আত্-তারগীব ওয়াত্-তারহীব- ইমাম মুনযিরী রহঃ
১৪. অধ্যায়ঃ যিকির ও দু‘আ
হাদীস নং: ২৫৮৩
অধ্যায়ঃ যিকির ও দু‘আ
সর্বদা বেশি করে নবী করীম (ﷺ) -এর প্রতি দরূদ পাঠের ব্যাপারে উৎসাহ দান ও তাঁর আলোচনার সময় যে ব্যক্তি দরূদ পাঠ করে না, তার সম্পর্কে সতর্কবাণী
২৫৮৩. হযরত আবু হুরায়রা (রা) সূত্রে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেছেনঃ কেউ আমাকে সালাম করলে আল্লাহ আমাকে বাকশক্তি দান করেন, এমন কি আমি যথারীতি তার সালামের উত্তর দিয়ে থাকি।
(হাদীসটি আহমদ ও আবূ দাউদ বর্ণনা করেছেন।)
(হাদীসটি আহমদ ও আবূ দাউদ বর্ণনা করেছেন।)
كتاب الذّكر وَالدُّعَاء
التَّرْغِيب فِي إكثار الصَّلَاة على النَّبِي صلى الله عَلَيْهِ وَسلم والترهيب من تَركهَا عِنْد ذكره صلى الله عَلَيْهِ وَسلم كثيرا دَائِما
2583- وَعَن أبي هُرَيْرَة رَضِي الله عَنهُ عَن رَسُول الله صلى الله عَلَيْهِ وَسلم قَالَ مَا من أحد يسلم عَليّ إِلَّا رد الله إِلَيّ روحي حَتَّى أرد عَلَيْهِ السَّلَام
رَوَاهُ أَحْمد وَأَبُو دَاوُد
رَوَاهُ أَحْمد وَأَبُو دَاوُد
হাদীসের ব্যাখ্যা:
হাদীসের বাহ্যিক শব্দমালা দর্শনে رد الله على روحی কারো মতে এ ধারণা জন্মাতে পারে যে, তাঁর রূহ মুবারক বুঝি পবিত্র দেহ থেকে এমনিতে বিচ্ছিন্ন থাকে। কেবল যখন কেউ সালাত-সালাম আরয করে তখনই সালামের জবাব দানের সুবিধার্থে রূহ মুবারককে পবিত্র দেহে ফিরিয়ে দেওয়া হয়। বলা বাহুল্য, এ ধারণাটি কোন ক্রমেই সঠিক হতে পারে না। যদি এ ধারণাকে যথার্থরূপে ধরে নেওয়া হয় তাহলে মানতেই হবে, দৈনিক লাখ লাখ কোটি কোটিবার তাঁর পবিত্র আত্মা পবিত্র দেহের অভ্যন্তরে প্রবেশীকরণ ও নির্গমন ক্রিয়া ঘটে থাকে। কেননা, এমন কোন দিনক্ষণ নেই, যখন তাঁর লাখ লাখ কোটি কোটি উম্মত দূর থেকে সালাত ও সালাম প্রেরণ না করছেন বা মাযার শরীফে হাযির হয়ে সালাম আরয না করছেন। সব সময়ই সেখানে নবী প্রেমিক মু'মিন বান্দাদের ভিড় লেগেই আছে! বছরের যে কোন সাধারণ দিনেও সেখানে হাজার হাজার লোক সশরীরে হাযির হয়ে থাকেন।
এছাড়া নবী-রাসূলগণের নিজেদের কবরসমূহে জীবিত থাকার ব্যাপারটি একটি সর্বজন স্বীকৃত সত্য। যদিও সে জীবনের ধরন-ধারণ সম্পর্কে উম্মতের উলামাদের মধ্যে নানারূপ মতভেদ রয়েছে। কিন্তু এতটুকু কথা সর্বজন স্বীকৃত যে, শরীয়তের দলীল-প্রমাণাদির দ্বারা প্রতিষ্ঠিত যে, আম্বিয়ায়ে কিরাম বিশেষত সাইয়িদুল আম্বিয়া ﷺ তো নিজেদের কবরে জীবনসহ বিদ্যমান রয়েছেন। তাই হাদীসের অর্থ কোনক্রমেই এরূপ করা যাবে না যে, তাঁর পবিত্র দেহ রূহশূন্য নিষ্প্রাণ অসাড় অবস্থায় পড়ে থাকে, আর যখনই কেউ সালাম আরয করে, তখনই আল্লাহ তা'আলা তাঁকে দিয়ে জবাব দেওয়ানোর উদ্দেশ্যে তাতে প্রাণ সঞ্চারিত করে দেন। তাই অধিকাংশ ভাষ্যকারই 'রূহ ফিরিয়ে দেওয়ার' ব্যাখ্যা স্বরূপ বলেছেন, কবর মুবারকে পবিত্র রূহ মুবারক অহরহ পরকালের দিকে এবং আল্লাহ তা'আলার জামালী ও জালালী তাজাল্লীসমূহ দর্শনরত (আর এটাই অধিকতর যুক্তিগ্রাহ্য) তারপর যখনই কোন মু'মিন বান্দা সালাত-সালাম আরয করে তখনই তাঁর রূহানী তাওয়াজ্জুহ এদিকে নিবিষ্ট হয় এবং তিনি সে সালামের জবাবও দান করেন। এটাকেই রূপকভাবে রূহ ফিরিয়ে দেয়া বলে অভিহিত করা হয়েছে।
এ দীন লেখক আরয করছি যে, এ সব ব্যাপার স্যাপার কেবল তাঁরাই কিছুটা অনুভব করতে পারবেন, যাঁদের আলমে বরযখের অবস্থা সম্পর্কে কিছুটা ধারণা বা সম্পর্ক আছে। আল্লাহ তা'আলা এসব তত্ত্বকথার জ্ঞান নসীব করুন!
