আত্-তারগীব ওয়াত্-তারহীব- ইমাম মুনযিরী রহঃ

৫. অধ্যায়ঃ নামাজ

হাদীস নং: ৫৭৬
সালাতের প্রতি অনুপ্রেরণা এবং রুকু-সিজদা ও ভীতি-বিহ্বলতার ফযীলত
৫৭৬. হযরত আসিম ইবন সুফিয়ান সাকাফী (রা) থেকে বর্ণিত। একদল সাহাবী গাযওয়ায়ে সালাসীলে যাওয়ার প্রস্তুতি নিলেন (তন্মধ্যে আমিও ছিলাম)। কিন্তু আমাদের জিহাদে অংশগ্রহণের পূর্বেই যুদ্ধ শেষ হয়ে যায়। পরে আমরা আমীর মুআবিয়া (রা)-এর নিকট গেলাম। আর তখন তাঁর নিকট আবু আইয়ুব ও উকবা ইবন আমির (রা) ছিলেন। তখন আসিম বললেনঃ হে আবু আইয়ুব। এ বছর আমরা জিহাদে অংশগ্রহণ থেকে বঞ্চিত হলাম। অথচ রাসুলুল্লাহ (সা) বলেছেনঃ যে ব্যক্তি চার মসজিদে সালাত আদায় করবে, তার গুনাহ ক্ষমা করা হবে। এরপর তিনি বললেনঃ হে ভাতিজা। আমি তোমাকে এর চেয়ে সহজতর নেককাজের কথা বলছি। আমি রাসূলুল্লাহ (সা) কে বলতে শুনেছিঃ যে ব্যক্তি নির্দেশিত নিয়মে উযু করবে এবং নির্দেশিত নিয়মে সালাত আদায় করবে, তার জীবনের সমুদয় পাপ ক্ষমা করা হবে। হে উকবা। হাদীসটি এরূপ নয় কি? উকরা (রা) বললেন: হ্যাঁ! নাসাঈ, ইবন মাজাহ, ইবন হিব্বানের 'সহীহ' গ্রন্থে হযরত আমর ইবন আবাসা হতে উযূর অধ্যায়ে হাদীসটি বর্ণিত হয়েছে। আমর ইবন আবাসার হাদীসের শেষাংশে আছে: এরপর যদি সে সালাতের উদ্দেশ্যে দাঁড়ায়, আল্লাহর হামদ ও সানা করে, আল্লাহর যথাযথ মর্যাদা বর্ণনা করে এবং নিষ্ঠার সাথে আল্লাহর জন্য সালাত আদায় করে, সে নবজাত সন্তানের মত নিষ্পাপ হয়ে যায়, যেন তাকে তার মা আজ প্রসব করেছে।
(মুসলিম (র) উপরোক্ত হাদীসটি বর্ণনা করেন।)
এ অনুচ্ছেদের পূর্বে হযরত উসমান (রা) বর্ণিত হাদীসে আছেঃ আমি রাসূলুল্লাহ (সা) কে বলতে শুনেছি, কোন মুসলিমের নিকট যখন ফরয সালাতের সময় হয়, এরপর সে উত্তমরূপে উযূ করে এবং ভীত-সন্ত্রস্ত হয়ে বিনয়ের সাথে যথাযথভাবে সালাত আদায় করে, কাবীরা গুনাহ না করা পর্যন্ত তার সালাতের পূর্বের যাবতীয় গুনাহ ক্ষমা করা হয়। এভাবে আজীবন চলতে থাকে। মুসলিমে হাদীসটি অনুরূপ হযরত উবাদা (রা) থেকে হাদীস বর্ণিত আছেঃ আমি রাসূলুল্লাহ (সা) বলতে শুনেছি, তিনি বলেছেনঃ যে ব্যক্তি আল্লাহর ফরযকৃত পাঁচ ওয়াক্ত সালাত আদায়ের উদ্দেশ্যে উত্তমরূপে উযূ করে এবং যথাসময়ে সালাত আদায় করে, পূর্ণভাবে রুকু-সিজদা,আল্লাহ-ভীতিসহ আদায় করে, আল্লাহর পক্ষ থেকে তার গুনাহ ক্ষমার অঙ্গীকার রয়েছে।
অন্য অধ্যায়ে হযরত আনাস ইবন মালিক (রা) থেকে বর্ণিত আরেকটি হাদীস আসবে ইনশা আল্লাহ।
التَّرْغِيب فِي الصَّلَاة مُطلقًا وَفضل الرُّكُوع وَالسُّجُود والخشوع
576 - وَعَن عَاصِم بن سُفْيَان الثَّقَفِيّ رَضِي الله عَنهُ أَنهم غزوا غَزْوَة السلَاسِل ففاتهم الْغَزْو فرابطوا ثمَّ رجعُوا إِلَى مُعَاوِيَة وَعِنْده أَبُو أَيُّوب وَعقبَة بن عَامر فَقَالَ عَاصِم يَا أَبَا أَيُّوب فاتنا الْغَزْو الْعَام وَقد أخبرنَا أَنه من صلى فِي الْمَسَاجِد الْأَرْبَعَة غفر لَهُ ذَنبه فَقَالَ يَا بن أخي أَلا أدلك على أيسر من ذَلِك إِنِّي سَمِعت رَسُول الله صلى الله عَلَيْهِ وَسلم يَقُول من تَوَضَّأ كَمَا أَمر وَصلى كَمَا أَمر غفر لَهُ مَا قدم من عمل كَذَلِك يَا عقبَة قَالَ نعم
رَوَاهُ النَّسَائِيّ وَابْن مَاجَه وَابْن حبَان فِي صَحِيحه وَتقدم فِي الْوضُوء حَدِيث عَمْرو بن عبسة وَفِي آخِره فَإِن هُوَ قَامَ فَحَمدَ الله وَأثْنى عَلَيْهِ ومجده بِالَّذِي هُوَ لَهُ أهل وَفرغ قلبه لله تَعَالَى إِلَّا انْصَرف من خطيئته كَيَوْم وَلدته أمه
رَوَاهُ مُسلم وَتقدم فِي الْبَاب قبله حَدِيث عُثْمَان وَفِيه سَمِعت رَسُول الله صلى الله عَلَيْهِ وَسلم يَقُول مَا من امرىء مُسلم تحضره صَلَاة مَكْتُوبَة فَيحسن وضوءها وخشوعها وركوعها إِلَّا كَانَت كَفَّارَة لما قبلهَا من الذُّنُوب مَا لم يُؤْت كَبِيرَة وَكَذَلِكَ الدَّهْر كُله
رَوَاهُ مُسلم وَتقدم أَيْضا حَدِيث عبَادَة سَمِعت رَسُول الله صلى الله عَلَيْهِ وَسلم يَقُول خمس صلوَات افترضهن الله من أحسن وضوءهن وصلاهن لوقتهن وَأتم ركوعهن وسجودهن وخشوعهن كَانَ لَهُ على الله عهد أَن يغْفر لَهُ
وَيَأْتِي فِي الْبَاب بعده حَدِيث أنس إِن شَاءَ الله تَعَالَى
tahqiqতাহকীক:তাহকীক চলমান
আত্-তারগীব ওয়াত্-তারহীব - হাদীস নং ৫৭৬ | মুসলিম বাংলা