কিতাবুস সুনান - ইমাম আবু দাউদ রহঃ
১. পাক-পবিত্রতার অধ্যায়
হাদীস নং: ২৮৬
আন্তর্জাতিক নং: ২৮৬
পাক-পবিত্রতার অধ্যায়
১০৯. রক্ত প্রদরের রোগিণীর হায়যের সময় শুরু হলে নামায ত্যাগ করবে।
২৮৬. মুহাম্মাদ ইবনুল মুছান্না .... ফাতিমা বিনতে আবু হুবায়েশ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, তিনি ইস্তেহাযাগ্রস্ত হওয়ায় নবী সাল্লালাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাকে বলেন, হায়যের রক্ত হল কালে রংয়ের। কাজেই যখন রক্তপ্রবাহের সময় কালো রং দেখা দিবে- তখন নামায ত্যাগ করবে এবং যখন কালো-ছাড়া অন্য রং দেখা দিবে, তখন থেকে উযু করে নামায আদায় করবে। কেননা এটা বিশেয শিরা হতে নির্গত রক্ত।
كتاب الطهارة
باب مَنْ قَالَ إِذَا أَقْبَلَتِ الْحَيْضَةُ تَدَعُ الصَّلاَةَ
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْمُثَنَّى، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ أَبِي عَدِيٍّ، عَنْ مُحَمَّدٍ، - يَعْنِي ابْنَ عَمْرٍو - قَالَ حَدَّثَنِي ابْنُ شِهَابٍ، عَنْ عُرْوَةَ بْنِ الزُّبَيْرِ، عَنْ فَاطِمَةَ بِنْتِ أَبِي حُبَيْشٍ، أَنَّهَا كَانَتْ تُسْتَحَاضُ فَقَالَ لَهَا النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم " إِذَا كَانَ دَمُ الْحَيْضَةِ فَإِنَّهُ دَمٌ أَسْوَدُ يُعْرَفُ فَإِذَا كَانَ ذَلِكَ فَأَمْسِكِي عَنِ الصَّلاَةِ فَإِذَا كَانَ الآخَرُ فَتَوَضَّئِي وَصَلِّي فَإِنَّمَا هُوَ عِرْقٌ " .
قَالَ أَبُو دَاوُدَ قَالَ ابْنُ الْمُثَنَّى حَدَّثَنَا بِهِ ابْنُ أَبِي عَدِيٍّ مِنْ كِتَابِهِ هَكَذَا ثُمَّ حَدَّثَنَا بِهِ بَعْدُ حِفْظًا قَالَ حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَمْرٍو عَنِ الزُّهْرِيِّ عَنْ عُرْوَةَ عَنْ عَائِشَةَ أَنَّ فَاطِمَةَ كَانَتْ تُسْتَحَاضُ . فَذَكَرَ مَعْنَاهُ .
قَالَ أَبُو دَاوُدَ وَقَدْ رَوَى أَنَسُ بْنُ سِيرِينَ عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ فِي الْمُسْتَحَاضَةِ قَالَ إِذَا رَأَتِ الدَّمَ الْبَحْرَانِيَّ فَلاَ تُصَلِّي وَإِذَا رَأَتِ الطُّهْرَ وَلَوْ سَاعَةً فَلْتَغْتَسِلْ وَتُصَلِّي .
وَقَالَ مَكْحُولٌ إِنَّ النِّسَاءَ لاَ تَخْفَى عَلَيْهِنَّ الْحَيْضَةُ إِنَّ دَمَهَا أَسْوَدُ غَلِيظٌ فَإِذَا ذَهَبَ ذَلِكَ وَصَارَتْ صُفْرَةً رَقِيقَةً فَإِنَّهَا مُسْتَحَاضَةٌ فَلْتَغْتَسِلْ وَلْتُصَلِّي .
قَالَ أَبُو دَاوُدَ وَرَوَى حَمَّادُ بْنُ زَيْدٍ عَنْ يَحْيَى بْنِ سَعِيدٍ عَنِ الْقَعْقَاعِ بْنِ حَكِيمٍ عَنْ سَعِيدِ بْنِ الْمُسَيَّبِ فِي الْمُسْتَحَاضَةِ إِذَا أَقْبَلَتِ الْحَيْضَةُ تَرَكَتِ الصَّلاَةَ وَإِذَا أَدْبَرَتِ اغْتَسَلَتْ وَصَلَّتْ .
