আত্-তারগীব ওয়াত্-তারহীব- ইমাম মুনযিরী রহঃ
৩. অধ্যায়ঃ ইলেম
হাদীস নং: ২২২
অধ্যায়ঃ ইলেম
ইলম শিখে সে অনুযায়ী আমল না করা এবং যা বলা হয় তা না করার পরিণতি সম্পর্কে ভীতি প্রদর্শন
২২২. হযরত আবূ হুরায়রা (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা) বলেছেন: কিয়ামতের দিন সর্বাধিক কঠিন শাস্তি হবে ঐ ব্যক্তির, যে তার নিজ ইলম দ্বারা উপকৃত হতে পারেনি।
(ইমাম তাবারানী তাঁর 'সগীর' গ্রন্থে এবং বায়হাকী হাদীসটি রিওয়ায়াত করেছেন।)
(ইমাম তাবারানী তাঁর 'সগীর' গ্রন্থে এবং বায়হাকী হাদীসটি রিওয়ায়াত করেছেন।)
كتاب الْعلم
التَّرْهِيب من أَن يعلم وَلَا يعْمل بِعِلْمِهِ وَيَقُول وَلَا يَفْعَله
222 - وَرُوِيَ عَن أبي هُرَيْرَة رَضِي الله عَنهُ قَالَ قَالَ رَسُول الله صلى الله عَلَيْهِ وَسلم أَشد النَّاس عذَابا يَوْم الْقِيَامَة عَالم لم يَنْفَعهُ علمه رَوَاهُ الطَّبَرَانِيّ فِي الصَّغِير وَالْبَيْهَقِيّ
হাদীসের ব্যাখ্যা:
কতক গুনাহ এরূপ, মু'মিন কাফির নির্বিশেষে সবাই যাকে ভয়ানক শক্ত অপরাধ ও কঠিন শাস্তির অপরিহার্য বিষয় মনে করে থাকে। যেমন-ডাকাতি, অন্যায় হত্যা, ধর্ষণ, চুরি, ঘুষ, এতীম, বিধবা ও দুর্বলের ওপর অত্যাচার, তাদের অধিকার গ্রাসের ন্যায় যুলুম জাতীয় গুনাহ্। কিন্তু অনেক গুনাহ এরূপ, যেগুলো সাধারণ মনুষ্যদৃষ্টি তেমন মারাত্মক ও ভয়াবহ মনে করে না। অথচ আল্লাহর নিকট এবং প্রকৃতপক্ষে সেগুলো ঐ কবীরা ও অশ্লীলতার ন্যায়ই অথবা সেগুলো থেকেও অধিক শক্ত ও ভয়াবহ। শিরক ও কুফর এরূপ গুনাহই। আর দীনী ইলম (যা নবুওতের উত্তরাধিকার) দীনী উদ্দেশ্য ছাড়া পার্থিব উদ্দেশ্যে শিক্ষা করা ও দুনিয়া অর্জনের অবলম্বন বানানো, এভাবে নিজের কর্ম জীবনকে এর অনুগত না করা এবং এর বিপরীত জীবন যাপন করা এটাও সেগুলোর অন্তর্ভুক্ত। প্রথম প্রকার গুনাহসমূহের মধ্যে সৃষ্টির প্রতি সৃষ্টির অত্যাচার হয়ে থাকে। এজন্য আল্লাহর পরিচয়হীন কাফিরও তা অনুভব করে থাকে। আর এটাকে অত্যাচার ও পাপ মনে করে। কিন্তু অন্য প্রকার গুনাহ, আল্লাহ্ ও রাসূল এবং তাঁদের হিদায়াত, শরী'আত ও পবিত্র ইলমের দাবি নষ্ট করা। এগুলো এক প্রকার যুলুম। এর ভয়াবহতা সেই বান্দাগণই অনুভব করতে সক্ষম যাদের হৃদয় আল্লাহ ও রাসূল, দীন ও শরী'আত এবং ইলমের মর্যাদার সাথে পরিচিত।
প্রকৃতপক্ষে দীনী ইলমকে আল্লাহর সন্তুষ্টি ও আখিরাতের পুরস্কারের পরিবর্তে পার্থিব উদ্দেশ্যে শিক্ষা করা ও তা দুনিয়া অর্জনের অবলম্বন বানানো, অনুরূপভাবে নিজে এর বিপরীত জীবন যাপন করা, শিরক, কুফর ও নিফাকের অন্তর্ভুক্ত গুনাহ। এজন্য এর শাস্তি তাই যা হাদীসসমূহে বর্ণনা করা হয়েছে। অর্থাৎ জান্নাতের সুগন্ধি থেকে বঞ্চিত থাকা ও জাহান্নামের শাস্তিতে পতিত হওয়া। আল্লাহ তা'আলা দীনী ইলম বহনকারীদের তাওফীক দিন যেন রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর বাণীসমূহ ও সতর্কতা সবর্দা তাদের দৃষ্টিতে থাকে।
প্রকৃতপক্ষে দীনী ইলমকে আল্লাহর সন্তুষ্টি ও আখিরাতের পুরস্কারের পরিবর্তে পার্থিব উদ্দেশ্যে শিক্ষা করা ও তা দুনিয়া অর্জনের অবলম্বন বানানো, অনুরূপভাবে নিজে এর বিপরীত জীবন যাপন করা, শিরক, কুফর ও নিফাকের অন্তর্ভুক্ত গুনাহ। এজন্য এর শাস্তি তাই যা হাদীসসমূহে বর্ণনা করা হয়েছে। অর্থাৎ জান্নাতের সুগন্ধি থেকে বঞ্চিত থাকা ও জাহান্নামের শাস্তিতে পতিত হওয়া। আল্লাহ তা'আলা দীনী ইলম বহনকারীদের তাওফীক দিন যেন রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর বাণীসমূহ ও সতর্কতা সবর্দা তাদের দৃষ্টিতে থাকে।
ব্যাখ্যা সূত্রঃ_ মা'আরিফুল হাদীস (মাওলানা মনযূর নোমানী রহ.)