আত্-তারগীব ওয়াত্-তারহীব- ইমাম মুনযিরী রহঃ

৯. অধ্যায়ঃ রোযা

হাদীস নং: ১৫৭৭
অধ্যায়ঃ রোযা
সোমবার ও বৃহস্পতিবারে রোযা রাখার প্রতি উৎসাহ প্রদান
১৫৭৭. হযরত আবূ হুরায়রা (রা) থেকেই বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ ﷺ সোমবার ও বৃহস্পতিবারে রোযা রাখতেন। তাই তাঁকে প্রশ্ন করা হল, ইয়া রাসূলাল্লাহ। আপনি তো সোমবার ও বৃহস্পতিবারে রোযা পালন করেন। তিনি তখন বললেন: সোমবার ও বৃহস্পতিবারে আল্লাহ সকল মুসলমানকে মাফ করে দেন। তবে পরস্পর হিংসা পোষণকারী দু'ব্যক্তিকে ক্ষমা করেন না। আল্লাহ বলেন, এদেরকে ছাড়, দু'জনে সম্পর্ক ঠিক করে নিক।
(হাদীসটি ইবন মাজাহ বর্ণনা করেছেন। এর বর্ণনাকারীগণ নির্ভরযোগ্য। মালিক এবং মুসলিমও এটি বর্ণনা করেন। আবু দাউদ ও তিরমিযী কেবল রোযা প্রসঙ্গে সংক্ষিপ্তভাবে এটি বর্ণনা করেন।)
মুসলিমের বর্ণনাটি এরূপঃ রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন, প্রতি সোম ও বৃহস্পতিবারে মানুষের আমলসমূহ। আল্লাহর দরবারে পেশ করা হয়। অতএব মহান আল্লাহ্ এদিন মুশরিক ব্যতীত সকল মানুষকে ক্ষমা করে দেন। কিন্তু যে ব্যক্তির তার ভাইয়ের সাথে মনোমালিন্য রয়েছে, তাকে ক্ষমা করা হয় না। আল্লাহ্ বলেন, এদেরকে ছেড়ে রাখ, যে পর্যন্ত না তারা নিজেদের সম্পর্ক ঠিক করে নেয়। মুসলিমেরই অপর এক বর্ণনায় রয়েছে: সোমবার ও বৃহস্পতিবারে জান্নাতের দরজাসমূহ খুলে দেয়া হয় এবং মুশরিক ব্যতীত সকল বান্দাকে ক্ষমা করে দেয়া হয়। কিন্তু ঐ ব্যক্তিকে মাফ করা হয় না, যার তার ভাইয়ের সাথে রেষারেষি রয়েছে।.... হাদীসের শেষ পর্যন্ত।
হাদীসটি তাবারানী এভাবে বর্ণনা করেন:
পৃথিবীবাসীর দফতরসমূহকে প্রতি সোম ও বৃহস্পতিবারে আসমানবাসীদের দফতরের সাথে সংযুক্ত করা হয়। অতএব মুশরিক ব্যতীত সকল বান্দাকে মাফ করে দেয়া হয়। কিন্তু যে ব্যক্তির তার ভাইয়ের সাথে রেষারেষি রয়েছে, তাকে মাফ করা হয় না।
كتاب الصَّوْم
التَّرْغِيب فِي صَوْم الِاثْنَيْنِ وَالْخَمِيس
1577- وَعَن أبي هُرَيْرَة رَضِي الله عَنهُ أَيْضا أَن النَّبِي صلى الله عَلَيْهِ وَسلم كَانَ يَصُوم الِاثْنَيْنِ وَالْخَمِيس فَقيل يَا رَسُول الله إِنَّك تَصُوم الِاثْنَيْنِ وَالْخَمِيس فَقَالَ إِن يَوْم الِاثْنَيْنِ وَالْخَمِيس يغْفر
الله فيهمَا لكل مُسلم إِلَّا مهتجرين يَقُول دعهما حَتَّى يصطلحا