وَرَوَى سُمَىٌّ وَغَيْرُهُ عَنْ سَعِيدِ بْنِ الْمُسَيَّبِ تَجْلِسُ أَيَّامَ أَقْرَائِهَا .
وَكَذَلِكَ رَوَاهُ حَمَّادُ بْنُ سَلَمَةَ عَنْ يَحْيَى بْنِ سَعِيدٍ عَنْ سَعِيدِ بْنِ الْمُسَيَّبِ . قَالَ أَبُو دَاوُدَ وَرَوَى يُونُسُ عَنِ الْحَسَنِ الْحَائِضُ إِذَا مَدَّ بِهَا الدَّمُ تُمْسِكُ بَعْدَ حَيْضَتِهَا يَوْمًا أَوْ يَوْمَيْنِ فَهِيَ مُسْتَحَاضَةٌ . وَقَالَ التَّيْمِيُّ عَنْ قَتَادَةَ إِذَا زَادَ عَلَى أَيَّامِ حَيْضِهَا خَمْسَةُ أَيَّامٍ فَلْتُصَلِّي . قَالَ التَّيْمِيُّ فَجَعَلْتُ أَنْقُصُ حَتَّى بَلَغْتُ يَوْمَيْنِ فَقَالَ إِذَا كَانَ يَوْمَيْنِ فَهُوَ مِنْ حَيْضِهَا . وَسُئِلَ ابْنُ سِيرِينَ عَنْهُ فَقَالَ النِّسَاءُ أَعْلَمُ بِذَلِكَ .
قَالَ أَبُو دَاوُدَ قَالَ ابْنُ الْمُثَنَّى حَدَّثَنَا بِهِ ابْنُ أَبِي عَدِيٍّ مِنْ كِتَابِهِ هَكَذَا ثُمَّ حَدَّثَنَا بِهِ بَعْدُ حِفْظًا قَالَ حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَمْرٍو عَنِ الزُّهْرِيِّ عَنْ عُرْوَةَ عَنْ عَائِشَةَ أَنَّ فَاطِمَةَ كَانَتْ تُسْتَحَاضُ . فَذَكَرَ مَعْنَاهُ .
قَالَ أَبُو دَاوُدَ وَقَدْ رَوَى أَنَسُ بْنُ سِيرِينَ عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ فِي الْمُسْتَحَاضَةِ قَالَ إِذَا رَأَتِ الدَّمَ الْبَحْرَانِيَّ فَلاَ تُصَلِّي وَإِذَا رَأَتِ الطُّهْرَ وَلَوْ سَاعَةً فَلْتَغْتَسِلْ وَتُصَلِّي .
وَقَالَ مَكْحُولٌ إِنَّ النِّسَاءَ لاَ تَخْفَى عَلَيْهِنَّ الْحَيْضَةُ إِنَّ دَمَهَا أَسْوَدُ غَلِيظٌ فَإِذَا ذَهَبَ ذَلِكَ وَصَارَتْ صُفْرَةً رَقِيقَةً فَإِنَّهَا مُسْتَحَاضَةٌ فَلْتَغْتَسِلْ وَلْتُصَلِّي .
قَالَ أَبُو دَاوُدَ وَرَوَى حَمَّادُ بْنُ زَيْدٍ عَنْ يَحْيَى بْنِ سَعِيدٍ عَنِ الْقَعْقَاعِ بْنِ حَكِيمٍ عَنْ سَعِيدِ بْنِ الْمُسَيَّبِ فِي الْمُسْتَحَاضَةِ إِذَا أَقْبَلَتِ الْحَيْضَةُ تَرَكَتِ الصَّلاَةَ وَإِذَا أَدْبَرَتِ اغْتَسَلَتْ وَصَلَّتْ .
وَرَوَى سُمَىٌّ وَغَيْرُهُ عَنْ سَعِيدِ بْنِ الْمُسَيَّبِ تَجْلِسُ أَيَّامَ أَقْرَائِهَا .
