কিতাবুস সুনান - ইমাম আবু দাউদ রহঃ

২. নামাযের অধ্যায়

হাদীস নং: ১৩৫৩
আন্তর্জাতিক নং: ১৩৫৩
নামাযের অধ্যায়
৩২১. রাতের (তাহাজ্জুদ) নামায সম্পর্কে।
১৩৫৩. মুহাম্মাদ ইবনে ঈসা (রাহঃ) .... ইবনে আব্বাস (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ একদা তিনি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর সাথে রাত যাপন করেন। অতঃপর তিনি তাঁকে দেখতে পান যে, তিনি রাতে ঘুম থেকে উঠে মিসওয়াক শেষে উযু করে কুরআনের (সূরা আলে ইমরানের) এই আয়াত পাঠ করেছেনঃ নিশ্চয় আসমান ও যমীনের সৃষ্টির মধ্যে ......... সূরার শেষ আয়াত পর্যন্ত। অতঃপর তিনি দণ্ডায়মান হয়ে সুদীর্ঘ কিরা’আত ও রুকূ-সিজদার মাধ্যমে দুই রাক'আত নাময আদায় করে ঘুমিয়ে পড়েন। অতঃপর তিনি এরূপে তিনবার ছয় রাকআত নামায আদায় করেন এবং প্রতি দুই রাকআত নামায আদায়ের পূর্বে তিনি মিসওয়াক করতঃ উযু করার পর এই আয়াতসমূহ পাঠ করেন। অতঃপর তিনি বিতরের নামায আদায় করেন।

রাবী উছমান (রাহঃ) বলেনঃ তিনি বিতরের নামায তিন রাকআত আদায় করতেন। অতঃপর যখন তাঁর নিকট মুয়াযযিন আসতেন তিনি ফজরের নামায আদায়ের জন্য মসজিদে গমন করেন এবং এ দু'আ পাঠ করেনঃ ″হে আল্লাহ! আমার অন্তরে নূর দাও, আমার জবানে নূর দাও, আমার কানে নূর দাও, আমার চোখে নূর দাও, নূর দান করো আমার পিছন ও সম্মুখভাগে এবং আমার উপরে ও নীচে। হে আল্লাহ! আমাকে পর্যাপ্ত নূর দান কর।″
كتاب الصلاة
باب فِي صَلاَةِ اللَّيْلِ
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عِيسَى، حَدَّثَنَا هُشَيْمٌ، أَخْبَرَنَا حُصَيْنٌ، عَنْ حَبِيبِ بْنِ أَبِي ثَابِتٍ، ح وَحَدَّثَنَا عُثْمَانُ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ فُضَيْلٍ، عَنْ حُصَيْنٍ، عَنْ حَبِيبِ بْنِ أَبِي ثَابِتٍ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ عَلِيِّ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَبَّاسٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، : أَنَّهُ رَقَدَ عِنْدَ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فَرَآهُ اسْتَيْقَظَ فَتَسَوَّكَ وَتَوَضَّأَ وَهُوَ يَقُولُ : ( إِنَّ فِي خَلْقِ السَّمَوَاتِ وَالأَرْضِ ) حَتَّى خَتَمَ السُّورَةَ، ثُمَّ قَامَ فَصَلَّى رَكْعَتَيْنِ أَطَالَ فِيهِمَا الْقِيَامَ وَالرُّكُوعَ وَالسُّجُودَ، ثُمَّ إِنَّهُ انْصَرَفَ فَنَامَ حَتَّى نَفَخَ، ثُمَّ فَعَلَ ذَلِكَ ثَلاَثَ مَرَّاتٍ بِسِتِّ رَكَعَاتٍ، كُلُّ ذَلِكَ يَسْتَاكُ ثُمَّ يَتَوَضَّأُ وَيَقْرَأُ هَؤُلاَءِ الآيَاتِ، ثُمَّ أَوْتَرَ - قَالَ عُثْمَانُ : بِثَلاَثِ رَكَعَاتٍ، فَأَتَاهُ الْمُؤَذِّنُ فَخَرَجَ إِلَى الصَّلاَةِ - وَقَالَ ابْنُ عِيسَى : ثُمَّ أَوْتَرَ فَأَتَاهُ بِلاَلٌ فَآذَنَهُ بِالصَّلاَةِ حِينَ طَلَعَ الْفَجْرُ، فَصَلَّى رَكْعَتَىِ الْفَجْرِ ثُمَّ خَرَجَ إِلَى الصَّلاَةِ - ثُمَّ اتَّفَقَا - وَهُوَ يَقُولُ : " اللَّهُمَّ اجْعَلْ فِي قَلْبِي نُورًا، وَاجْعَلْ فِي لِسَانِي نُورًا، وَاجْعَلْ فِي سَمْعِي نُورًا، وَاجْعَلْ فِي بَصَرِي نُورًا، وَاجْعَلْ خَلْفِي نُورًا، وَأَمَامِي نُورًا، وَاجْعَلْ مِنْ فَوْقِي نُورًا، وَمِنْ تَحْتِي نُورًا، اللَّهُمَّ وَأَعْظِمْ لِي نُورًا " .

হাদীসের ব্যাখ্যা:

আলোচ্য হাদীসে দু'আ নূরী সন্নিবেশিত হয়েছে। এটি অত্যন্ত বরকতময় নূরানী দু'আ। এই দু'আর মূল কথা হল এই যে, হে আল্লাহ্! আমার অন্তর, আত্মা, আমার শরীর, শরীরের প্রতিটি অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ শিরা উপশিরায় নূর সৃষ্টি কর এবং আমাকে জ্যোতির্ময় করে দাও। আমার চারিপাশ ও উপর নিচ নূর দ্বারা পূর্ণ কর। কুরআন মাজীদে বলা হয়েছে: اَللهُ نُوْرُ السَّمَوَاتِ وَالْأَرْضِ এই আয়াতকে সামনে রেখে এই দু'আর মূল উদ্দেশ্য দাঁড়ায় এই যে, আমার অস্তিত্ব, আশপাশ তোমার জ্যোতি দ্বারা জ্যোতির্ময় করে দাও। আমার অন্তর-বাহির ও পরিবেশ তোমার রঙ্গে রঙ্গীন করে দাও। কেননা আল্লাহর বাণী- صِبْغَةَ اللَّهِ وَمَنْ أَحْسَنُ مِنَ اللَّهِ صِبْغَةً "আমরা আল্লাহর রঙ গ্রহণ করলাম রঙ্গে আল্লাহ্ অপেক্ষা কে অধিকতর সুন্দর"? (১, সূরা বাকারা: ১৩৮)
ব্যাখ্যা সূত্রঃ_ মা'আরিফুল হাদীস (মাওলানা মনযূর নোমানী রহ.)
tahqiqতাহকীক:বিশুদ্ধ (পারিভাষিক সহীহ)