আত্-তারগীব ওয়াত্-তারহীব- ইমাম মুনযিরী রহঃ

১১. অধ্যায়ঃ হজ্জ

হাদীস নং: ১৭৮৭
অধ্যায়ঃ হজ্জ
তওয়াফ, হাজরে আসওয়াদ ও রুকনে ইয়ামানীকে স্পর্শ করার প্রতি উৎসাহ দান ও দু'টির ফযীলত প্রসঙ্গ, মাকামে ইবরাহীম ও বায়তুল্লাহয় প্রবেশের ফযীলত
১৭৮৭. হযরত জাবির ইব্‌ন আবদুল্লাহ্ (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা দ্বিপ্রহরের সময় মক্কায় প্রবেশ করলাম। তারপর রাসূলুল্লাহ মসজিদুল হারামের দরজার কাছে আসলেন এবং বাহনকে বসালেন। একটু পরে তিনি মসজিদে প্রবেশ করলেন এবং প্রথমেই হাজরে আসওয়াদের নিকট গেলেন এবং এটি স্পর্শ করলেন। কান্নায় তার দু'চোখ দিয়ে অশ্রু গড়িয়ে পড়ল। তারপর হযরত জাবির (রা) দীর্ঘ হাদীসটি বর্ণনা করলেন। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ তাওয়াফের প্রথম তিন চক্করে বীরোচিত ভঙ্গিতে দ্রুত চললেন এবং চার চক্কর স্বাভাবিক গতিতে হেঁটে চললেন। এভাবে তিনি তাওয়াফ শেষ করলেন। তাওয়াফ শেষে তিনি হাজরে আসওয়াদে চুমু খেলেন এবং নিজের দু'হাত তার উপর স্থাপন করলেন। তারপর দু'হাতে মুখ মুছে নিলেন।
(হাদীসটি ইবন খুযায়মা তাঁর 'সহীহ' গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন। বর্ণিত শব্দমালা তাঁরই। হাকিমও এটি বর্ণনা করেছেন এবং বলেছেন, হাদীসটি মুসলিমের শর্ত অনুযায়ী সহীহ।)
كتاب الْحَج
التَّرْغِيب فِي الطّواف واستلام الْحجر الْأسود والركن الْيَمَانِيّ وَمَا جَاءَ فِي فضلهما وَفضل الْمقَام وَدخُول الْبَيْت
1787- وَعَن جَابر بن عبد الله رَضِي الله عَنْهُمَا قَالَ فَدَخَلْنَا مَكَّة ارْتِفَاع الضُّحَى فَأتى يَعْنِي النَّبِي صلى الله عَلَيْهِ وَسلم بَاب الْمَسْجِد فَأَنَاخَ رَاحِلَته ثمَّ دخل الْمَسْجِد فَبَدَأَ بِالْحجرِ فاستلمه وفاضت عَيناهُ بالبكاء فَذكر الحَدِيث قَالَ وَرمل ثَلَاثًا وَمَشى أَرْبعا حَتَّى فرغ فَلَمَّا فرغ قبل الْحجر وَوضع يَدَيْهِ عَلَيْهِ ثمَّ مسح بهما وَجهه

رَوَاهُ ابْن خُزَيْمَة فِي صَحِيحه وَاللَّفْظ لَهُ وَالْحَاكِم وَقَالَ صَحِيح على شَرط مُسلم

হাদীসের ব্যাখ্যা:

প্রত্যেক তাওয়াফ হাজরে আসওয়াদের 'ইসতিলাম' দ্বারা শুরু হয়। ইসতিলামের অর্থ হচ্ছে হাজরে আসওয়াদকে চুমু খাওয়া অথবা এর উপর হাত রেখে অথবা হাত ঐ দিকে করে ঐ হাতকেই চুমু দেওয়া। এ ইসতিলাম করেই তাওয়াফ শুরু করা হয় এবং প্রতিটি তাওয়াফে খানায়ে কাবাকে সাতবার প্রদক্ষিণ করা হয়।

"রমল" এক বিশেষ ভঙ্গির চলনকে বলে, যার মধ্যে শক্তি ও বীরত্বের প্রকাশ ঘটে। বিভিন্ন রেওয়ায়াতে এসেছে যে, ৭ম হিজরীতে যখন রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) সাহাবায়ে কেরামের এক বিরাট জামাআত নিয়ে উমরার জন্য মক্কা শরীফ আসলেন, তখন সেখানকার অধিবাসীরা পরস্পর বলাবলি করল যে, ইয়াসরিব অর্থাৎ মদীনার খারাপ আবহাওয়া, জ্বর ইত্যাদি রোগ-বালাই এ লোকদেরকে দুর্বল করে দিয়েছে। রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর কানে যখন একথা পৌঁছল তখন তিনি তাদেরকে হুকুম দিলেন যে, তাওয়াফের প্রথম তিন চক্করে রমল অর্থাৎ, বীরদর্পে চলবে এবং এভাবে শক্তি ও শৌর্য-বীর্যের মহড়া প্রদর্শন করবে। সুতরাং এর উপরই আমল করা হল। কিন্তু আল্লাহ্ তা'আলার কাছে ঐ সময়ের এ ভঙ্গিমাটি এমন পছন্দ হল যে, এটাকে একটি পৃথক সুন্নত সাব্যস্ত করে দেওয়া হল। বর্তমানে এ পদ্ধতি ও নিয়মই চালু রয়েছে, হজ্ব অথবা উমরা পালনকারী প্রথম যে তাওয়াফটি করে এবং যার পর তাকে সাফা-মারওয়ার মাঝে সায়ীও করতে হয়, এর প্রথম তিন চক্করে রমল করা হয় এবং বাকী চক্করগুলোতে স্বাভাবিক গতিতে চলা হয়।
ব্যাখ্যা সূত্রঃ_ মা'আরিফুল হাদীস (মাওলানা মনযূর নোমানী রহ.)
tahqiqতাহকীক:তাহকীক চলমান