আত্-তারগীব ওয়াত্-তারহীব- ইমাম মুনযিরী রহঃ
১১. অধ্যায়ঃ হজ্জ
হাদীস নং: ১৮৮৬
অধ্যায়ঃ হজ্জ
আমৃত্যু মদীনায় বসবাসের প্রতি উৎসাহ দান এবং মদীনা, উজ্বল ও আকীক উপত্যকার ফযীলত প্রসঙ্গ
১৮৮৬. হযরত আনাস ইবন মালিক (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ(ﷺ) আবূ তালহাকে বলেছিলেন: আমার জন্য একজন পরিচারক বালক খুঁজে দাও, যে আমার খিদমত করবে। আবু তালহা তখন আমাকেই তাঁর বাহনের পিছনে বসিয়ে রওয়ানা হলেন। এরপর থেকে রাসূলুল্লাহ(ﷺ) যেখানেই অবতরণ করতেন, আমি তাঁর খিদমত করতাম। আনাস (রা) বলেন: একদিন তিনি (সফর থেকে ফিরে) মদীনার দিকে আসলেন। উহুদ পাহাড় যখন তাঁর দৃষ্টিগোচর হল, তিনি বললেন। এ পাহাড়টি আমাদেরকে ভালবাসে আর আমরাও তাকে ভালবাসি। তারপর যখন তিনি মদীনার একেবারে কাছাকাছি এসে গেলেন তখন বললেনঃ হে আল্লাহ! আমি মদীনার দু'পাহাড়ের মধ্যবর্তী স্থানকে হারাম ও সম্মানিত ঘোষণা করছি, যেমনটি ইবরাহীম (আ) মক্কাকে হারাম ঘোষণা করেছিলেন। তারপর তিনি বললেনঃ হে আল্লাহ! তুমি মদীনাবাসীর বাটখারা ও পরিমাপ-পাত্রে (আহার্যে) বরকত দান কর।
(হাদীসটি বুখারী ও মুসলিম বর্ণনা করেছেন। বর্ণিত শব্দমালা মুসলিমের।)
(খাস্তানী (র) বলেন): "এ পাহাড়টি আমাদেরকে ভালবাসে এবং আমরা তাকে ভালবাসি" এরদ্বারা রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) মদীনার অধিবাসীদেরকে বুঝিয়েছেন। যেমন আল্লাহ তা'আলা বলেছেন, "আপনি গ্রামকে জিজ্ঞাসা করুন।" এখানে গ্রাম বলে গ্রামবাসীকে বুঝানো হয়েছে। ইমাম বাগাবী (র) বলেনঃ রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ)-এর হাদীসটিকে তার প্রকাশ্য অর্থে গ্রহণ করাই উত্তম। আর জড়বস্তুর মধ্যেও নবী-রাসূল, আওলিয়া ও সালিহীনের প্রতি ভালবাসা-অনুভূতি থাকার কথা অস্বীকার করা যায় না। যেমন উসতুওয়ানায়ে হান্নানা' রাসূল(ﷺ)-এর বিরহে রোদন করেছিল এবং উপস্থিত লোকজন তার রোদন শুনেছিল। শেষে রাসুলুল্লাহ্ (ﷺ) তাকে শান্ত করেছিলেন। অনুরূপভাবে হাদীসে বর্ণিত হয়েছে যে, নবুওয়াত লাভের পূর্বেই একটি পাথর রাসুলুল্লাহ (ﷺ)-কে সালাম দিত। এটিও অস্বীকার করা হয় না। তাই এটা সম্ভব যে, উহুদ পাহাড় ও মদীনার সকল কিছু রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ)-কে ভালবাসত এবং বিরহের সময় তাঁর সাক্ষাৎ লাভের জন্য পাগল-পারা হয়ে থাকত। (হাফিয বলেন।। বাগাবীর এই বক্তব্যটি খুবই চমৎকার। আল্লাহই ভাল জানেন।)
(হাদীসটি বুখারী ও মুসলিম বর্ণনা করেছেন। বর্ণিত শব্দমালা মুসলিমের।)
(খাস্তানী (র) বলেন): "এ পাহাড়টি আমাদেরকে ভালবাসে এবং আমরা তাকে ভালবাসি" এরদ্বারা রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) মদীনার অধিবাসীদেরকে বুঝিয়েছেন। যেমন আল্লাহ তা'আলা বলেছেন, "আপনি গ্রামকে জিজ্ঞাসা করুন।" এখানে গ্রাম বলে গ্রামবাসীকে বুঝানো হয়েছে। ইমাম বাগাবী (র) বলেনঃ রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ)-এর হাদীসটিকে তার প্রকাশ্য অর্থে গ্রহণ করাই উত্তম। আর জড়বস্তুর মধ্যেও নবী-রাসূল, আওলিয়া ও সালিহীনের প্রতি ভালবাসা-অনুভূতি থাকার কথা অস্বীকার করা যায় না। যেমন উসতুওয়ানায়ে