কিতাবুস সুনান - ইমাম আবু দাউদ রহঃ
২. নামাযের অধ্যায়
হাদীস নং: ৮৮৬
আন্তর্জাতিক নং: ৮৮৬
নামাযের অধ্যায়
১৬০. রুকু ও সিজদায় অবস্থানের পরিমাণ।
৮৮৬. আব্দুল মালিক ইবনে মারওয়ান (রাহঃ) .... আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন: যখন তোমাদের কেউ রুকু করবে, তখন সে যেন সেখানে “সুবহানা রবিয়াল আযীম” তিনবার পাঠ করে এবং এটাই সর্বনিম্ন পরিমাণ, এবং যখন সিজদা করবে, তখন সেখানে “সুবহানা রবি-ইয়াল আলা” কমপক্ষে তিনবার পাঠ করবে।
كتاب الصلاة
باب مِقْدَارِ الرُّكُوعِ وَالسُّجُودِ
حَدَّثَنَا عَبْدُ الْمَلِكِ بْنُ مَرْوَانَ الأَهْوَازِيُّ، حَدَّثَنَا أَبُو عَامِرٍ، وَأَبُو دَاوُدَ عَنِ ابْنِ أَبِي ذِئْبٍ، عَنْ إِسْحَاقَ بْنِ يَزِيدَ الْهُذَلِيِّ، عَنْ عَوْنِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مَسْعُودٍ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " إِذَا رَكَعَ أَحَدُكُمْ فَلْيَقُلْ ثَلاَثَ مَرَّاتٍ سُبْحَانَ رَبِّيَ الْعَظِيمِ وَذَلِكَ أَدْنَاهُ وَإِذَا سَجَدَ فَلْيَقُلْ سُبْحَانَ رَبِّيَ الأَعْلَى ثَلاَثًا وَذَلِكَ أَدْنَاهُ " . قَالَ أَبُو دَاوُدَ هَذَا مُرْسَلٌ عَوْنٌ لَمْ يُدْرِكْ عَبْدَ اللَّهِ .
হাদীসের তাখরীজ (সূত্র):
আবু দাউদ (রাহঃ) বলেন, এটা আওন (রাহঃ) এর মুরসাল হাদিস। কারণ তিনি আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রাযিঃ) এর সাক্ষাত পাননি।
হাদীসের ব্যাখ্যা:
এ হাদীসের মর্ম হচ্ছে এই যে, রুকু সিজদায় যদি তিনবারের কম তাসবীহ্ পাঠ করা হয় তাতেও রুকু-সিজদা আদায় হয়ে যাবে। কিন্তু তাতে কিছুটা অপূর্ণতা থেকে যায়, পূর্ণরূপে আদায়ের জন্য কমপক্ষে তিনবার তাসবীহ্ পাঠ করা জরুরী এবং এর চেয়ে বাড়িয়ে বলা আরো ভালো। তবে রুকু-সিজদা এমন দীর্ঘ ইমামের জন্য সমীচীন নয় যা মুক্তাদীদের কষ্টের কারণ হয়। বিশিষ্ট তাবিঈ হযরত সাঈদ ইবনে জুবায়র (র) থেকে ইমাম আবু দাউদ ও নাসায়ী (র) বর্ণনা করেন যে, হযরত আনাস (রা) উমর ইবনে আবদুল আযীয (র) সম্পর্কে বলেছেন: রাসূলুল্লাহ ﷺ এর সালাতের সাথে এই যুবকের সালাতের পূর্ণ সামঞ্জস্য রয়েছে। ইবনে যুবায়র (রা) বলেন, আমরা উমর ইবনে আবদুল আযীযের রুকু-সিজদার তাসবীহর পরিমাণ আন্দায করলাম যে তিনি প্রায় দশবার তসবীহ্ পড়েন। এ ঘটনা থেকে পরিষ্কার জানা যায় যে, রাসূলুল্লাহ ﷺও রুক্ সিজদায় প্রায় দশবার তাসবীহ পাঠ করতেন। এমতাবস্থায় যে ব্যক্তি সালাতে ইমামতি করে সে যেন কমপক্ষে তিনবার এবং বেশির পক্ষে দশবার তাসবীহ্ পাঠ করে।
উল্লিখিত হাদীস থেকে জানা যায় যে, রাসূলুল্লাহ ﷺ রুকূতে 'সুবহানা রাব্বিয়াল আযীম' এবং সিজদায় 'সুবহানা রাব্বিয়াল আলা' পাঠ করার ব্যাপারে উম্মাতকে দিক নির্দেশনা দিয়েছেন এবং তাঁর নিজের আমল এ এরূপই ছিল। অন্যান্য হাদীসে রুকু-সিজদারত অবস্থায় তাসবীহ্'র এ শব্দগুচ্ছের স্থলে অন্যান্য দু'আ ও তাসবীহ্ পাঠ করার বিষয়ও রাসূলুল্লাহ ﷺ থেকে প্রমাণ রয়েছে।
উল্লিখিত হাদীস থেকে জানা যায় যে, রাসূলুল্লাহ ﷺ রুকূতে 'সুবহানা রাব্বিয়াল আযীম' এবং সিজদায় 'সুবহানা রাব্বিয়াল আলা' পাঠ করার ব্যাপারে উম্মাতকে দিক নির্দেশনা দিয়েছেন এবং তাঁর নিজের আমল এ এরূপই ছিল। অন্যান্য হাদীসে রুকু-সিজদারত অবস্থায় তাসবীহ্'র এ শব্দগুচ্ছের স্থলে অন্যান্য দু'আ ও তাসবীহ্ পাঠ করার বিষয়ও রাসূলুল্লাহ ﷺ থেকে প্রমাণ রয়েছে।
ব্যাখ্যা সূত্রঃ_ মা'আরিফুল হাদীস (মাওলানা মনযূর নোমানী রহ.)