رَوَاهُ ابْن مَاجَه وَرُوَاته ثِقَات
وَرَوَاهُ مَالك وَمُسلم وَأَبُو دَاوُد وَالتِّرْمِذِيّ بِاخْتِصَار ذكر الصَّوْم وَلَفظ مُسلم قَالَ رَسُول الله صلى الله عَلَيْهِ وَسلم تعرض الْأَعْمَال فِي كل اثْنَيْنِ وخميس فَيغْفر الله عز وَجل فِي ذَلِك الْيَوْم لكل امرىء لَا يُشْرك بِاللَّه شَيْئا إِلَّا امْرأ كَانَت بَينه وَبَين أَخِيه شَحْنَاء فَيَقُول اتْرُكُوا هذَيْن حَتَّى يصطلحا
وَفِي رِوَايَة لَهُ تفتح أَبْوَاب الْجنَّة يَوْم الِاثْنَيْنِ وَالْخَمِيس فَيغْفر لكل عبد لَا يُشْرك بِاللَّه شَيْئا إِلَّا رجلا كَانَ بَينه وَبَين أَخِيه شَحْنَاء الحَدِيث
وَرَوَاهُ الطَّبَرَانِيّ وَلَفظه قَالَ تنسخ دواوين أهل الأَرْض فِي دواوين أهل السَّمَاء فِي كل اثْنَيْنِ وخميس فَيغْفر لكل مُسلم لَا يُشْرك بِاللَّه شَيْئا إِلَّا رجلا بَينه وَبَين أَخِيه شَحْنَاء

হাদীসের ব্যাখ্যা:

সপ্তাহে দু'দিন আল্লাহ সুবহানাহুর সমীপে তাঁর বান্দাদের আমল পেশ করা হয়। যেসব মু'মিন বান্দা আল্লাহর কাছে তওবা করেন, আল্লাহ তাদের তওবা কবুল করেন এবং তাদের গুনাহ মাফ করে দেন। কিন্তু যারা পরস্পর শত্রুতা পোষণ করে বা পরস্পর ঘৃণা-বিদ্বেষ পোষণ করে, তাদের পারস্পরিক বিরোধ মীমাংসিত না হওয়া পর্যন্ত আল্লাহ তাদের তওবা কবুল করেন না। তাই শয়তানের প্ররোচনায় দু'জন মুসলমানের মধ্যে কোন বিরোধ বাঁধলে তা সত্বর মীমাংসা করা উভয় ব্যক্তির কর্তব্য। যদি তাদের কোন ব্যক্তি বিরোধ মীমাংসা করার জন্য অগ্রণী ভূমিকা পালন করে, তাহলে সে সওয়াব পাবে। যদি আন্তরিকতা থাকা সত্ত্বেও তার প্রচেষ্টা সফল না হয় অর্থাৎ অপর ভাইকে সন্তুষ্ট করতে ব্যর্থ হয়, তাহলেও সে গুনাহগার হবে না। যে আল্লাহ ও তাঁর রাসুলকে মহব্বত করে, সে কখনো মুসলমান ভাইয়ের বিরুদ্ধে শত্রুতা করতে পারে না; বরং কোন কারণে মুসলমান ভাই নারায হলে তাকে শীঘ্র সন্তষ্ট করা ঈমানদার ব্যক্তির কর্তব্য। এ ব্যাপারে যে নিজের প্রভাব-প্রতিপত্তি, সম্মান এবং ব্যক্তিত্বের উপর বেশি গুরুত্ব আরোপ করে, সে সহজে অন্যের সাথে বিরোধ মীমাংসা করতে পারে না।
ব্যাখ্যা সূত্রঃ_ মা'আরিফুল হাদীস (মাওলানা মনযূর নোমানী রহ.)
tahqiqতাহকীক:তাহকীক চলমান