আত্-তারগীব ওয়াত্-তারহীব- ইমাম মুনযিরী রহঃ

১৪. অধ্যায়ঃ যিকির ও দু‘আ

হাদীস নং: ২৪৫৩
অধ্যায়ঃ যিকির ও দু‘আ
'লা-হাওলা ওয়ালা কুওয়াতা ইল্লা বিল্লাহ' পাঠের প্রতি উৎসাহ দান
২৪৫৩. আবু যর (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি একদিন নবী করীম (ﷺ) -এর পিছনে পথ চলছিলাম। তিনি তখন আমাকে বললেন, হে আবু যর। আমি কি তোমাকে জান্নাতের ভাণ্ডারসমূহের একটি ভাণ্ডারের সন্ধান দিব না? আমি বললাম জ্বী হ্যাঁ। তিনি বললেন (এটি হল)ঃ লা হাওলা ওয়ালা কুওয়াতা ইল্লা বিল্লাহ।
(হাদীসটি ইবন মাজাহ, ইবন আবুদ-দুনিয়া এবং ইবন হিব্বান তাঁর 'সহীহ' গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন।)
كتاب الذّكر وَالدُّعَاء
التَّرْغِيب فِي قَول لَا حول وَلَا قُوَّة إِلَّا بِاللَّه
2453- وَعَن أبي ذَر رَضِي الله عَنهُ قَالَ كنت أَمْشِي خلف النَّبِي صلى الله عَلَيْهِ وَسلم فَقَالَ لي يَا أَبَا ذَر أَلا أدلك على كنز من كنوز الْجنَّة قلت بلَى
قَالَ لَا حول وَلَا قُوَّة إِلَّا بِاللَّه

رَوَاهُ ابْن مَاجَه وَابْن أبي الدُّنْيَا وَابْن حبَان فِي صَحِيحه

হাদীসের ব্যাখ্যা:

এ কালিমার জান্নাতের সম্পদভাণ্ডারের সম্পদস্বরূপ হওয়ার মর্ম এ হতে পারে যে, যে ব্যক্তি খালিস অন্তরে এ কালিমা পাঠ করবে, তার জন্যে এ কালিমার বিনিময়ে জান্নাতে অনন্ত ভাণ্ডার সঞ্চিত রাখা হবে, যদ্বারা সে পরকালে ঠিক তেমনিভাবে উপকৃত হতে পারবে, যেমনটি এ পৃথিবীতে মানুষ তার সম্পদ ভাণ্ডার থেকে উপকৃত হয়ে থাকে।

এও বলা যায় যে, হুযুর ﷺ এ শব্দটির দ্বারা এ কালিমার মাহাত্ম্য বুঝাতে চেয়েছেন। অর্থাৎ এটা হচ্ছে জান্নাতের রত্নভাণ্ডারের এক অমূল্য রত্ন। কোন বস্তুর অধিক মূল্য বুঝাবার জন্যে এ শব্দচয়ন হতে পারে।

লা-হাওলা ওলা কুওয়াতা ইল্লাবিল্লাহ-এর অর্থ হচ্ছে এই যে, কোন কাজের জন্যে সাধ্য-সাধনা করা ও প্রচেষ্টা চালানোর শক্তি আল্লাহই দান করেন, বান্দা নিজে কিছুই করতে পারে না।
এ অর্থের কাছাকাছি দ্বিতীয় আরেকটি অর্থ এও বলা হয়ে থাকে যে, গুনাহ থেকে বিরত থাকা এবং আল্লাহর আদেশ পালন করা তাঁর দেয়া তাওফীক ছাড়া বান্দার সাধ্যের অতীত।
ব্যাখ্যা সূত্রঃ_ মা'আরিফুল হাদীস (মাওলানা মনযূর নোমানী রহ.)
tahqiqতাহকীক:তাহকীক চলমান