আত্-তারগীব ওয়াত্-তারহীব- ইমাম মুনযিরী রহঃ
৮. অধ্যায়ঃ সদকা
হাদীস নং: ১২৩২
অধ্যায়ঃ সদকা
ভিক্ষাবৃত্তির প্রতি ভীতি প্রদর্শন, ধনী ব্যক্তির ভিক্ষাবৃত্তির আশ্রয় নেয়া হারাম হওয়া, লোভ-লালসার নিন্দা এবং লোভ-লালসা থেকে পবিত্র থাকা, অল্পে তুষ্টি এবং নিজ হাতে উপার্জিত বস্তু খাওয়ার প্রতি অনুপ্রেরণা
১২৩২. হযরত আবূ যর (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমাকে রাসূলুল্লাহ (সা) বলেছেন: হে আবু যর। তুমি কি মনে কর যে, অধিক সম্পদই ধনাঢ্যতা? আমি বললামঃ হ্যাঁ, ইয়া রাসূলাল্লাহ! তিনি (আবার) বললেনঃ তুমি কি মনে কর যে, কম সম্পদই দরিদ্রতা? আমি বললামঃ হ্যাঁ, ইয়া রাসূলাল্লাহ! তিনি বললেন: প্রকৃত ধনাঢ্যতা হচ্ছে, অন্তরের ধনাঢ্যতা এবং অমুখাপেক্ষিতা। আর প্রকৃত দরিদ্রতা হচ্ছে অন্তরের দরিদ্রতা।
(ইবন হিব্বান তাঁর 'সহীহ' গ্রন্থে হাদীসটি বর্ণনা করেন। এ বিষয়ে আরো হাদীস ইনশাআল্লাহ সামনে আসছে।)
(ইবন হিব্বান তাঁর 'সহীহ' গ্রন্থে হাদীসটি বর্ণনা করেন। এ বিষয়ে আরো হাদীস ইনশাআল্লাহ সামনে আসছে।)
كتاب الصَّدقَات
التَّرْهِيب من الْمَسْأَلَة وتحريمها مَعَ الْغنى وَمَا جَاءَ فِي ذمّ الطمع وَالتَّرْغِيب فِي التعفف والقناعة وَالْأكل من كسب يَده
1232 - وَعَن أبي ذَر رَضِي الله عَنهُ قَالَ قَالَ لي رَسُول الله صلى الله عَلَيْهِ وَسلم يَا أَبَا ذَر أَتَرَى كَثْرَة المَال هُوَ الْغنى قلت نعم يَا رَسُول الله قَالَ أفترى قلَّة المَال هُوَ الْفقر قلت نعم يَا رَسُول الله
قَالَ إِنَّمَا الْغنى غنى الْقلب والفقر فقر الْقلب
رَوَاهُ ابْن حبَان فِي صَحِيحه فِي حَدِيث يَأْتِي إِن شَاءَ الله تَعَالَى
قَالَ إِنَّمَا الْغنى غنى الْقلب والفقر فقر الْقلب
رَوَاهُ ابْن حبَان فِي صَحِيحه فِي حَدِيث يَأْتِي إِن شَاءَ الله تَعَالَى
হাদীসের ব্যাখ্যা:
ধন-দৌলতের আসল উদ্দেশ্য হল প্রয়োজন পূরণ করা এবং নিজের প্রয়োজনের জন্য অন্যের মুখাপেক্ষী না হওয়া। দৌলতের আধিক্য দ্বারা মানুষের তামাম প্রয়োজন পূরণ অসম্ভব। দৌলতের আধিক্যের সাথে সাথে বান্দার প্রয়োজনও বৃদ্ধি পায়। সঞ্চিত দৌলতের দ্বারা এক প্রয়োজন পূরণ করার পূর্বেই বান্দার নফস অসংখ্য প্রয়োজন সৃষ্টি করে। নফসের সৃষ্ট অসংখ্য প্রয়োজন পূরণ করার জন্য বান্দা আরো সম্পদ লাভ করার চেষ্টা করে এবং অধিক সম্পদ অর্জনের জন্য অন্যের মুখাপেক্ষী হয়। তাই নফসের গলদ নির্দেশে লোভ-লালসায় বান্দা ধনী হয়েও অন্যের মুখাপেক্ষী। সম্পদের আধিক্য তাকে প্রাচুর্য দান করতে পারেনি অর্থাৎ তাকে অন্যের মুখাপেক্ষিতা থেকে রক্ষা করতে পারেনি।
সাধারণত সম্পদের অভাবকে দারিদ্র্য বলা হয় এবং দরিদ্র ব্যক্তি তার প্রয়োজন পূরণ করার জন্য অন্যের মুখাপেক্ষী হয়। যদি কোন বান্দা তার অল্প সম্পদ সত্ত্বেও অন্যের মুখাপেক্ষী না হয়, একটি রুটির পরিবর্তে অর্ধেক রুটির দ্বারা প্রয়োজন পূরণ করে, তাহলে সম্পদের স্বল্পতা সত্ত্বেও তাকে দরিদ্র বলা যাবে না। তাই নবী করীম ﷺ বলেছেন, সম্পদের অভাবের নাম দারিদ্র্য নয়, বরং অন্তরের প্রাচুর্য আসল প্রাচুর্য এবং অন্তরের দারিদ্র্য আসল দারিদ্র।
ইমাম বুখারী আবূ হুরায়রা (রা)-এর হাওয়ালা দিয়ে অনুরূপ এক হাদীস বর্ণনা করেছেন। রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেন:
لَيْسَ الغِنٰى عَنْ كَثْرَةِ الْعُرُوضِ وَلَكِنَّ الْغِنٰى غِنَى النَّفْسِ .
