আত্-তারগীব ওয়াত্-তারহীব- ইমাম মুনযিরী রহঃ

১৯. অধ্যায়ঃ বিচার ব্যবস্থা

হাদীস নং: ৩৪৭০
অধ্যায়ঃ বিচার ব্যবস্থা
আল্লাহর সৃষ্টি তথা প্রজা, সন্তান-সন্ততি, দাস-দাসী ইত্যাদির প্রতি স্নেহশীল হওয়ার প্রতি অনুপ্রেরণা এবং তার বিপরীত করার প্রতি ভীতি প্রদর্শন, শরয়ী কারণ ব্যতীত দাস-দাসী, চতুষ্পদ প্রাণী ও অন্যান্যের প্রতি শান্তি প্রয়োগ এবং চতুষ্পদ প্রাণীর মুখে দাগ দেওয়া নিষিদ্ধ
৩৪৭০. হযরত আলী (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ)-এর সর্বশেষ বাণী ছিল, আস্ সালাত, আস-সালাত এবং তোমরা তোমাদের অধীনস্থ (দাস-দাসী)-দের ব্যাপারে আল্লাহকে ভয় করবে।
(আবু দাউদ ও ইবনে মাজা বর্ণিত। তবে ইবনে মাজা শরীফে الصلاة وما ملكت أيمانكم (সালাত এবং তোমাদের অধীনস্থগণ) রয়েছে।)
كتاب القضاء
التَّرْغِيب فِي الشَّفَقَة على خلق الله تَعَالَى من الرّعية وَالْأَوْلَاد وَالْعَبِيد وَغَيرهم ورحمتهم والرفق بهم والترهيب من ضد ذَلِك وَمن تَعْذِيب العَبْد وَالدَّابَّة وَغَيرهمَا بِغَيْر سَبَب شَرْعِي وَمَا جَاءَ فِي النَّهْي عَن وسم الدَّوَابّ فِي وجوهها
3470- وَعَن عَليّ رَضِي الله عَنهُ قَالَ كَانَ آخر كَلَام النَّبِي صلى الله عَلَيْهِ وَسلم الصَّلَاة الصَّلَاة اتَّقوا الله فِيمَا ملكت أَيْمَانكُم

رَوَاهُ أَبُو دَاوُد وَابْن مَاجَه إِلَّا أَنه قَالَ الصَّلَاة وَمَا ملكت أَيْمَانكُم

হাদীসের ব্যাখ্যা:

এ হাদীস থেকে জানা গেল যে, এ দুনিয়া থেকে এবং আপন উম্মত থেকে চির বিদায়ের সময় রাসূলুল্লাহ (ﷺ) উম্মতকে বিশেষভাবে দু'টি বিষয়ের তাকীদ ও ওসিয়্যত করেছিলেন। একটি এই যে, নামাযের প্রতি যত্নবান থাকবে, এতে যেন উদাসীনতা ও ত্রুটি না হয়। এটা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব এবং বান্দার উপর আল্লাহর সবচেয়ে বড় হক। দ্বিতীয়টি এই যে, দাস-দাসীদের সাথে আচরণের সময় ঐ মহা প্রতাপশালী আল্লাহকে ভয় করবে, যার আদালতে সবাইকে হাযির হতে হবে এবং মযলুমকে যালেম থেকে বদলা দেওয়া হবে। দাস-দাসী ও অধীনস্থদের বেলায় এটা কত বড় মর্যাদার কথা যে, রহমতের নবী (ﷺ) এ দুনিয়া থেকে বিদায় নেওয়ার সময় সর্বশেষ বাক্য আল্লাহর হকের সাথে তাদের হক আদায় ও তাদের সাথে উত্তম আচরণের ওসিয়্যত করেছেন।

এ হাদীস অনুযায়ী হুযুর (ﷺ)-এর মুখ থেকে সর্বশেষ যে বাক্য উচ্চারিত হয়েছিল, সেটা ছিল و(اتقوا الله فيما) ملكت أيمانكم আর হযরত আয়েশা রাযি.-এর এক বর্ণনা দ্বারা যা বুখারী শরীফেও বর্ণিত হয়েছে, জানা যায় যে, সর্বশেষ বাক্য যা হুযুর (ﷺ)-এর মুখে উচ্চারিত হয়েছিল, সেটা ছিল «اللَّهُمَّ الرَّفِيقَ الْأَعْلَى» অর্থাৎ, হে আল্লাহ! মহান বন্ধু! হাদীস ব্যাখ্যাতাগণ এ দু'টি হাদীসের মধ্যে এভাবে সমন্বয় বিধান করেছেন যে, উম্মতকে সম্বোধন করে তিনি ওসিয়্যত হিসাবে শেষকথা তো সেটাই বলেছিলেন, যা হযরত আলী রাযি.-এর উপরের হাদীসে উল্লেখিত হয়েছে। আর এরপরে আল্লাহ তা'আলাকে সম্বোধন করে শেষ বাক্য ওটাই বলেছিলেন, যা হযরত আয়েশা রাযি. বর্ণনা করেছেন।
ব্যাখ্যা সূত্রঃ_ মা'আরিফুল হাদীস (মাওলানা মনযূর নোমানী রহ.)
tahqiqতাহকীক:তাহকীক চলমান