কিতাবুস সুনান - ইমাম আবু দাউদ রহঃ
২. নামাযের অধ্যায়
হাদীস নং: ৭২৬
আন্তর্জাতিক নং: ৭২৬
নামাযের অধ্যায়
১২২. রাফউল ইয়াদাইন (নামাযের মধ্যে উভয় হাত উপরে উঠানো)
৭২৬. মুসাদ্দাদ ..... ওয়ায়েল ইবনে হুজর (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি তোমাদেরকে রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর নামায পড়ার নিয়ম দেখাব। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) কিবলামুখী হয়ে দাঁড়িয়ে তাকবীর বলে নিজের উভয় হাত কান পর্যন্ত উত্তোলন করেন। অতঃপর তিনি স্বীয় বাম হাত ডান হাত দিয়ে ধরেন এবং রুকূ করার সময় উভয় হাত ঐরূপ উত্তোলন করেন। অতঃপর তিনি তাঁর দুই হাত দুই হাটুর উপর রাখেন। রুকূ হতে মাথা উঠাবার সময় তিনি উভয় হাত তদ্রূপ উত্তোলন করেন। অতঃপর তিনি সিজদায় স্বীয় মাথা দুই হাতের মধ্যবর্তী স্থানে রাখেন এবং বাম পা বিছিয়ে বসেন। অতঃপর তিনি তাঁর বাম হাত বাম রানের উপর এবং ডান হাত ডান রানের উপর বিচ্ছিন্নভাবে রাখেন। পরে তিনি স্বীয় ডান হাতের কনিষ্ঠ ও অনামিকা অঙ্গুলিদ্বয় আব্দ্ধ করে রাখেন এবং মধ্যমা ও বৃদ্ধাংগুলি বৃত্তাকার করেন এবং শাহাদাত অঙ্গুলি (তর্জনী) দ্বারা ইাশারা করেন।
আমি তাদেরকে এভাবে বলতে দেখেছি। আর বিশর নিজের মধ্যমা ও বৃদ্ধাগুলি দ্বারা বৃত্ত করেন এবং তর্জনী দ্বারা ইশারা করেন।
আমি তাদেরকে এভাবে বলতে দেখেছি। আর বিশর নিজের মধ্যমা ও বৃদ্ধাগুলি দ্বারা বৃত্ত করেন এবং তর্জনী দ্বারা ইশারা করেন।
كتاب الصلاة
باب رَفْعِ الْيَدَيْنِ فِي الصَّلاَةِ
حَدَّثَنَا مُسَدَّدٌ، حَدَّثَنَا بِشْرُ بْنُ الْمُفَضَّلِ، عَنْ عَاصِمِ بْنِ كُلَيْبٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ وَائِلِ بْنِ حُجْرٍ، قَالَ قُلْتُ لأَنْظُرَنَّ إِلَى صَلاَةِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم كَيْفَ يُصَلِّي قَالَ فَقَامَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَاسْتَقْبَلَ الْقِبْلَةَ فَكَبَّرَ فَرَفَعَ يَدَيْهِ حَتَّى حَاذَتَا أُذُنَيْهِ ثُمَّ أَخَذَ شِمَالَهُ بِيَمِينِهِ فَلَمَّا أَرَادَ أَنْ يَرْكَعَ رَفَعَهُمَا مِثْلَ ذَلِكَ ثُمَّ وَضَعَ يَدَيْهِ عَلَى رُكْبَتَيْهِ فَلَمَّا رَفَعَ رَأْسَهُ مِنَ الرُّكُوعِ رَفَعَهُمَا مِثْلَ ذَلِكَ فَلَمَّا سَجَدَ وَضَعَ رَأْسَهُ بِذَلِكَ الْمَنْزِلِ مِنْ بَيْنِ يَدَيْهِ ثُمَّ جَلَسَ فَافْتَرَشَ رِجْلَهُ الْيُسْرَى وَوَضَعَ يَدَهُ الْيُسْرَى عَلَى فَخِذِهِ الْيُسْرَى وَحَدَّ مِرْفَقَهُ الأَيْمَنَ عَلَى فَخِذِهِ الْيُمْنَى وَقَبَضَ ثِنْتَيْنِ وَحَلَّقَ حَلْقَةً وَرَأَيْتُهُ يَقُولُ هَكَذَا . وَحَلَّقَ بِشْرٌ الإِبْهَامَ وَالْوُسْطَى وَأَشَارَ بِالسَّبَّابَةِ .
হাদীসের ব্যাখ্যা:
বৈঠকে কালেমা শাহাদাত পাঠের পর তর্জনী উঠানো এবং ইশারা করার বিষয়টি শুধু হযরত আবদুল্লাহ্ ইবনে উমর (রা) থেকে নয় বরং অপরাপর সাহাবী সূত্রেও বর্ণিত আছে। নিঃসন্দেহে রাসূলুল্লাহ ﷺ তা করেছেন বলে প্রমাণিত। এর দ্বারা বাহ্যিক উদ্দেশ্য হচ্ছে মুসল্লী যখন 'আশহাদু আল লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ্' (আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি, আল্লাহ্ ব্যতীত কোন ইলাহ্ নেই) পাঠ করে, আল্লাহর অদ্বিতীয় একক সত্তার সাক্ষ্য দেয় তখন তার অন্তরে যে প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয় এবং সুদৃঢ় বিশ্বাস জন্মে তখন তার একটি বিশেষ আঙ্গুল উচিয়ে শরীর দিয়েও সাক্ষ্য দেয়। হযরত আবদুল্লাহ্ ইবনে উমর (রা) বর্ণিত এ হাদীসের অন্যান্য সূত্রে এটুকু অতিরিক্ত রয়েছে যে তর্জনী উঠানোর সাথে সাথে চোখ দ্বারাও ইশারা করতেন وأتبعها بصره উক্ত ইশারার ব্যাপারে স্বয়ং হযরত আবদুল্লাহ ইবনে উমর (রা) নবী কারীম ﷺ এর নিম্নোক্ত বাণী উল্লেখ করেন- لهي أشد على الشيطان من الحديد "আঙ্গুল দ্বারা ইশারা লোহা দ্বারা (ধারাল ছুরি বা তলোয়ারের আঘাত) অপেক্ষাও শয়তানের কাছে অধিক ভয়াবহ।" (মুসনাদে আহমাদের বরাতে মিশকাত)
ব্যাখ্যা সূত্রঃ_ মা'আরিফুল হাদীস (মাওলানা মনযূর নোমানী রহ.)
বর্ণনাকারী: