আল জামিউস সহীহ- ইমাম বুখারী রহঃ

২১- হজ্জ্বের অধ্যায়

হাদীস নং: ১৫১৬
আন্তর্জাতিক নং: ১৬১২
- হজ্জ্বের অধ্যায়
১০২১. হাজরে আসওয়াদের কাছে পৌঁছে তার দিকে ইশারা করা
১৫১৬। মুহাম্মাদ ইবনে মুসান্না (রাহঃ) ......... ইবনে আব্বাস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী (ﷺ) উটের পিঠে (আরোহণ করে) বায়তুল্লাহ তাওয়াফ করেন, যখনই তিনি হাজরে আসওয়াদের কাছে আসতেন তখনই কোন কিছু দিয়ে তার প্রতি ইশারা করতেন।
كتاب الحج / المناسك
باب مَنْ أَشَارَ إِلَى الرُّكْنِ إِذَا أَتَى عَلَيْهِ
1612 - حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ المُثَنَّى، حَدَّثَنَا عَبْدُ الوَهَّابِ، حَدَّثَنَا خَالِدٌ، عَنْ عِكْرِمَةَ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمَا، قَالَ: «طَافَ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بِالْبَيْتِ عَلَى بَعِيرٍ، كُلَّمَا أَتَى عَلَى الرُّكْنِ أَشَارَ إِلَيْهِ»

হাদীসের ব্যাখ্যা:

কোন কোন হাদীসে রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর তাওয়াফের ব্যাপারে স্পষ্ট বলা হয়েছে, তিনি হাজরে আসওয়াদকে ইসতিলাম করার পর ডান দিকে হেঁটে গেলেন এবং তাওয়াফ শুরু করলেন। এর প্রথম তিন চক্করে রমল করলেন, আর বাকী চার চক্করে স্বাভাবিক গতি অনুসরণ করলেন। এর দ্বারা বুঝা যায় যে, তিনি তাওয়াফ পায়ে হেঁটে করেছিলেন।

আর কোন কোন হাদীসে উটের উপর সওয়ার হয়ে তাওয়াফ করার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। কিন্তু আসলে এ দু'টি বর্ণনায় কোন বিরোধ নেই। রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) বিদায় হজ্বে মক্কায় পৌছার পর প্রথম তাওয়াফটি পায়ে হেঁটে করেছিলেন। তারপর দশই যিলহজ্ব মিনা থেকে মক্কায় এসে যে তাওয়াফটি করেছিলেন, সেটা উটের উপর সওয়ার হয়ে করেছিলেন- যাতে প্রশ্নকারীরা তাঁর কাছে বিভিন্ন প্রশ্ন করতে পারে এবং মাসআলা জেনে নিতে পারে। তাই হুযুর (ﷺ)-এর উটটি যেন সে সময় তাঁর জন্য মিম্বর হিসাবে ব্যবহৃত হচ্ছিল। আর সম্ভবত তিনি নিজের এ আমল দ্বারা একথাও প্রকাশ করতে চেয়েছিলেন যে, বিশেষ অবস্থায় সওয়ারীর উপরও তাওয়াফ করা যায়।
ব্যাখ্যা সূত্রঃ_ মা'আরিফুল হাদীস (মাওলানা মনযূর নোমানী রহ.)
tahqiqতাহকীক:বিশুদ্ধ (পারিভাষিক সহীহ)