আত্-তারগীব ওয়াত্-তারহীব- ইমাম মুনযিরী রহঃ

১৯. অধ্যায়ঃ বিচার ব্যবস্থা

হাদীস নং: ৩৪৮০
অধ্যায়ঃ বিচার ব্যবস্থা
পরিচ্ছেদ
৩৪৮০. হযরত ইবনে আব্বাস (রা) থেকে বর্ণিত। নবী (ﷺ) একবার মুখে দাগ বসানো একটি গাধার কাছ দিয়ে পথ অতিক্রম করেন। তখন তিনি বলেন, যে ব্যক্তি তার মুখে দাগ বসিয়েছে, তার প্রতি আল্লাহর লা'নত।
(মুসলিম বর্ণিত। তার অন্য বর্ণনায় আছে। রাসুলুল্লাহ (ﷺ) চেহারায় প্রহার করতে এবং চতুষ্পদ জন্তুর মুখে দাগ দিতে নিষেধ করেছেন। উক্ত হাদীসটি তাবারানী সংক্ষেপে উত্তম বর্ণনা সূত্রে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, যে ব্যক্তি চতুষ্পদ জন্তুর চেহারায় দাগ দেয়, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) তার প্রতি লা'নত করেছেন।)
كتاب القضاء
فصل
3480- عَن ابْن عَبَّاس رَضِي الله عَنْهُمَا أَن النَّبِي صلى الله عَلَيْهِ وَسلم مر على حمَار قد وسم فِي وَجهه فَقَالَ لعن الله الَّذِي وسمه

رَوَاهُ مُسلم

وَفِي رِوَايَة لَهُ نهى رَسُول الله صلى الله عَلَيْهِ وَسلم عَن الضَّرْب فِي الْوَجْه وَعَن الوسم فِي الْوَجْه

وَرَوَاهُ الطَّبَرَانِيّ بِإِسْنَاد جيد مُخْتَصرا أَن رَسُول الله صلى الله عَلَيْهِ وَسلم لعن من يسم فِي الْوَجْه

হাদীসের ব্যাখ্যা:

পৃথিবীর নানা দেশে ঘোড়া-গাধা ইত্যাদি পশুদের পরিচয়ের জন্য এদের শরীরের কোন অংশে গরম লোহার দাগ দিয়ে চিহ্ন তৈরী করা হত। বর্তমানেও কোন কোন অঞ্চলে এর প্রচলন রয়েছে। কিন্তু এ উদ্দেশ্যের জন্য চেহারা দাগানো (যা পশুর সারা দেহের মধ্যে সবচেয়ে সংবেদনশীল ও অনুভূতিপরায়ণ অঙ্গ) খুবই নির্মম ও নৃশংসতার কাজ। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) একটি গাধাকে দেখলেন, যার চেহারা দাগানো হয়েছিল। তিনি এতে খুবই ব্যথিত হলেন এবং বললেন: ঐ ব্যক্তির উপর আল্লাহর লা'নত হোক, যে এ কাজ করেছে। এ কথা স্পষ্ট যে, এটা চরম পর্যায়ের অসন্তুষ্টির বাক্য ছিল, যা একটি গাধার সাথে নির্মম আচরণকারীর জন্য তাঁর মুখ থেকে বের হয়েছিল।

আধুনিক বিশ্ব এ ধরনের নির্মমতা প্রতিরোধকে বর্তমানে কেবল মানুষের দায়িত্ব মনে করতে শুরু করেছে। কিন্তু আল্লাহর রাসূল মুহাম্মদ (ﷺ) এখন থেকে চৌদ্দশ বছর পূর্বে এর পথপ্রদর্শন করেছিলেন এবং এর উপর বিশেষ জোর দিয়েছিলেন।
ব্যাখ্যা সূত্রঃ_ মা'আরিফুল হাদীস (মাওলানা মনযূর নোমানী রহ.)
tahqiqতাহকীক:তাহকীক চলমান