আত্-তারগীব ওয়াত্-তারহীব- ইমাম মুনযিরী রহঃ
১৯. অধ্যায়ঃ বিচার ব্যবস্থা
হাদীস নং: ৩৪২২
অধ্যায়ঃ বিচার ব্যবস্থা
আল্লাহকে অসন্তুষ্ট করে মানুষকে সন্তুষ্টকারী শাসক ও অন্যান্যদের প্রতি ভীতি প্রদর্শন
৩৪২২. হযরত আয়েশা (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ যে ব্যক্তি মানুষের নিকট আল্লাহর নাফরমানী দ্বারা প্রশংসা কামনা করে; উক্ত প্রশংসা তার নিকট নিন্দনীয় হয়ে ফিরে আসে।
(বাযযার ও ইবনে হিব্বানের সহীহ গ্রন্থে বর্ণিত। তবে তার শব্দমালা এই, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন: "যে ব্যক্তি মানুষের অসন্তুষ্টি উপেক্ষা করে আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন করে, আল্লাহ্ তার জন্য যথেষ্ট। আর যে ব্যক্তি আল্লাহকে অসন্তুষ্ট করে মানুষের সন্তুষ্টি কামনা করে, আল্লাহ তাকে মানুষের দ্বারস্থ করবেন"।
বায়হাকী (র) এরূপ তাঁর কিতাবু যুহদিল কাবীর গ্রন্থে বর্ণনা করেন। ইমাম বায়হাকীর অন্য বর্ণনায় আছে, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) বলেছেন: "যে ব্যক্তি আল্লাহর অসন্তুষ্টি কামনা করে মানুষের সন্তুষ্টি চায়, মানুষের প্রশংসা তার নিকট নিন্দনীয় হয়ে ফিরে আসে"।)
(বাযযার ও ইবনে হিব্বানের সহীহ গ্রন্থে বর্ণিত। তবে তার শব্দমালা এই, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন: "যে ব্যক্তি মানুষের অসন্তুষ্টি উপেক্ষা করে আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন করে, আল্লাহ্ তার জন্য যথেষ্ট। আর যে ব্যক্তি আল্লাহকে অসন্তুষ্ট করে মানুষের সন্তুষ্টি কামনা করে, আল্লাহ তাকে মানুষের দ্বারস্থ করবেন"।
বায়হাকী (র) এরূপ তাঁর কিতাবু যুহদিল কাবীর গ্রন্থে বর্ণনা করেন। ইমাম বায়হাকীর অন্য বর্ণনায় আছে, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) বলেছেন: "যে ব্যক্তি আল্লাহর অসন্তুষ্টি কামনা করে মানুষের সন্তুষ্টি চায়, মানুষের প্রশংসা তার নিকট নিন্দনীয় হয়ে ফিরে আসে"।)
كتاب القضاء
ترهيب الْحَاكِم وَغَيره من إرضاء النَّاس بِمَا يسْخط الله عز وَجل
3422- وَعَن عَائِشَة رَضِي الله عَنْهَا قَالَت قَالَ رَسُول الله صلى الله عَلَيْهِ وَسلم من طلب محامد النَّاس بمعاصي الله عَاد حامده لَهُ ذاما
رَوَاهُ الْبَزَّار وَابْن حبَان فِي صَحِيحه وَلَفظه قَالَ رَسُول الله صلى الله عَلَيْهِ وَسلم من أرْضى الله بسخط النَّاس كَفاهُ الله وَمن أَسخط الله بِرِضا النَّاس وَكله الله إِلَى النَّاس
وَرَوَاهُ الْبَيْهَقِيّ بِنَحْوِهِ فِي كتاب الزّهْد الْكَبِير
وَفِي رِوَايَة لَهُ قَالَ رَسُول الله صلى الله عَلَيْهِ وَسلم من أَرَادَ سخط الله ورضا النَّاس عَاد حامده من النَّاس ذاما
رَوَاهُ الْبَزَّار وَابْن حبَان فِي صَحِيحه وَلَفظه قَالَ رَسُول الله صلى الله عَلَيْهِ وَسلم من أرْضى الله بسخط النَّاس كَفاهُ الله وَمن أَسخط الله بِرِضا النَّاس وَكله الله إِلَى النَّاس
وَرَوَاهُ الْبَيْهَقِيّ بِنَحْوِهِ فِي كتاب الزّهْد الْكَبِير
وَفِي رِوَايَة لَهُ قَالَ رَسُول الله صلى الله عَلَيْهِ وَسلم من أَرَادَ سخط الله ورضا النَّاس عَاد حامده من النَّاس ذاما
হাদীসের ব্যাখ্যা:
আলোচ্য হাদীসে মু'মিনদের জন্য উপদেশের এক সমুদ্র রয়েছে। যে ব্যক্তি আখিরাতকে পসন্দ করে, সে কখনো মানুষকে সন্তুষ্ট করার জন্য আল্লাহকে নারায করবে না। যে আল্লাহকে নারায করে মানুষকে রাযী করতে চাইবে, সে তার আখিরাতের যিন্দেগী বরবাদ করবে। আখিরাতের আদালতে তাকে কঠিন জবাবদিহি করতে হবে। কিন্তু যে দুনিয়ার স্বার্থ হাসিল করার জন্য আল্লাহকে নারায করে, সে দুনিয়ার যিন্দেগীতেও প্রচুর সমস্যার সৃষ্টি করে। আল্লাহ তাঁর নিজের সাহায্য প্রত্যাহার করার কারণে সে প্রত্যেক পদক্ষেপে মানুষের সাহায্য ও সহযোগিতার মুখাপেক্ষী হয় এবং মানুষের সাহায্যের মুখাপেক্ষী হওয়ার কারণে মানুষ তাকে গলদ রাস্তায় পরিচালিত করে এবং তার জন্য সমস্যার পাহাড় সৃষ্টি করে। এ ধরনের বান্দাদের এমন এক সময় উপস্থিত হয় যখন তার সাহায্যকারী বন্ধুগণ তার উপর অসন্তুষ্ট ও বিরক্ত হয় এবং তাকে সমস্যার সমুদ্রে ফেলে নিজেরা কেটে পড়ে। তাই এ ধরনের মানুষের দুনিয়া ও আখিরাত উভয়ই বরবাদ হয়।
এই হাদীসে রাজনৈতিক নেতা, রাষ্ট্রের শাসক এবং সমাজকর্মীদের জন্য চিন্তার প্রচুর উপাদান রয়েছে। আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের পথ অনুসরণ করলে তারা দুনিয়া ও আখিরাতের কল্যাণ লাভ করতে পারবেন। অন্যথায় আখিরাত ও দুনিয়ার কল্যাণ থেকে বঞ্চিত হবেন। সারা দুনিয়ার মানুষকে তোয়াজ করেও দুনিয়া স্থায়ীভাবে হস্তগত করা যাবে না।
এই হাদীসে রাজনৈতিক নেতা, রাষ্ট্রের শাসক এবং সমাজকর্মীদের জন্য চিন্তার প্রচুর উপাদান রয়েছে। আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের পথ অনুসরণ করলে তারা দুনিয়া ও আখিরাতের কল্যাণ লাভ করতে পারবেন। অন্যথায় আখিরাত ও দুনিয়ার কল্যাণ থেকে বঞ্চিত হবেন। সারা দুনিয়ার মানুষকে তোয়াজ করেও দুনিয়া স্থায়ীভাবে হস্তগত করা যাবে না।
ব্যাখ্যা সূত্রঃ_ মা'আরিফুল হাদীস (মাওলানা মনযূর নোমানী রহ.)