وَكَذَلِكَ رَوَاهُ حَمَّادُ بْنُ سَلَمَةَ عَنْ يَحْيَى بْنِ سَعِيدٍ عَنْ سَعِيدِ بْنِ الْمُسَيَّبِ . قَالَ أَبُو دَاوُدَ وَرَوَى يُونُسُ عَنِ الْحَسَنِ الْحَائِضُ إِذَا مَدَّ بِهَا الدَّمُ تُمْسِكُ بَعْدَ حَيْضَتِهَا يَوْمًا أَوْ يَوْمَيْنِ فَهِيَ مُسْتَحَاضَةٌ . وَقَالَ التَّيْمِيُّ عَنْ قَتَادَةَ إِذَا زَادَ عَلَى أَيَّامِ حَيْضِهَا خَمْسَةُ أَيَّامٍ فَلْتُصَلِّي . قَالَ التَّيْمِيُّ فَجَعَلْتُ أَنْقُصُ حَتَّى بَلَغْتُ يَوْمَيْنِ فَقَالَ إِذَا كَانَ يَوْمَيْنِ فَهُوَ مِنْ حَيْضِهَا . وَسُئِلَ ابْنُ سِيرِينَ عَنْهُ فَقَالَ النِّسَاءُ أَعْلَمُ بِذَلِكَ .
হাদীসের তাখরীজ (সূত্র):
আবু দাউদ (রাহঃ) বলেন, ইবনুল মুছান্না বলেছেন, ইবনে আবু আদী প্রথমে তাঁর কিতাব থেকে আমাদের নিকট অনুরূপ বর্ণনা করেছেন। পরে তিনি তাঁর স্মৃতি থেকেও আমাদের নিকট একইরূপ বর্ণনা করেছেন যে, মুহাম্মাদ ইবনে আমর ... আয়িশা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। ফাতিমা বিনতে কায়েস (রাযিঃ) ইস্তেহাযাগ্রস্ত হন ... অবশিষ্ট বর্ণনা পূর্ববৎ।
আনাস ইবনে সিরীন ... ইবনে আব্বাস (রাযিঃ) হতে ইস্তেহাযাগ্রস্ত মহিলা সম্পর্কে এরূপ উল্লেখ আছে যে, তিনি বলেন, যখন মহিলাদের ঋতুস্রাবের পরিমাণ খুবই বেশী ও গাঢ় হবে, তখন নামায ত্যাগ করবে এবং যখন পবিত্র অবস্থা দেখা যাবে, যদিও তা অল্প সময়ের জন্যও হয়, তখন গোসল করে নামায পড়তে হব।
মাকহূল (রাহঃ) বলেন, হায়েয সম্পর্কে স্ত্রীলোকদের কিছুই অজানা নেই। হায়েযের রক্ত গাঢ় (কৃষ্ণ বর্ণের) হয়ে থাকে। অতঃপর উক্ত রং পরিবর্তিত হয়ে যখন পাতলা হলুদ বর্ণ ধারণ করে- তখন বুঝতে হবে যে, সে ইস্তেহাযাগ্রস্ত। কাজেই তাকে গোসল করে নামায আদায় করতে হবে।
হাম্মাদ ইবনে যায়েদ ... সাঈদ ইবনুল মুসাইয়্যাব (রাহঃ) হতে ইস্তেহাযাগ্রস্ত মহিলাদের সম্পর্কে বর্ণিত আছে যে, যখন তাদের নির্ধারিত দিনে হায়েযের রক্ত দেখা দিবে; তখন তারা নামায পরিহার করবে। অতঃপর তা যখন বিদুরিত হবে তখন গোসল করে নামায আদায় করবে।
সুমাই প্রমুখ সাঈদ ইবনুল মূসাইয়্যাব থেকে বর্ণনা করেছেন যে, সে হায়েযের কয়েকদিন নামায থেকে বিরত থাকবে। হাম্মাদ ইবনে সালামা (রাহঃ) ইয়াহ্ইয়া ইবনে সাঈদের সূত্রে সাঈদ ইবনুল মূসাইয়্যাবের অনুরূপ মত বর্ণনা করেছেন।
আবু দাউদ বলেন, ইউনুস (রাহঃ) আল-হাসানের সূত্রে বর্ণনা করেন যে, হায়েযগ্রস্ত মহিলার রক্তসাব অধিক দিন অব্যাহত থাকলে সে হায়েযের জন্য নির্ধারিত সময়সীমার পর এক বা দুই দিন নামায থেকে বিরত থাকবে। এরপর সে রক্তপ্রদরের রোগিণী গণ্য হবে। আত-তায়মী (রাহঃ) কাতাদার সূত্রে বলেন, হায়েযের সময়কালের পরে পাঁচ দিন অতিবাহিত হওয়ার পর সে নিয়মিত নামায পড়তে থাকবে।
