আত্-তারগীব ওয়াত্-তারহীব- ইমাম মুনযিরী রহঃ

৫. অধ্যায়ঃ নামাজ

হাদীস নং: ৫৪৯
অধ্যায়ঃ নামাজ
পাঁচ ওয়াক্ত সালাতের সংরক্ষণ এবং ঈমানের অপরিহার্যতার প্রতি অনুপ্রেরণা এ সম্পর্কে হযরত ইবন উমর (রা)-এর হাদীস এবং অপরাপর হাদীস
৫৪৯. আবু দাউদ শরীফে বর্ণিত আছে যে, আমি রাসূলুল্লাহ (সা) কে বলতে শুনেছিঃ আল্লাহ তা'আলা পাঁচ ওয়াক্ত সালাত ফরয করেছেন। কাজেই যে উত্তমরূপে উযূ করবে, যথাসময়ে সালাত আদায় করবে এবং তাতে রুকু-সিজদা পূর্ণরূপে আদায় করবে এবং সালাতে পূর্ণ আল্লাহ-ভীতি থাকবে, তাকে ক্ষমা করার ব্যাপারে রয়েছে আল্লাহর অঙ্গীকার। আর যে তা করবে না, তার সাথে আল্লাহর কোন চুক্তি নেই। চাইলে তিনি তাকে ক্ষমা করবেন, নতুবা তাকে চাইলে শাস্তি দেবেন।
كتاب الصَّلَاة
التَّرْغِيب فِي الصَّلَوَات الْخمس والمحافظة عَلَيْهَا وَالْإِيمَان بِوُجُوبِهَا فِيهِ حَدِيث ابْن عمر وَغَيره
549 - وَفِي رِوَايَة لابي دَاوُد سَمِعت رَسُول الله صلى الله عَلَيْهِ وَسلم يَقُول خمس صلوَات افترضهن الله من أحسن وضوءهن وصلاهن لوقتهن وَأتم ركوعهن وسجودهن وخشوعهن كَانَ لَهُ على الله عهد أَن يغْفر لَهُ وَمن لم يفعل فَلَيْسَ على الله عهد إِن شَاءَ غفر لَهُ وَإِن شَاءَ عذبه

হাদীসের ব্যাখ্যা:

যে মু'মিন ব্যক্তি পূর্ণ গুরুত্ব ও একাগ্রতার সাথে উত্তমরূপে সালাত আদায় করবে সে প্রথমতঃ নিজকে পাপমুক্ত রাখল। এরপরেও যদি সে শয়তানের প্ররোচনায় পড়ে অথবা নফসের ধোঁকায় পড়ে কখনো শাস্তিযোগ্য পাপ করে, তথাপিও সালাতের বরকতে তাকে তাওবা ও ক্ষমার তাওফীক দেওয়া হবে (বাস্তবে এমন বহু ঘটনা ঘটতে দেয়া যায়)। এতদ্ব্যতীত সালাত তার পাপের কাফ্ফারা ও প্রতিবিধান হয়ে যাবে। এছাড়াও সালাত অপরাপর পাপের ময়লা পরিষ্কার করে বান্দাকে আল্লাহর বিশেষ রহমতের হকদার বানায়। কারণ সালাত এমন ইবাদত যাতে ফিরিশতারা ঈর্ষাবোধ করেন। সুতরাং যে লোক যাবতীয় শর্ত, নিয়ম কানুন পূর্ণ গুরুত্ব ভীতি ও একাগ্রতার সাথে সালাত করবে তার জন্য ক্ষমা প্রাপ্তির নিশ্চয়তা রয়েছে। পক্ষান্তরে যে ব্যক্তি মুসলিম হওয়ার দাবিদার অথচ সালাতের ব্যাপারে অসচেতন, তার ব্যাপারে আল্লাহ্ ইচ্ছা করলে তাকে শাস্তি দিবেন অথবা নিজ করুণায় ক্ষমা দিবেন। তবে সে ব্যক্তি নিঃসন্দেহে ভয়াবহ বিপদের সম্মুখীন হবে এবং তার মুক্তি পাবার কোন নিশ্চয়তা নেই।
ব্যাখ্যা সূত্রঃ_ মা'আরিফুল হাদীস (মাওলানা মনযূর নোমানী রহ.)
tahqiqতাহকীক:তাহকীক চলমান