব্যাখ্যা সূত্রঃ_ মা'আরিফুল হাদীস (মাওলানা মনযূর নোমানী রহ.)
tahqiqতাহকীক:তাহকীক চলমান