হান্নানা' রাসূল(ﷺ)-এর বিরহে রোদন করেছিল এবং উপস্থিত লোকজন তার রোদন শুনেছিল। শেষে রাসুলুল্লাহ্ (ﷺ) তাকে শান্ত করেছিলেন। অনুরূপভাবে হাদীসে বর্ণিত হয়েছে যে, নবুওয়াত লাভের পূর্বেই একটি পাথর রাসুলুল্লাহ (ﷺ)-কে সালাম দিত। এটিও অস্বীকার করা হয় না। তাই এটা সম্ভব যে, উহুদ পাহাড় ও মদীনার সকল কিছু রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ)-কে ভালবাসত এবং বিরহের সময় তাঁর সাক্ষাৎ লাভের জন্য পাগল-পারা হয়ে থাকত। (হাফিয বলেন।। বাগাবীর এই বক্তব্যটি খুবই চমৎকার। আল্লাহই ভাল জানেন।)
كتاب الْحَج
التَّرْغِيب فِي سُكْنى الْمَدِينَة إِلَى الْمَمَات وَمَا جَاءَ فِي فَضلهَا وَفضل أحد ووادي العقيق
1886 - وَعَن أنس بن مَالك رَضِي الله عَنهُ قَالَ قَالَ رَسُول الله صلى الله عَلَيْهِ وَسلم لابي طَلْحَة التمس لي غُلَاما من غِلْمَانكُمْ يخدمني فَخرج أَبُو طَلْحَة يردفني وَرَاءه فَكنت أخدم رَسُول الله صلى الله عَلَيْهِ وَسلم كلما نزل
قَالَ ثمَّ أقبل حَتَّى إِذا بدا لَهُ أحد قَالَ هَذَا جبل يحبنا ونحبه فَلَمَّا أشرف على الْمَدِينَة قَالَ اللَّهُمَّ إِنِّي أحرم مَا بَين جبليها مثل مَا حرم إِبْرَاهِيم مَكَّة ثمَّ قَالَ اللَّهُمَّ بَارك لَهُم فِي مدهم وصاعهم
رَوَاهُ البُخَارِيّ وَمُسلم وَاللَّفْظ لَهُ
قَالَ الْخطابِيّ فِي قَوْله هَذَا جبل يحبنا ونحبه أَرَادَ بِهِ أهل الْمَدِينَة وسكانها كَمَا قَالَ تَعَالَى واسأل الْقرْيَة يُوسُف 28 أَي أهل الْقرْيَة
قَالَ الْبَغَوِيّ وَالْأولَى إجراؤه على ظَاهره وَلَا يُنكر وصف الجمادات بحب الْأَنْبِيَاء والأولياء وَأهل الطَّاعَة كَمَا حنت الأسطوانة على مُفَارقَته صلى الله عَلَيْهِ وَسلم حَتَّى سمع الْقَوْم حنينها إِلَى أَن سكنها وكما أخبر أَن حجرا كَانَ يسلم عَلَيْهِ قبل الْوَحْي فَلَا يُنكر عَلَيْهِ وَيكون جبل أحد وَجَمِيع أَجزَاء الْمَدِينَة تحبه وتحن إِلَى لِقَائِه حَالَة مُفَارقَته إِيَّاهَا
قَالَ الْحَافِظ وَهَذَا الَّذِي قَالَه الْبَغَوِيّ حسن جيد وَالله أعلم
قَالَ ثمَّ أقبل حَتَّى إِذا بدا لَهُ أحد قَالَ هَذَا جبل يحبنا ونحبه فَلَمَّا أشرف على الْمَدِينَة قَالَ اللَّهُمَّ إِنِّي أحرم مَا بَين جبليها مثل مَا حرم إِبْرَاهِيم مَكَّة ثمَّ قَالَ اللَّهُمَّ بَارك لَهُم فِي مدهم وصاعهم
رَوَاهُ البُخَارِيّ وَمُسلم وَاللَّفْظ لَهُ
قَالَ الْخطابِيّ فِي قَوْله هَذَا جبل يحبنا ونحبه أَرَادَ بِهِ أهل الْمَدِينَة وسكانها كَمَا قَالَ تَعَالَى واسأل الْقرْيَة يُوسُف 28 أَي أهل الْقرْيَة
قَالَ الْبَغَوِيّ وَالْأولَى إجراؤه على ظَاهره وَلَا يُنكر وصف الجمادات بحب الْأَنْبِيَاء والأولياء وَأهل الطَّاعَة كَمَا حنت الأسطوانة على مُفَارقَته صلى الله عَلَيْهِ وَسلم حَتَّى سمع الْقَوْم حنينها إِلَى أَن سكنها وكما أخبر أَن حجرا كَانَ يسلم عَلَيْهِ قبل الْوَحْي فَلَا يُنكر عَلَيْهِ وَيكون جبل أحد وَجَمِيع أَجزَاء الْمَدِينَة تحبه وتحن إِلَى لِقَائِه حَالَة مُفَارقَته إِيَّاهَا
قَالَ الْحَافِظ وَهَذَا الَّذِي قَالَه الْبَغَوِيّ حسن جيد وَالله أعلم