আত্-তারগীব ওয়াত্-তারহীব- ইমাম মুনযিরী রহঃ
৯. অধ্যায়ঃ রোযা
হাদীস নং: ১৪৬৮
অধ্যায়ঃ রোযা
অধ্যায়: রোযা
রোযা রাখার প্রতি উৎসাহ দান রোযা ও রোযাদারের দু'আর ফযীলত প্রসঙ্গ
রোযা রাখার প্রতি উৎসাহ দান রোযা ও রোযাদারের দু'আর ফযীলত প্রসঙ্গ
১৪৬৮. নাসাঈর অপর এক বর্ণনায় এমন রয়েছে। আবু উমামা বলেনঃ আমি রাসুলুল্লাহ ﷺ -এর নিকট এসে বললাম, ইয়া রাসুলাল্লাহ। আমাকে এমন বিষয়ের কথা বলুন, যার দ্বারা আল্লাহ্ আমাকে উপকৃত করবেন। তিনি বললেন, তুমি রোযা রাখ। কেননা এর কোন তুলনা নেই।
(ইব্ন হিব্বান এ হাদীসটি তাঁর 'সহীহ' গ্রন্থে এভাবে বর্ণনা করেছেনঃ
আবু উমামা বলেন, আমি বললাম ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমাকে এমন আমলের সন্ধান দিন যার দ্বারা আমি জান্নাতে প্রবেশ করতে পারব। তিনি বললেন, তুমি রোযা পালন কর। কেননা এর কোন তুলনা নেই। বর্ণনাকারী বলেন, এ কারণেই আবু উমামার বাড়িতে দিনের বেলায় কখনও আগুনের ধোঁয়া দেখা যেত না। তবে যদি কখনও মেহমান এসে পড়ত।)
(ইব্ন হিব্বান এ হাদীসটি তাঁর 'সহীহ' গ্রন্থে এভাবে বর্ণনা করেছেনঃ
আবু উমামা বলেন, আমি বললাম ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমাকে এমন আমলের সন্ধান দিন যার দ্বারা আমি জান্নাতে প্রবেশ করতে পারব। তিনি বললেন, তুমি রোযা পালন কর। কেননা এর কোন তুলনা নেই। বর্ণনাকারী বলেন, এ কারণেই আবু উমামার বাড়িতে দিনের বেলায় কখনও আগুনের ধোঁয়া দেখা যেত না। তবে যদি কখনও মেহমান এসে পড়ত।)
كتاب الصَّوْم
كتاب الصَّوْم
التَّرْغِيب فِي الصَّوْم مُطلقًا وَمَا جَاءَ فِي فَضله وَفضل دُعَاء الصَّائِم
التَّرْغِيب فِي الصَّوْم مُطلقًا وَمَا جَاءَ فِي فَضله وَفضل دُعَاء الصَّائِم
1468- وَفِي رِوَايَة للنسائي قَالَ أتيت رَسُول الله صلى الله عَلَيْهِ وَسلم فَقلت يَا رَسُول الله مرني بِأَمْر يَنْفَعنِي الله بِهِ قَالَ عَلَيْك بالصيام فَإِنَّهُ لَا مثل لَهُ
وَرَوَاهُ ابْن حبَان فِي صَحِيحه فِي حَدِيث قَالَ قلت يَا رَسُول الله دلَّنِي على عمل أَدخل بِهِ الْجنَّة قَالَ عَلَيْك بِالصَّوْمِ فَإِنَّهُ لَا مثل لَهُ
قَالَ فَكَانَ أَبُو أُمَامَة لَا يرى فِي بَيته الدُّخان نَهَارا إِلَّا إِذا نزل بهم ضيف
وَرَوَاهُ ابْن حبَان فِي صَحِيحه فِي حَدِيث قَالَ قلت يَا رَسُول الله دلَّنِي على عمل أَدخل بِهِ الْجنَّة قَالَ عَلَيْك بِالصَّوْمِ فَإِنَّهُ لَا مثل لَهُ
قَالَ فَكَانَ أَبُو أُمَامَة لَا يرى فِي بَيته الدُّخان نَهَارا إِلَّا إِذا نزل بهم ضيف
হাদীসের ব্যাখ্যা:
নামায, রোযা, দান-খয়রাত, হজ্ব, সৃষ্টির সেবা ইত্যাদি পুণ্যকর্মসমূহে যদিও একটি বিষয় সমানভাবে বিদ্যমান যে, এর সবগুলোই আল্লাহর নৈকট্য অর্জনের মাধ্যম, কিন্তু এগুলোর প্রত্যেকটির ভিন্ন ভিন্ন প্রভাব ও প্রতিক্রিয়াও রয়েছে- যার কারণে একটি আরেকটি থেকে বৈশিষ্ট্যমন্ডিত ও ভিন্নধর্মী। যেমন বলা হয়: প্রতিটি ফুলের রং ও ঘ্রাণ ভিন্ন। এ স্বকীয় বৈশিষ্ট্যের দৃষ্টিতে প্রত্যেকটি জিনিস সম্পর্কেই বলা যায় যে, এর তুল্য আর কোন আমল নেই। যেমন, প্রবৃত্তি দমন ও এর চাহিদাসমূহকে দুর্বল করার ক্ষেত্রে বলা যায় যে, রোযার মত অন্য কোন আমল নেই। অতএব, হযরত আবূ উমামার এ হাদীসে রোযা সম্পর্কে যে বলা হয়েছে, 'এর তুল্য কোন আমল নেই' এর অর্থ এটাই বুঝতে হবে। তাছাড়া এ কথাও মনে রাখা চাই যে, হযরত আবূ উমামার নিজের অবস্থা বিবেচনায় তার জন্য বেশী উপকারী আমল রোযাই ছিল। এ জন্য রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তাকে এ পরামর্শ দিয়েছিলেন। এ হাদীসের অন্য কোন কোন বর্ণনায় এসেছে যে, আবূ উমামা এ উত্তর পাওয়ার পর দ্বিতীয় বার এবং তৃতীয়বারও এ নিবেদনই করলেন, 'আমাকে কোন আমলের কথা বলুন, যা আমি করে যাব।' রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তখন প্রতিবারই বললেন: রোযা রেখে যাও, এর তুল্য অন্য কোন আমল নেই। অর্থাৎ, তোমার বিশেষ অবস্থার পরিপ্রেক্ষিতে এর দ্বারাই তোমার বেশী উপকার হবে।
ব্যাখ্যা সূত্রঃ_ মা'আরিফুল হাদীস (মাওলানা মনযূর নোমানী রহ.)