এ হাদীসের মর্মকথা হচ্ছে, যে উম্মতীই খালিস অন্তরে নবী করীম ﷺ-এর প্রতি সালাত ও সালাম তথা দরূদ প্রেরণ করবে, তিনি কেবল অভ্যাসবশে বা ভাসাভাসা-ভাবে তার মৌখিক জবাবই দেন না, বরং রূহ ও কলব নিবিষ্ট করে তার সালামের জবাব দিয়ে থাকেন। আসলেও যদি গোটা জীবনের সকল সালাত ও সালামের কোনই ছাওয়াব বা বিনিময় না পাওয়া যায়, কেবল তাঁর জবাবটাই পাওয়া যায়, তাহলেই তো সবই জুটে গেল!
اَلسَّلَامُ عَلَيْكَ أَيُّهَا النَّبِيُّ وَرَحْمَةُ اللّٰهِ وَبَرَكَاتُهُ
হে নবী! আপনার প্রতি সালাম এবং আল্লাহর রহমত-বরকত বর্ষিত হোক।
এছাড়া নবী-রাসূলগণের নিজেদের কবরসমূহে জীবিত থাকার ব্যাপারটি একটি সর্বজন স্বীকৃত সত্য। যদিও সে জীবনের ধরন-ধারণ সম্পর্কে উম্মতের উলামাদের মধ্যে নানারূপ মতভেদ রয়েছে। কিন্তু এতটুকু কথা সর্বজন স্বীকৃত যে, শরীয়তের দলীল-প্রমাণাদির দ্বারা প্রতিষ্ঠিত যে, আম্বিয়ায়ে কিরাম বিশেষত সাইয়িদুল আম্বিয়া ﷺ তো নিজেদের কবরে জীবনসহ বিদ্যমান রয়েছেন। তাই হাদীসের অর্থ কোনক্রমেই এরূপ করা যাবে না যে, তাঁর পবিত্র দেহ রূহশূন্য নিষ্প্রাণ অসাড় অবস্থায় পড়ে থাকে, আর যখনই কেউ সালাম আরয করে, তখনই আল্লাহ তা'আলা তাঁকে দিয়ে জবাব দেওয়ানোর উদ্দেশ্যে তাতে প্রাণ সঞ্চারিত করে দেন। তাই অধিকাংশ ভাষ্যকারই 'রূহ ফিরিয়ে দেওয়ার' ব্যাখ্যা স্বরূপ বলেছেন, কবর মুবারকে পবিত্র রূহ মুবারক অহরহ পরকালের দিকে এবং আল্লাহ তা'আলার জামালী ও জালালী তাজাল্লীসমূহ দর্শনরত (আর এটাই অধিকতর যুক্তিগ্রাহ্য) তারপর যখনই কোন মু'মিন বান্দা সালাত-সালাম আরয করে তখনই তাঁর রূহানী তাওয়াজ্জুহ এদিকে নিবিষ্ট হয় এবং তিনি সে সালামের জবাবও দান করেন। এটাকেই রূপকভাবে রূহ ফিরিয়ে দেয়া বলে অভিহিত করা হয়েছে।
এ দীন লেখক আরয করছি যে, এ সব ব্যাপার স্যাপার কেবল তাঁরাই কিছুটা অনুভব করতে পারবেন, যাঁদের আলমে বরযখের অবস্থা সম্পর্কে কিছুটা ধারণা বা সম্পর্ক আছে। আল্লাহ তা'আলা এসব তত্ত্বকথার জ্ঞান নসীব করুন!
এ হাদীসের মর্মকথা হচ্ছে, যে উম্মতীই খালিস অন্তরে নবী করীম ﷺ-এর প্রতি সালাত ও সালাম তথা দরূদ প্রেরণ করবে, তিনি কেবল অভ্যাসবশে বা ভাসাভাসা-ভাবে তার মৌখিক জবাবই দেন না, বরং রূহ ও কলব নিবিষ্ট করে তার সালামের জবাব দিয়ে থাকেন। আসলেও যদি গোটা জীবনের সকল সালাত ও সালামের কোনই ছাওয়াব বা বিনিময় না পাওয়া যায়, কেবল তাঁর জবাবটাই পাওয়া যায়, তাহলেই তো সবই জুটে গেল!
اَلسَّلَامُ عَلَيْكَ أَيُّهَا النَّبِيُّ وَرَحْمَةُ اللّٰهِ وَبَرَكَاتُهُ
হে নবী! আপনার প্রতি সালাম এবং আল্লাহর রহমত-বরকত বর্ষিত হোক।
ব্যাখ্যা সূত্রঃ_ মা'আরিফুল হাদীস (মাওলানা মনযূর নোমানী রহ.)