আত্-তারগীব ওয়াত্-তারহীব- ইমাম মুনযিরী রহঃ
২. কুরআন-সুন্নাহর অনুসরণ
হাদীস নং: ৬৬
কুরআন-সুন্নাহর অনুসরণ
কুরআন সুন্নাহর অনুসরণের প্রতি অনুপ্রেরণা
৬৬. হযরত ইব্ন আব্বাস (রা) থেকেই বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ (সা) বিদায় হজ্জে লোকদের উদ্দেশ্যে ভাষণ দেন। তিনি বললেন, তোমাদের ভূখন্ডে শয়তান তার ইবাদত থেকে নিরাশ হয়ে গেছে। কিন্তু তোমাদের ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র আমলের ব্যাপারে সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছে, যেগুলোকে তোমরা খুবই তুচ্ছ মনে কর। কাজেই তোমরা সতর্কতা অবলম্বন কর। আমি তোমাদের জন্য এমন বস্তু রেখে যাচ্ছি তোমরা যদি তা কঠোরভাবে আঁকড়ে ধর,
তাহলে কখনো পথভ্রষ্ট হবে না: কিতাবুল্লাহ ও তাঁর রাসূলের সুন্নাহ। হাদীসের শেষ পর্যন্ত।
(হাদীসটি ইমাম হাকিম রিওয়ায়াত করেছেন। তিনি বলেন, এ হাদীসটি সহীহ সনদে বর্ণিত। ইমাম বুখারী (র) ইকরামা (র) বর্ণিত রিওয়ায়াত দলীল হিসেবে গ্রহণ করেছেন, আর ইমাম মুসলিম (র) আবূ উয়ায়স (র) বর্ণিত রিওয়ায়াতটিকে দলীল হিসেবে গ্রহণ করেছেন। হাদীসটি মূলত সহীহ।)
তাহলে কখনো পথভ্রষ্ট হবে না: কিতাবুল্লাহ ও তাঁর রাসূলের সুন্নাহ। হাদীসের শেষ পর্যন্ত।
(হাদীসটি ইমাম হাকিম রিওয়ায়াত করেছেন। তিনি বলেন, এ হাদীসটি সহীহ সনদে বর্ণিত। ইমাম বুখারী (র) ইকরামা (র) বর্ণিত রিওয়ায়াত দলীল হিসেবে গ্রহণ করেছেন, আর ইমাম মুসলিম (র) আবূ উয়ায়স (র) বর্ণিত রিওয়ায়াতটিকে দলীল হিসেবে গ্রহণ করেছেন। হাদীসটি মূলত সহীহ।)
كتاب السنة
التَّرْغِيب فِي اتِّبَاع الْكتاب وَالسّنة
66 - وَعنهُ أَيْضا أَن رَسُول الله صلى الله عَلَيْهِ وَسلم خطب النَّاس فِي حجَّة الْوَدَاع فَقَالَ إِن الشَّيْطَان قد يئس أَن يعبد بأرضكم وَلَكِن رَضِي أَن يطاع فِيمَا سوى ذَلِك مِمَّا تحاقرون من أَعمالكُم فاحذروا إِنِّي قد تركت فِيكُم مَا إِن اعْتَصَمْتُمْ بِهِ فَلَنْ تضلوا أبدا كتاب الله وَسنة نبيه الحَدِيث
رَوَاهُ الْحَاكِم وَقَالَ صَحِيح الْإِسْنَاد
احْتج البُخَارِيّ بِعِكْرِمَةَ وَاحْتج مُسلم بِأبي أويس وَله أصل فِي الصَّحِيح
رَوَاهُ الْحَاكِم وَقَالَ صَحِيح الْإِسْنَاد
احْتج البُخَارِيّ بِعِكْرِمَةَ وَاحْتج مُسلم بِأبي أويس وَله أصل فِي الصَّحِيح
হাদীসের ব্যাখ্যা:
হাদীসের দাবি হচ্ছে, আমার পর আমার আনীত আল্লাহর কিতাব ও আমার সুন্নাত আমার স্থলবর্তী হবে। উম্মত যতক্ষণ পর্যন্ত উভয়টিকে শক্তভাবে আঁকড়ে থাকবে, গোমরাহী থেকে নিরাপদ এবং হিদায়াতের পথে দৃঢ় থাকবে।
এ ধারাবাহিকতায় মা'আরিফুল হাদীসে এ কথা বারংবার উল্লেখ করা হয়েছে যে, কোন তাবিঈ কিংবা তাবে-তাবিঈ তাঁর পূর্ববর্তী রাবীর নামোল্লেখ না করে সরাসরি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর কোন হাদীস বর্ণনা করাকে মুহাদ্দিসীনের পরিভাষায় 'ইরসাল' বলা হয়। আর এরূপ হাদীসকে 'মুরসাল' বলে।