"দৌলতের আধিক্য প্রাচুর্য নয়, বরং প্রাচুর্য হল নফসের প্রাচুর্য।"
নফস বা অন্তরের প্রাচুর্য কিভাবে হাসিল করা যায় তার পন্থাও আল্লাহর রাসূল ﷺ অপর এক হাদীসে বর্ণনা করেছেন। আল্লাহ যা দান করেছেন, তাতে যে তৃপ্ত ও সন্তুষ্ট থাকে, সে অন্তরের প্রাচুর্য হাসিল করতে পারে। যে অন্তরের প্রাচুর্য লাভ করে, সে দুনিয়া ও আখিরাতে কামিয়াব।
ইমাম মুসলিম আবদুল্লাহ ইবন উমর (রা)-এর হাওয়ালা দিয়ে বর্ণনা করেন; রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন:
قَدْ أَفْلَحَ مَنْ أَسْلَم وَرُزِقَ كَفَافًا وَقَنَّعَهُ اللهُ بِمَا أَتَاهُ -
"সেই কামিয়াব হয়েছে যে ইসলাম কবুল করেছে, যাকে সামান্য রিযক দেয়া হয়েছে এবং যা তাকে দেয়া হয়েছে তাতে আল্লাহ তাকে কানাআত ও পরিতৃপ্তি দান করেছেন
সাধারণত সম্পদের অভাবকে দারিদ্র্য বলা হয় এবং দরিদ্র ব্যক্তি তার প্রয়োজন পূরণ করার জন্য অন্যের মুখাপেক্ষী হয়। যদি কোন বান্দা তার অল্প সম্পদ সত্ত্বেও অন্যের মুখাপেক্ষী না হয়, একটি রুটির পরিবর্তে অর্ধেক রুটির দ্বারা প্রয়োজন পূরণ করে, তাহলে সম্পদের স্বল্পতা সত্ত্বেও তাকে দরিদ্র বলা যাবে না। তাই নবী করীম ﷺ বলেছেন, সম্পদের অভাবের নাম দারিদ্র্য নয়, বরং অন্তরের প্রাচুর্য আসল প্রাচুর্য এবং অন্তরের দারিদ্র্য আসল দারিদ্র।
ইমাম বুখারী আবূ হুরায়রা (রা)-এর হাওয়ালা দিয়ে অনুরূপ এক হাদীস বর্ণনা করেছেন। রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেন:
لَيْسَ الغِنٰى عَنْ كَثْرَةِ الْعُرُوضِ وَلَكِنَّ الْغِنٰى غِنَى النَّفْسِ .
"দৌলতের আধিক্য প্রাচুর্য নয়, বরং প্রাচুর্য হল নফসের প্রাচুর্য।"
নফস বা অন্তরের প্রাচুর্য কিভাবে হাসিল করা যায় তার পন্থাও আল্লাহর রাসূল ﷺ অপর এক হাদীসে বর্ণনা করেছেন। আল্লাহ যা দান করেছেন, তাতে যে তৃপ্ত ও সন্তুষ্ট থাকে, সে অন্তরের প্রাচুর্য হাসিল করতে পারে। যে অন্তরের প্রাচুর্য লাভ করে, সে দুনিয়া ও আখিরাতে কামিয়াব।
ইমাম মুসলিম আবদুল্লাহ ইবন উমর (রা)-এর হাওয়ালা দিয়ে বর্ণনা করেন; রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন:
قَدْ أَفْلَحَ مَنْ أَسْلَم وَرُزِقَ كَفَافًا وَقَنَّعَهُ اللهُ بِمَا أَتَاهُ -
"সেই কামিয়াব হয়েছে যে ইসলাম কবুল করেছে, যাকে সামান্য রিযক দেয়া হয়েছে এবং যা তাকে দেয়া হয়েছে তাতে আল্লাহ তাকে কানাআত ও পরিতৃপ্তি দান করেছেন
ব্যাখ্যা সূত্রঃ_ মা'আরিফুল হাদীস (মাওলানা মনযূর নোমানী রহ.)
বর্ণনাকারী: