আল জামিউস সহীহ- ইমাম বুখারী রহঃ

১৮- তাহাজ্জুদ - নফল নামাযের অধ্যায়

হাদীস নং: ১১২২
আন্তর্জাতিক নং: ১১৯৬
- তাহাজ্জুদ - নফল নামাযের অধ্যায়
৭৫৫. কবর (রওযা শরীফ) ও (মসজিদে নববীর) মিম্বরের মধ্যবর্তী স্থানের ফযীলত।
১১২২। মুসাদ্দাদ (রাহঃ) ......... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত, নবী (ﷺ) বলেছেনঃ আমার ঘর ও মিম্বরের মধ্যবর্তী স্থান জান্নাতের বাগানসমূহের একটি বাগান আর আমার মিম্বর অবস্থিত (রয়েছে) আমার হাউয (কাউসার)-এর উপর।
كتاب التهجّد
باب فَضْلِ مَا بَيْنَ الْقَبْرِ وَالْمِنْبَرِ
1196 - حَدَّثَنَا مُسَدَّدٌ، عَنْ يَحْيَى، عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ، قَالَ: حَدَّثَنِي خُبَيْبُ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، عَنْ حَفْصِ بْنِ عَاصِمٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ، عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: «مَا بَيْنَ بَيْتِي وَمِنْبَرِي رَوْضَةٌ مِنْ رِيَاضِ الجَنَّةِ، وَمِنْبَرِي عَلَى حَوْضِي»

হাদীসের ব্যাখ্যা:

মসজিদে নববীর যে স্থানটিতে রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর মিম্বর ছিল, যাতে দাঁড়িয়ে তিনি খুতবা দিতেন, (যে স্থানটি এখনও সুপরিচিত।) এ সম্পর্কে তিনি বলেন যে, মিম্বরের এ জায়গা ও হুজরা শরীফের মাঝে যে জায়গাটি রয়েছে, এটি আল্লাহর রহমত ও অনুগ্রহ বর্ষণের বিশেষ স্থান, আর এ কারণে এটা যেন বেহেশতের একটি বাগান। এ জন্য এটা এর দাবীদার যে, আল্লাহর রহমত ও জান্নাত প্রত্যাশীদের এর প্রতি জান্নাতের মতই আকর্ষণ থাকবে। আর এ অর্থও করা যায় যে, আল্লাহর যে বান্দা ঈমান ও ইখলাছের সাথে আল্লাহর রহমত ও জান্নাতের প্রত্যাশা নিয়ে এ জায়গায় এসেছে, সে যেন জান্নাতের একটি বাগানে এসে গিয়েছে এবং আখেরাতে সে নিজেকে জান্নাতের একটি বাগানেই দেখতে পাবে।

হাদীসটির শেষে তিনি বলেছেন, "আমার মিম্বরটি আমার হাউযের উপর।" এর অর্থ বাহ্যত এই যে, আখেরাতে হাউযে কাওছারের উপর আমার একটি মিম্বর থাকবে। আর আমি যেভাবে এ দুনিয়ায় এ মিম্বর থেকে আল্লাহর বান্দাদেরকে তাঁর হেদায়াতের পয়গাম পৌঁছে দিয়ে থাকি, তেমনিভাবে হাউযে কাওছারে স্থাপিত আমার ঐ মিম্বর থেকে হেদায়াত গ্রহণকারী বান্দাদেরকে রহমতের পানি পান করাব। অতএব, যে ব্যক্তি কিয়ামতের দিন আবে কাওছারের প্রত্যাশী হয়ে আছে, সে যেন অগ্রসর হয়ে এ মিম্বর থেকে প্রদত্ত হেদায়াতের পয়গাম কবুল করে নেয় এবং এটাকে নিজের আত্মিক খোরাক বানিয়ে নেয়।
ব্যাখ্যা সূত্রঃ_ মা'আরিফুল হাদীস (মাওলানা মনযূর নোমানী রহ.)
tahqiqতাহকীক:বিশুদ্ধ (পারিভাষিক সহীহ)