আত-তায়মী আরও বলেন, আমি তা কমাতে কমাতে দুই দিনে এনেছি। অর্থাৎ (হায়েযের সীমার অতিরিক্ত) দুই দিনও হায়েযের মধ্যে গণ্য হবে।
ইবনে সিরীন (রাহঃ)-কে এ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বলেন, এ ব্যাপারে মহিলারাই অধিক অভিজ্ঞ।
আনাস ইবনে সিরীন ... ইবনে আব্বাস (রাযিঃ) হতে ইস্তেহাযাগ্রস্ত মহিলা সম্পর্কে এরূপ উল্লেখ আছে যে, তিনি বলেন, যখন মহিলাদের ঋতুস্রাবের পরিমাণ খুবই বেশী ও গাঢ় হবে, তখন নামায ত্যাগ করবে এবং যখন পবিত্র অবস্থা দেখা যাবে, যদিও তা অল্প সময়ের জন্যও হয়, তখন গোসল করে নামায পড়তে হব।
মাকহূল (রাহঃ) বলেন, হায়েয সম্পর্কে স্ত্রীলোকদের কিছুই অজানা নেই। হায়েযের রক্ত গাঢ় (কৃষ্ণ বর্ণের) হয়ে থাকে। অতঃপর উক্ত রং পরিবর্তিত হয়ে যখন পাতলা হলুদ বর্ণ ধারণ করে- তখন বুঝতে হবে যে, সে ইস্তেহাযাগ্রস্ত। কাজেই তাকে গোসল করে নামায আদায় করতে হবে।
হাম্মাদ ইবনে যায়েদ ... সাঈদ ইবনুল মুসাইয়্যাব (রাহঃ) হতে ইস্তেহাযাগ্রস্ত মহিলাদের সম্পর্কে বর্ণিত আছে যে, যখন তাদের নির্ধারিত দিনে হায়েযের রক্ত দেখা দিবে; তখন তারা নামায পরিহার করবে। অতঃপর তা যখন বিদুরিত হবে তখন গোসল করে নামায আদায় করবে।
সুমাই প্রমুখ সাঈদ ইবনুল মূসাইয়্যাব থেকে বর্ণনা করেছেন যে, সে হায়েযের কয়েকদিন নামায থেকে বিরত থাকবে। হাম্মাদ ইবনে সালামা (রাহঃ) ইয়াহ্ইয়া ইবনে সাঈদের সূত্রে সাঈদ ইবনুল মূসাইয়্যাবের অনুরূপ মত বর্ণনা করেছেন।
আবু দাউদ বলেন, ইউনুস (রাহঃ) আল-হাসানের সূত্রে বর্ণনা করেন যে, হায়েযগ্রস্ত মহিলার রক্তসাব অধিক দিন অব্যাহত থাকলে সে হায়েযের জন্য নির্ধারিত সময়সীমার পর এক বা দুই দিন নামায থেকে বিরত থাকবে। এরপর সে রক্তপ্রদরের রোগিণী গণ্য হবে। আত-তায়মী (রাহঃ) কাতাদার সূত্রে বলেন, হায়েযের সময়কালের পরে পাঁচ দিন অতিবাহিত হওয়ার পর সে নিয়মিত নামায পড়তে থাকবে।
আত-তায়মী আরও বলেন, আমি তা কমাতে কমাতে দুই দিনে এনেছি। অর্থাৎ (হায়েযের সীমার অতিরিক্ত) দুই দিনও হায়েযের মধ্যে গণ্য হবে।
ইবনে সিরীন (রাহঃ)-কে এ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বলেন, এ ব্যাপারে মহিলারাই অধিক অভিজ্ঞ।
হাদীসের ব্যাখ্যা:
হায়েয বা নিফাস ব্যতীত কোন রোগের কারণে মহিলাদের যে রক্ত দেখা যায় তাকে ইস্তিহাযা বলে। এ হাদীসে ইস্তিহাযা রোগে আক্রান্ত মহিলার ব্যাপারে নির্দেশ দেয়া হয়েছে যে, প্রত্যেক ওয়াক্তের জন্য নতুন করে অযু করবে। এ বিধানটি শুধু ইস্তিহাযা রোগে আক্রান্ত মহিলার জন্যই নয়। বরং শরীর হতে সার্বক্ষণিক নাপাক বের হতে থাকা যে কোন মা’জুর তথা রোগাক্রান্ত ব্যক্তির জন্যই এটা প্রযোজ্য হবে। (শামী: ১/৩০৬)
বর্ণনাকারী: