আত্-তারগীব ওয়াত্-তারহীব- ইমাম মুনযিরী রহঃ

১৪. অধ্যায়ঃ যিকির ও দু‘আ

হাদীস নং: ২৪৩৩
অধ্যায়ঃ যিকির ও দু‘আ
আরো এক প্রকার তাসবীহ
২৪৩৩. হযরত আয়িশা বিনত সা'দ ইবন আবু ওয়াককাস সূত্রে তাঁর পিতা হযরত সা'দ (রা) থেকে বর্ণিত যে, তিনি একদিন রাসুলুল্লাহ্ (ﷺ) এর সাথে এক মহিলার নিকট গেলেন। মহিলাটির সামনে কিছু খেজুরদানা অথবা কঙ্কর ছিল। সে এগুলো দিয়ে তাসবীহ পাঠ করছিল। রাসুলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, আমি কি তোমাকে এর চেয়ে সহজ অথবা উত্তম পদ্ধতি বলে দিব না? তারপর তিনি বললেন, (তুমি এরূপ বলবে ঃ) 'সুবহানাল্লাহ্ আল্লাহর পবিত্রতা বর্ণনা করছি এই পরিমাণ যে পরিমাণ মাখলুক তিনি আসমানে সৃষ্টি করেছেন। আল্লাহর পবিত্রতা বর্ণনা করছি এই পরিমাণ যে পরিমাণ মাখলুক তিনি যমীনে সৃষ্টি করেছেন। আল্লাহর পবিত্রতা এই পরিমাণ যে পরিমাণ মাখলুক আসমান-যমীনের মধ্যে তিনি সৃষ্টি করেছেন, আল্লাহর পবিত্রতা এই পরিমাণ যে, পরিমাণ মাখলুক তিনি ভবিষ্যতে সৃষ্টি করবেন। 'আল্লাহু আকবরও অনুরূপভাবে বলবে, আলহামদু লিল্লাহও অনুরূপভাবে বলবে, লা ইলাহা ইল্লাল্লাহও অনুরূপ বলবে এবং লা হাওলা ওয়ালা কুওয়াতাও অনুরূপ বলবে।
(হাদীসটি আবূ দাউদ ও তিরমিযী বর্ণনা করেছেন। তিরমিযী বলেন, সাদ সূত্রে বর্ণিত এই হাদীসটি হাসান-গরীব। নাসাঈ ও ইবন হিব্বানও তাঁর 'সহীহ' গ্রন্থে হাদীসটি বর্ণনা করেছেন। হাকিমও এটি বর্ণনা করে সহীহ এর সনদ বলে মন্তব্য করেছেন।)
كتاب الذّكر وَالدُّعَاء
نوع آخر
2433- عَن عَائِشَة بنت سعد بن أبي وَقاص عَن أَبِيهَا رَضِي الله عَنهُ أَنه دخل مَعَ رَسُول الله صلى الله عَلَيْهِ وَسلم على امْرَأَة وَبَين يَديهَا نوى أَو حَصى تسبح بِهِ فَقَالَ أخْبرك بِمَا هُوَ أيسر عَلَيْك من هَذَا أَو أفضل فَقَالَ سُبْحَانَ الله عدد مَا خلق فِي السَّمَاء سُبْحَانَ الله عدد مَا خلق فِي الأَرْض سُبْحَانَ الله عدد مَا بَين ذَلِك سُبْحَانَ الله عدد مَا هُوَ خَالق وَالله أكبر مثل ذَلِك وَالْحَمْد لله مثل ذَلِك وَلَا إِلَه إِلَّا الله مثل ذَلِك وَلَا حول وَلَا قُوَّة إِلَّا بِاللَّه مثل ذَلِك

رَوَاهُ أَبُو دَاوُد وَالتِّرْمِذِيّ وَقَالَ حَدِيث حسن غَرِيب من حَدِيث سعد وَالنَّسَائِيّ وَابْن حبَان فِي صَحِيحه وَالْحَاكِم وَقَالَ صَحِيح الْإِسْنَاد

হাদীসের ব্যাখ্যা:

এ হাদীসের দ্বারা জানা গেল যে, অধিক যিকির এর দ্বারা যেমন অধিক ছওয়াব হাসিল করা যায়, তেমনি তার একটি সহজ তরীকা বা পন্থা হলো তার সাথে এমন শব্দসমূহ জুড়ে দেয়া, যার দ্বারা সংখ্যার আধিক্য বুঝায়। যেমনটা উপরোক্ত হাদীসে রাসূল ﷺ শিক্ষা দিয়েছেন।

এখানে একথা লক্ষ্যণীয় যে, কোন কোন হাদীসে স্বয়ং নবী করীম ﷺ বহুলভাবে যিকির করার প্রতি উৎসাহ দিয়েছেন। এজন্যে হযরত সা'দ ইব্‌ন আবূ ওক্কাসের বর্ণিত এ হাদীস দ্বারা যিকিরের আধিক্যের ব্যাপারে তা নিষিদ্ধ হওয়া বা অপসন্দনীয় হওয়া বুঝে নেওয়া মোটেই ঠিক হবে না। উক্ত হাদীসের মর্ম হচ্ছে, যিকিরের দ্বারা অধিক ছওয়াব লাভের একটি সহজতর তরীকা হচ্ছে এটাও, বিশেষত যারা অধিক ব্যস্ততার কারণে আল্লাহর যিকিরের জন্যে বেশি সময় ব্যয় করতে পারেন না, তারা এ পদ্ধতিতেও অনেক ছওয়াব হাসিল করে নিতে পারেন।

হযরত শাহ্ ওলী উল্লাহ মুহাদ্দিসে দেহলভী (র) এ ব্যাপারে বলেন, যে ব্যক্তি তাঁর বাতিনকে এবং তার জীবনকে যিকিরের রঙে অনুরঞ্জিত করতে আগ্রহী, বহুল পরিমাণে যিকির করা তার জন্যে অপরিহার্য। আর যিকির এর দ্বারা কেবল পারলৌকিক ছওয়াব হাসিল করাই যার উদ্দিষ্ট, তার উচিত এমন সব কালিমা যিকিরের জন্যে বেছে নেয়া, যা অর্থগত দিক থেকে উন্নততর ও প্রশস্ততর যেমনটি উপরোক্ত হাদীসে বর্ণিত হয়েছে।

হযরত সা'দ ইব্‌ন আবূ ওক্কাসের বর্ণিত হাদীসের দ্বারা একথাও জানা গেল যে, নবী করীম ﷺ-এর যুগে তসবীহ ব্যবহারের রেওয়াজ ছিল না ঠিক, তবে এ উদ্দেশ্যে কেউ কেউ খেজুর বীচি বা পাথর কণা ইত্যাদি ব্যবহার করেছেন। রাসূলুল্লাহ ﷺ তাঁদেরকে তা করতে বারণ করেননি। বলাবাহুল্য, তাসবীহ এবং এ পন্থার মধ্যে কোনই প্রভেদ নেই। বরং তাসবীহ তারই উন্নততর সংস্করণ। যারা তাসবীহকে বেদ'আত বলে অভিহিত করেছেন, তাঁরা আসলে অহেতুক বাড়াবাড়ি করেছেন।
ব্যাখ্যা সূত্রঃ_ মা'আরিফুল হাদীস (মাওলানা মনযূর নোমানী রহ.)
tahqiqতাহকীক:তাহকীক চলমান