আত্-তারগীব ওয়াত্-তারহীব- ইমাম মুনযিরী রহঃ

১১. অধ্যায়ঃ হজ্জ

হাদীস নং: ১৮২৭
অধ্যায়ঃ হজ্জ
সামর্থ্য থাকা সত্ত্বেও যে হজ্জ করে না, তার প্রতি সতর্কবাণী ও ফরয হজ্জ আদায়ের পর মহিলাদের ঘর আঁকড়ে থাকা প্রসঙ্গ
১৮২৭. বায়হাকীও এ হাদীসটি আবদুর রহমান ইবন সাবিত হযরত আবু উমামা (রা) সূত্রে নবী করীম ﷺ থেকে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেছেন: প্রকাশ্য কোন বাঁধা, প্রতিবন্ধক, কোন রোগ অথবা অত্যাচারী বাদশাহ যাকে হজ্জ পালনে বাধা দেয়নি অথচ সে হজ্জ করল না, সে চাই ইয়াহুদী হয়ে মৃত্যুবরণ করুক অথবা নাসারা হয়ে মৃত্যুবরণ করুক, তাতে কিছু আসে যায় না।
كتاب الْحَج
ترهيب من قدر على الْحَج فَلم يحجّ وَمَا جَاءَ فِي لُزُوم الْمَرْأَة بَيتهَا بعد قَضَاء فرض الْحَج
1827- وَرَوَاهُ الْبَيْهَقِيّ أَيْضا عَن عبد الرَّحْمَن بن سابط عَن أبي أُمَامَة عَن النَّبِي صلى الله عَلَيْهِ وَسلم قَالَ من لم تحبسه حَاجَة ظَاهِرَة أَو مرض حَابِس أَو سُلْطَان جَائِر وَلم يحجّ فليمت إِن شَاءَ يَهُودِيّا وَإِن شَاءَ نَصْرَانِيّا

হাদীসের ব্যাখ্যা:

এ হাদীসে ঐসব লোকের জন্য কঠোর হুশিয়ারী রয়েছে, যারা হজ্ব করার শক্তি সামর্থ্য থাকা সত্ত্বেও হজ্ব আদায় করে না। বলা হয়েছে যে, তাদের এ অবস্থায় মৃত্যুবরণ করা আর ইয়াহুদী অথবা নাসারা হয়ে মৃত্যুবরণ করা যেন সমান। (নাউযুবিল্লাহ) এটা ঐ ধরনের হুশিয়ারীই, যেমন, নামায পরিত্যাগ করাকে কুফর ও শিরকের কাছাকাছি বিষয় বলা হয়েছে। কুরআন মজীদেও এরশাদ হয়েছে :

وَاَقِیۡمُوا الصَّلٰوۃَ وَلَا تَکُوۡنُوۡا مِنَ الۡمُشۡرِکِیۡن

অর্থাৎ, তোমরা নামায কায়েম কর এবং মুশরিকদের অন্তর্ভুক্ত হয়ো না। এর দ্বারা বুঝা যায় যে, নামায ত্যাগ করা একটি মুশরিকসুলভ কাজ।

হজ্ব ফরয হওয়া সত্ত্বেও যারা হজ্ব করে না, তাদেরকে মুশরিকদের সাথে উপমা না দিয়ে ইয়াহুদী ও নাছারাদের সাথে উপমা দেওয়ার রহস্য এই যে, হজ্ব না করা ইয়াহুদী ও নাসারাদের বৈশিষ্ট্য ছিল। কেননা, আরবের মুশরিকরা হজ্ব করত, তবে তারা নামায পড়ত না। এ জন্য নামায ত্যাগ করাকে মুশরিকসুলভ কর্ম বলা হয়েছে।

এ হাদীসে শক্তি-সামর্থ্য থাকা সত্ত্বেও যারা হজ্ব করে না, তাদের জন্য যে হুশিয়ারী উচ্চারিত হয়েছে, এর জন্য সূরা আলে ইমরানের ঐ আয়াতের বরাত উল্লেখ করা হয়েছে, যেখানে হজ্ব ফরয হওয়ার বর্ণনা রয়েছে, অর্থাৎ وَلِلّٰہِ عَلَی النَّاسِ حِجُّ الۡبَیۡتِ مَنِ اسۡتَطَاعَ اِلَیۡہِ سَبِیۡلًا কিন্তু বুঝা যায় যে, বর্ণনাকারী বরাত হিসাবে কেবল আয়াতটির প্রথম অংশই উল্লেখ করেছেন। আসলে আয়াতের যে অংশ দ্বারা হুশিয়ারী বুঝা যায়, সেটা হচ্ছে সামনের অংশ অর্থাৎ وَمَنۡ کَفَرَ فَاِنَّ اللّٰہَ غَنِیٌّ عَنِ الۡعٰلَمِیۡنَ যার অর্থ এই যে, এ নির্দেশের পর যে ব্যক্তি কাফের সুলভ নীতি অবলম্বন করবে এবং সামর্থ্য থাকা সত্ত্বেও হজ্ব করবে না, তার ব্যাপারে আল্লাহর কোন পরওয়া নেই, তিনি সকল সৃষ্টিজগত থেকে অমুখাপেক্ষী। এতে শক্তি-সামর্থ্য থাকা সত্ত্বেও যারা হজ্ব করে না, তাদের এ কর্মনীতিকে مَنۡ کَفَرَ শব্দ দ্বারা উল্লেখ করা হয়েছে এবং فَاِنَّ اللّٰہَ غَنِیٌّ عَنِ الۡعٰلَمِیۡنَ এর হুশিয়ারী শোনানো হয়েছে। এর মর্ম এটাই হল যে, এমন অকৃতজ্ঞ ও অবাধ্য মানুষ যা কিছুই করুক এবং যে অবস্থায়ই মারা যাক, এতে আল্লাহর কোন পরওয়া নেই।
ব্যাখ্যা সূত্রঃ_ মা'আরিফুল হাদীস (মাওলানা মনযূর নোমানী রহ.)
tahqiqতাহকীক:তাহকীক চলমান