আলোচ্য হাদীস ইমাম মালিক (রহ) স্বীয় কিতাব মুআত্তায় এরূপই বর্ণনা করেছেন। তিনি স্বয়ং তাবে-তাবিঈনের অন্তর্ভুক্ত। তিনি কোন সাহাবীকে পাননি। হ্যাঁ, তাবিঈনকে পেয়েছেন এবং তাঁদেরই মাধ্যমে তাঁর নিকট হাদীসসমূহ পৌঁছেছে। মধ্যবর্তী বর্ণনাকারীদের উল্লেখ না করে আলোচ্য হাদীস তিনি সরাসরি রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে বর্ণনা করেছেন। তাঁরা তখনই এরূপ করেন, যখন তাঁদের নিকট হাদীসটি বর্ণনা হিসেবে বিশুদ্ধ ও গ্রহণযোগ্য বিবেচিত হয়। তবে হাদীসের অন্যান্য কিতাবে এ বিষয়ই প্রায় একই শব্দাবলিতে রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে পূর্ণ সনদে বর্ণনা করা হয়েছে। কানযুল উম্মালে হযরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা)-এর বর্ণনায় বায়হাকির সুনানের বরাতে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর এ বাণী উদ্ধৃত করা হয়েছে-
يَا أَيُّهَا النَّاسُ إِنِّي تَارِكٌ فِيكُمْ مَا إِنِ اعْتَصَمْتُمْ بِهِ لَنْ تَضِلُّوا أَبَدًا كِتَاب اللَّهِ وَسُنَّة نَبِيِّه -
হে লোক সকল! আমি সেই (হিদায়াতের সামগ্রী) ছেড়ে যাব, এর সাথে যদি তোমরা সম্পৃক্ত থাক তবে কখনো গোমরাহ্ হবে না। তা হল-আল্লাহর কিতাব ও তাঁর নবীর সুন্নাত।১
বস্তুত হযরত আবূ হুরাইরা (রা)-এর বর্ণনায় হাকিমের মুস্তাদরাকের বরাতে এ বিষয়ক কানযুল উম্মালে প্রায় অনুরূপ শব্দাবলিতে বর্ণনা করা হয়েছে।২
১. কানযুল উম্মাল খণ্ড ১ম পৃষ্ঠা-১৮৭।
২. প্রাগুক্ত পৃষ্ঠা-১৭৩।
এ ধারাবাহিকতায় মা'আরিফুল হাদীসে এ কথা বারংবার উল্লেখ করা হয়েছে যে, কোন তাবিঈ কিংবা তাবে-তাবিঈ তাঁর পূর্ববর্তী রাবীর নামোল্লেখ না করে সরাসরি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর কোন হাদীস বর্ণনা করাকে মুহাদ্দিসীনের পরিভাষায় 'ইরসাল' বলা হয়। আর এরূপ হাদীসকে 'মুরসাল' বলে।
আলোচ্য হাদীস ইমাম মালিক (রহ) স্বীয় কিতাব মুআত্তায় এরূপই বর্ণনা করেছেন। তিনি স্বয়ং তাবে-তাবিঈনের অন্তর্ভুক্ত। তিনি কোন সাহাবীকে পাননি। হ্যাঁ, তাবিঈনকে পেয়েছেন এবং তাঁদেরই মাধ্যমে তাঁর নিকট হাদীসসমূহ পৌঁছেছে। মধ্যবর্তী বর্ণনাকারীদের উল্লেখ না করে আলোচ্য হাদীস তিনি সরাসরি রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে বর্ণনা করেছেন। তাঁরা তখনই এরূপ করেন, যখন তাঁদের নিকট হাদীসটি বর্ণনা হিসেবে বিশুদ্ধ ও গ্রহণযোগ্য বিবেচিত হয়। তবে হাদীসের অন্যান্য কিতাবে এ বিষয়ই প্রায় একই শব্দাবলিতে রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে পূর্ণ সনদে বর্ণনা করা হয়েছে। কানযুল উম্মালে হযরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা)-এর বর্ণনায় বায়হাকির সুনানের বরাতে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর এ বাণী উদ্ধৃত করা হয়েছে-
يَا أَيُّهَا النَّاسُ إِنِّي تَارِكٌ فِيكُمْ مَا إِنِ اعْتَصَمْتُمْ بِهِ لَنْ تَضِلُّوا أَبَدًا كِتَاب اللَّهِ وَسُنَّة نَبِيِّه -
হে লোক সকল! আমি সেই (হিদায়াতের সামগ্রী) ছেড়ে যাব, এর সাথে যদি তোমরা সম্পৃক্ত থাক তবে কখনো গোমরাহ্ হবে না। তা হল-আল্লাহর কিতাব ও তাঁর নবীর সুন্নাত।১
বস্তুত হযরত আবূ হুরাইরা (রা)-এর বর্ণনায় হাকিমের মুস্তাদরাকের বরাতে এ বিষয়ক কানযুল উম্মালে প্রায় অনুরূপ শব্দাবলিতে বর্ণনা করা হয়েছে।২
১. কানযুল উম্মাল খণ্ড ১ম পৃষ্ঠা-১৮৭।
২. প্রাগুক্ত পৃষ্ঠা-১৭৩।
ব্যাখ্যা সূত্রঃ_ মা'আরিফুল হাদীস (মাওলানা মনযূর নোমানী রহ.)